সম্প্রতি রাজস্থানের চৌমু বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি মসজিদের কাছে পাথর নিক্ষেপের ঘটনার পর ওই এলাকার মুসলিম জনবসতিতে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। জেলা প্রশাসন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নামে চারটি ভবন এবং ২০টি মাংসের দোকানে নোটিশ জারি করেছে, যা স্থানীয়দের মনে বৈষম্যের ভয় তৈরি করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও এসটিএফ মোতায়েন করা হয়েছে।
গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে চৌমু বাসস্ট্যান্ডের একটি মসজিদের লোহার রেলিং বসানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিতণ্ডা এবং পরবর্তীতে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই স্থানীয় পৌর প্রশাসন জননিরাপত্তা ও অবৈধ দখলের অজুহাতে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে উচ্ছেদ অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জারি করা নোটিশে বলা হয়েছে, ফুটপাথ ও সরকারি জায়গা দখল করে নির্মিত সিঁড়ি, র্যাম্প এবং প্ল্যাটফর্ম আগামী তিন দিনের মধ্যে সরিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে লাইসেন্সবিহীনভাবে ব্যবসা করার অভিযোগে ২০টি নন-ভেজ (মাংসের) দোকানকে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে বুলডোজার দিয়ে এসব স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে বলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং একপেশে বলে দাবি করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার বলেন, "পাথর নিক্ষেপের ঘটনার পর থেকেই রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে পড়েছে। শুধুমাত্র আমাদের এলাকাতেই কেন এই অভিযান চালানো হচ্ছে? এটি আমাদের ওপর এক ধরণের সাজা চাপিয়ে দেওয়ার মতো।"
অন্যদিকে, পৌর কর্মকর্তারা এই অভিযানকে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দাবি করেছেন। তাদের মতে, জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো এবং নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে এবং শান্তি বজায় রাখতে টহল জোরদার করা হয়েছে।
বর্তমানে পুরো এলাকায় এক ধরণের থমথমে নিরবতা বিরাজ করছে। স্থানীয় মুরব্বিরা প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন এবং শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

মতামত