বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

বেরবেরা, বসাসো ও কিসমায়ো বন্দরে আমিরাতের সব ধরনের সহযোগিতা ও সামরিক উপস্থিতির অবসান

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সব চুক্তি বাতিল করল সোমালিয়া


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সব চুক্তি বাতিল করল সোমালিয়া

আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সাথে সম্পাদিত সকল দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে সোমালিয়া সরকার। লোহিত সাগর অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তজনা এবং সোমালিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমিরাতের হস্তক্ষেপের অভিযোগে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বারবারা ও বোসাসোর মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে আমিরাতের নিয়ন্ত্রণ কার্যত শেষ হতে চলেছে।

সোমবার সোমালিয়ার মন্ত্রী পরিষদ এক জরুরি বৈঠকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং বন্দর উন্নয়ন বিষয়ক সকল সহযোগিতা ও চুক্তি বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। সোমালিয়া সরকারের একটি অভ্যন্তরীণ নথির সূত্রে জানা গেছে, এই সিদ্ধান্তটি বারবারা, বোসাসো এবং কিসমায়ো বন্দরের ক্ষেত্রে অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সোমালিয়া সরকারের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, "দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত সুপরিকল্পিতভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে—এমন জোরালো প্রমাণ পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"

সামরিক ঘাঁটি ত্যাগ ও ইথিওপিয়া যাত্রা: প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আমিরাত ইতিমধ্যেই সোমালিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের সামরিক ঘাঁটি থেকে নিরাপত্তা কর্মী এবং সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। বিশেষ করে পুন্টল্যান্ড অঞ্চলের বোসাসো শহর থেকে আমিরাতি বাহিনী তাদের রসদ প্রতিবেশী দেশ ইথিওপিয়াতে স্থানান্তর করছে। উল্লেখ্য, এই বোসাসো ঘাঁটিটি সুদানের আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ-কে (RSF) সহায়তা প্রদানের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইসরায়েল ও সোমালিল্যান্ড ফ্যাক্টর: সম্প্রতি ইসরায়েল কর্তৃক বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল 'সোমালিল্যান্ড'-কে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার গত মঙ্গলবার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বারবারা বন্দর পরিদর্শন করেন। সেখানে ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের আলোচনার পাশাপাশি আরব আমিরাতের শক্তিশালী উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। সোমালিয়া মনে করছে, তাদের ভূখণ্ডকে দ্বিখণ্ডিত করার প্রচেষ্টায় আরব আমিরাত এবং ইসরায়েল যৌথভাবে কাজ করছে।

বারবারা বন্দরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের লজিস্টিক জায়ান্ট 'ডিপি ওয়ার্ল্ড' বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছিল। এখানে নির্মিত ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ রানওয়েটি আফ্রিকার অন্যতম দীর্ঘতম, যা ভারী যুদ্ধবিমান অবতরণে সক্ষম। সোমালিয়ার এই সিদ্ধান্তের ফলে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের মেরুকরণ তৈরি হতে পারে। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আবদুল্লাহি ফারমাজো সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তবে এই চুক্তি বাতিলের বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিষয় : সংযুক্ত আরব আমিরাত সোমালিয়া

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সব চুক্তি বাতিল করল সোমালিয়া

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সাথে সম্পাদিত সকল দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে সোমালিয়া সরকার। লোহিত সাগর অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তজনা এবং সোমালিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমিরাতের হস্তক্ষেপের অভিযোগে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বারবারা ও বোসাসোর মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে আমিরাতের নিয়ন্ত্রণ কার্যত শেষ হতে চলেছে।

সোমবার সোমালিয়ার মন্ত্রী পরিষদ এক জরুরি বৈঠকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং বন্দর উন্নয়ন বিষয়ক সকল সহযোগিতা ও চুক্তি বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। সোমালিয়া সরকারের একটি অভ্যন্তরীণ নথির সূত্রে জানা গেছে, এই সিদ্ধান্তটি বারবারা, বোসাসো এবং কিসমায়ো বন্দরের ক্ষেত্রে অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সোমালিয়া সরকারের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, "দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত সুপরিকল্পিতভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে—এমন জোরালো প্রমাণ পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"

সামরিক ঘাঁটি ত্যাগ ও ইথিওপিয়া যাত্রা: প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আমিরাত ইতিমধ্যেই সোমালিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের সামরিক ঘাঁটি থেকে নিরাপত্তা কর্মী এবং সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। বিশেষ করে পুন্টল্যান্ড অঞ্চলের বোসাসো শহর থেকে আমিরাতি বাহিনী তাদের রসদ প্রতিবেশী দেশ ইথিওপিয়াতে স্থানান্তর করছে। উল্লেখ্য, এই বোসাসো ঘাঁটিটি সুদানের আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ-কে (RSF) সহায়তা প্রদানের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইসরায়েল ও সোমালিল্যান্ড ফ্যাক্টর: সম্প্রতি ইসরায়েল কর্তৃক বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল 'সোমালিল্যান্ড'-কে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার গত মঙ্গলবার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বারবারা বন্দর পরিদর্শন করেন। সেখানে ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের আলোচনার পাশাপাশি আরব আমিরাতের শক্তিশালী উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। সোমালিয়া মনে করছে, তাদের ভূখণ্ডকে দ্বিখণ্ডিত করার প্রচেষ্টায় আরব আমিরাত এবং ইসরায়েল যৌথভাবে কাজ করছে।

বারবারা বন্দরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের লজিস্টিক জায়ান্ট 'ডিপি ওয়ার্ল্ড' বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছিল। এখানে নির্মিত ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ রানওয়েটি আফ্রিকার অন্যতম দীর্ঘতম, যা ভারী যুদ্ধবিমান অবতরণে সক্ষম। সোমালিয়ার এই সিদ্ধান্তের ফলে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের মেরুকরণ তৈরি হতে পারে। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আবদুল্লাহি ফারমাজো সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তবে এই চুক্তি বাতিলের বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ