বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে উঠে এলো শিশুদের খেলার চিত্র

মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানীর ওপর 'বোমা হামলার' খবরটি ভুয়া; আসলে ছিল শিশুদের পটকা


দ্য ডিসেন্ট
দ্য ডিসেন্ট
প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানীর ওপর 'বোমা হামলার' খবরটি ভুয়া; আসলে ছিল শিশুদের পটকা
Ai Image

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানীকে লক্ষ্য করে বোমা হামলার যে খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে, তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। সরেজমিনে অনুসন্ধান ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এটি ছিল শিশুদের খেলার ছলে ফোটানো সাধারণ 'চকলেট বোমা' বা পটকা। কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে কোনো পরিকল্পিত হামলা চালায়নি।

সোমবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরস্থ ধানমন্ডি রিভার ভিউ মডেল টাউনের ১৩ নম্বর রোডে জসিম উদ্দিন রাহমানীর নির্মাণাধীন বাড়ির সামনে একটি পটকা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে দাবি করা হয়, তাকে লক্ষ্য করে 'বোমা হামলা' হয়েছে এবং তিনি অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। এমনকি কেউ কেউ একজন আহত হওয়ার খবরও প্রচার করেন।

তবে অনুসন্ধানে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বেলা ১১টা ৩৪ মিনিটে রাহমানী যখন লাঠি হাতে হাঁটছিলেন, তখন কালু নামের এক কিশোর তার থেকে প্রায় ২০ ফুট দূরে বালুর স্তূপের ওপর একটি পটকা রেখে তাতে আগুন দেয়। পটকাটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হলে উপস্থিত লোকজন চমকে উঠলেও কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। পটকা ফোটানোর পর ওই কিশোর পালিয়ে না গিয়ে শান্তভাবে পাশেই একটি দোকানে বসে ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী শিশু অনিক জানায়, কালু নামের ওই কিশোর স্থানীয় দোকান থেকে ২০ টাকা দিয়ে 'স্পাইডার বোম' বা পটকাটি কিনেছিল এবং কেবল খেলার ছলে সেটি ফুটিয়েছে। ঘটনার সময় জসিম উদ্দিন রাহমানীর পাশেই অবস্থান করছিলেন ভবনটির নির্মাণকর্মী মাহবুব ও ইউনুস। তারাও এটিকে শিশুদের কাজ বলে নিশ্চিত করেছেন।

হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, পুলিশ, সিটিটিসি এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। উদ্ধারকৃত আলামত থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এটি কোনো ককটেল বা হাতবোমা ছিল না, বরং সাধারণ পটকা ছিল। এতে কোনো স্প্লিন্টার বা ক্ষতিকারক উপাদান পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানী এই ঘটনাকে ঘিরে চাঁদাবাজদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। পুলিশ যে দোকান থেকে পটকাটি বিক্রি করা হয়েছিল, সেই দোকানের সব পটকা জব্দ করেছে এবং বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখছে। মূলত একটি ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনলাইনে অতিরঞ্জিত তথ্য ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানীর ওপর 'বোমা হামলার' খবরটি ভুয়া; আসলে ছিল শিশুদের পটকা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানীকে লক্ষ্য করে বোমা হামলার যে খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে, তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। সরেজমিনে অনুসন্ধান ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এটি ছিল শিশুদের খেলার ছলে ফোটানো সাধারণ 'চকলেট বোমা' বা পটকা। কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে কোনো পরিকল্পিত হামলা চালায়নি।

সোমবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরস্থ ধানমন্ডি রিভার ভিউ মডেল টাউনের ১৩ নম্বর রোডে জসিম উদ্দিন রাহমানীর নির্মাণাধীন বাড়ির সামনে একটি পটকা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে দাবি করা হয়, তাকে লক্ষ্য করে 'বোমা হামলা' হয়েছে এবং তিনি অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। এমনকি কেউ কেউ একজন আহত হওয়ার খবরও প্রচার করেন।

তবে অনুসন্ধানে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বেলা ১১টা ৩৪ মিনিটে রাহমানী যখন লাঠি হাতে হাঁটছিলেন, তখন কালু নামের এক কিশোর তার থেকে প্রায় ২০ ফুট দূরে বালুর স্তূপের ওপর একটি পটকা রেখে তাতে আগুন দেয়। পটকাটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হলে উপস্থিত লোকজন চমকে উঠলেও কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। পটকা ফোটানোর পর ওই কিশোর পালিয়ে না গিয়ে শান্তভাবে পাশেই একটি দোকানে বসে ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী শিশু অনিক জানায়, কালু নামের ওই কিশোর স্থানীয় দোকান থেকে ২০ টাকা দিয়ে 'স্পাইডার বোম' বা পটকাটি কিনেছিল এবং কেবল খেলার ছলে সেটি ফুটিয়েছে। ঘটনার সময় জসিম উদ্দিন রাহমানীর পাশেই অবস্থান করছিলেন ভবনটির নির্মাণকর্মী মাহবুব ও ইউনুস। তারাও এটিকে শিশুদের কাজ বলে নিশ্চিত করেছেন।

হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, পুলিশ, সিটিটিসি এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। উদ্ধারকৃত আলামত থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এটি কোনো ককটেল বা হাতবোমা ছিল না, বরং সাধারণ পটকা ছিল। এতে কোনো স্প্লিন্টার বা ক্ষতিকারক উপাদান পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানী এই ঘটনাকে ঘিরে চাঁদাবাজদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। পুলিশ যে দোকান থেকে পটকাটি বিক্রি করা হয়েছিল, সেই দোকানের সব পটকা জব্দ করেছে এবং বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখছে। মূলত একটি ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনলাইনে অতিরঞ্জিত তথ্য ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ