ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রযুক্তির ব্যবহারে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধিত ভোটারদের পাঠানো মোট ১১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪৫টি পোস্টাল ব্যালট গ্রহণ করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে প্রবাসীদের কাছ থেকে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের সরাসরি অংশগ্রহণের গুরুত্বকে আরও সুসংহত করেছে।
বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ও ডাক বিভাগের সমন্বয়ে বিশাল পরিসরে পোস্টাল ব্যালটের ব্যবহার সফলতার মুখ দেখছে। আজ বৃহস্পতিবার প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বাসসকে সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বহির্বিশ্বে অবস্থানরত প্রবাসীদের মধ্যে গণতান্ত্রিক সচেতনতা ছিল চোখে পড়ার মতো।
ব্যালট প্রেরণ: নিবন্ধিত প্রবাসীদের কাছে মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পাঠানো হয়েছিল।
ভোট গ্রহণ ও প্রদান: এর মধ্যে ৫ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৮ জন প্রবাসী সফলভাবে ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৭৫১ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
ডাকযোগে ফেরত: ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫৪ জন প্রবাসী ভোটার সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিসের মাধ্যমে ব্যালট জমা দেন, যার মধ্যে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ২৬৬টি ব্যালট ইতিমধ্যে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। শেষ পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫৫১ জন প্রবাসীর ভোট গ্রহণ করেছেন।
দেশের অভ্যন্তরে (আইসিপিভি) ভোটের চিত্র
দেশের অভ্যন্তরে অবস্থানরত ভোটারদের ক্ষেত্রেও (আইসিপিভি) পোস্টাল ব্যালট ব্যবহারে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।
নিবন্ধন ও ব্যালট: দেশের ভেতরে অবস্থানরত মোট ৭ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৮ জন নিবন্ধিত ভোটারের ঠিকানায় ব্যালট পাঠায় ইসি।
ভোটদান সম্পন্ন: দুপুর ২টা পর্যন্ত ৬ লাখ ৮১ হাজার ৮১৯ জন ভোটার ব্যালট গ্রহণ করেন এবং ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৩৭৬ জন তাদের ভোট প্রদান সম্পন্ন করেন।
গৃহীত ব্যালট: ডাক বিভাগ ও পোস্ট অফিসের মাধ্যমে জমা পড়া ব্যালটগুলোর মধ্য থেকে ৬ লাখ ৪৮ হাজার ২৯৪টি ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তারা গ্রহণ করেছেন।
ডিজিটাল নিবন্ধনে মাইলফলক
সালীম আহমাদ খান জানান, এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে দেশে ও প্রবাসে মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন করেছিলেন। এই বিশাল সংখ্যক ভোটারের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ডিজিটালাইজেশন সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পোস্টাল ব্যালট এবং অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের এই প্রক্রিয়াটি আগামীতে বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিতে একটি শক্তিশালী মডেল হিসেবে কাজ করবে।
মতামত