ভারতের উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরে একটি পিৎজা শপে খাবার খেতে গিয়ে হিন্দু উগ্রপন্থী সংগঠনের হেনস্তার শিকার হয়েছেন এক যুবক ও এক যুবতী। পরিচয় দেওয়ার পরও তাদের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভীতি প্রদর্শন করায়, তারা জীবন বাঁচাতে দোকানের দোতলা থেকে নিচে ঝাঁপ দেন। বর্তমানে তারা গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুর জেলায় শনিবার এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২১ বছর বয়সী এক যুবক এবং ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী একটি পিৎজা শপে খাবারের অর্ডার দিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। এমন সময় একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের একদল সদস্য সেখানে প্রবেশ করে তাদের ঘিরে ধরে এবং জেরা শুরু করে।
হামলাকারীরা ওই যুবক ও যুবতীর কাছে তাদের জাতিগত পরিচয় জানতে চায়। ভুক্তভোগীরা জানান যে তারা উভয়ই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। তবে এতেও শান্ত হয়নি ওই গোষ্ঠীটি। তারা কোনো কারণ ছাড়াই তাদের ভিডিও ধারণ করতে শুরু করে এবং মানসিকভাবে হেনস্তা করতে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পরিস্থিতির আকস্মিকতায় এবং জনসমক্ষে অপমানের ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই দুজন।
পুলিশ সুপার রাজেশ দ্বিবেদী জানিয়েছেন, হেনস্তার এক পর্যায়ে যুবকটি জানালার গ্রিল টেনে সরিয়ে ফেলেন এবং দোতলা থেকে নিচে ঝাঁপ দেন। তাকে অনুসরণ করে ওই তরুণীও নিচে ঝাঁপ দেন। উঁচু থেকে পড়ার ফলে দুজনেই শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত পান। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ কোনো অভিযোগ পায়নি জানালেও, রবিবার শাহজাহানপুর পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে তারা একটি প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (FIR) নথিভুক্ত করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। এই ঘটনা ভারতের উত্তরপ্রদেশে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান দৌরাত্ম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
মতামত