শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

তেলেঙ্গানায় বুলডোজার আতঙ্ক! আইনি নোটিশ ছাড়া এই ভাঙন কি পরিকল্পিত?

তেলেঙ্গানায় রমজানের শুরুতেই নবনির্মিত মসজিদ উচ্ছেদ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

তেলেঙ্গানায় রমজানের শুরুতেই নবনির্মিত মসজিদ উচ্ছেদ

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের সঙ্গারেড্ডি জেলায় 'মসজিদ-এ-মাওলানা' নামক একটি নবনির্মিত মসজিদ ভেঙে ফেলেছে স্থানীয় রাজস্ব দপ্তর। পবিত্র রমজান মাস শুরুর প্রাক্কালে এবং নামাজ শুরু হওয়ার মাত্র কয়েকদিনের মাথায় এই আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। জমি সংক্রান্ত আইনি জটিলতার দোহাই দিয়ে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে 'অন্যায্য' ও 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে দাবি করছে স্থানীয় জনতা ও রাজনৈতিক দলগুলো।

তেলেঙ্গানার সঙ্গারেড্ডি জেলার সাদাশিবপেট এলাকায় সম্প্রতি নির্মিত মসজিদ-এ-মাওলানা ভেঙে ফেলার ঘটনায় মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে। রাজস্ব কর্মকর্তাদের দাবি, মসজিদটি সরকারি 'ইনাম' জমিতে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে এই দাবির বিপরীতে জমির মালিকানা ও উচ্ছেদের সময়কাল নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

জমির মালিকানা দাবিদার মোহাম্মদ কালিম জানান, প্রায় দুই বছর আগে তিনি হায়দ্রাবাদের জনৈক রাজুর কাছ থেকে 'সার্ভে নম্বর ১৬৫'-এর এই জমিটি আইনত ক্রয় করেন। তিনি বলেন, "গত দুই বছর ধরে জমিটি আমার দখলে ছিল, আমি সেখানে বোরওয়েলও বসিয়েছিলাম। গত সোমবার থেকে মসজিদে নামাজ শুরু হয়েছিল। অথচ কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ প্রশাসন এটি গুঁড়িয়ে দিল।" কালিমের অভিযোগ, শুরু থেকেই কিছু অসামাজিক গোষ্ঠী এই নির্মাণকাজে বাধা সৃষ্টি করে আসছিল।

হায়দ্রাবাদের সাংসদ এবং এআইএমআইএম (AIMIM) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি প্রশাসনের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, "যদি জমিটি নিয়ে বিতর্ক থাকত, তবে গত দুই বছর প্রশাসন কী করছিল? কেন নামাজ শুরু হওয়ার পর এবং রমজানের ঠিক আগে এই অভিযান চালানো হলো?" তিনি অবিলম্বে স্থানীয় বিধায়ক ও জেলা কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে এই ঘটনার আইনি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

মজলিস বাঁচাও তাহরিক (MBT) এই ঘটনার জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের বরখাস্তের দাবি জানিয়েছে এবং একই স্থানে মসজিদটি পুনর্নির্মাণের দাবি তুলেছে। তাদের মতে, আদালতের হস্তক্ষেপ ছাড়া এভাবে ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলা সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভীতি ও আস্থাহীনতা তৈরি করছে।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই ইয়াদাদ্রি ভুবনগিরি জেলার জালালপুর গ্রামে আরেকটি মসজিদে ভাঙচুর ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ অবমাননার অভিযোগ উঠেছিল। পরপর এমন দুটি ঘটনায় তেলেঙ্গানার বর্তমান কংগ্রেস সরকারের প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

রাজস্ব দপ্তর তাদের অবস্থানে অনড়। তাদের মতে, 'ইনাম' জমি বিশেষ শ্রেণীর সরকারি সম্পত্তি এবং সেখানে ব্যক্তিগত স্থাপনা নির্মাণ আইনত দণ্ডনীয়। সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে একটি নিছক প্রশাসনিক উচ্ছেদ হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং সাম্প্রদায়িক কোনো সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করা হয়েছে। তবে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না করে সরাসরি বুলডোজার চালানোয় জনমনে ক্ষোভ বেড়েই চলেছে।

বিষয় : ভারত

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


তেলেঙ্গানায় রমজানের শুরুতেই নবনির্মিত মসজিদ উচ্ছেদ

প্রকাশের তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের সঙ্গারেড্ডি জেলায় 'মসজিদ-এ-মাওলানা' নামক একটি নবনির্মিত মসজিদ ভেঙে ফেলেছে স্থানীয় রাজস্ব দপ্তর। পবিত্র রমজান মাস শুরুর প্রাক্কালে এবং নামাজ শুরু হওয়ার মাত্র কয়েকদিনের মাথায় এই আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। জমি সংক্রান্ত আইনি জটিলতার দোহাই দিয়ে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে 'অন্যায্য' ও 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে দাবি করছে স্থানীয় জনতা ও রাজনৈতিক দলগুলো।

তেলেঙ্গানার সঙ্গারেড্ডি জেলার সাদাশিবপেট এলাকায় সম্প্রতি নির্মিত মসজিদ-এ-মাওলানা ভেঙে ফেলার ঘটনায় মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে। রাজস্ব কর্মকর্তাদের দাবি, মসজিদটি সরকারি 'ইনাম' জমিতে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে এই দাবির বিপরীতে জমির মালিকানা ও উচ্ছেদের সময়কাল নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

জমির মালিকানা দাবিদার মোহাম্মদ কালিম জানান, প্রায় দুই বছর আগে তিনি হায়দ্রাবাদের জনৈক রাজুর কাছ থেকে 'সার্ভে নম্বর ১৬৫'-এর এই জমিটি আইনত ক্রয় করেন। তিনি বলেন, "গত দুই বছর ধরে জমিটি আমার দখলে ছিল, আমি সেখানে বোরওয়েলও বসিয়েছিলাম। গত সোমবার থেকে মসজিদে নামাজ শুরু হয়েছিল। অথচ কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ প্রশাসন এটি গুঁড়িয়ে দিল।" কালিমের অভিযোগ, শুরু থেকেই কিছু অসামাজিক গোষ্ঠী এই নির্মাণকাজে বাধা সৃষ্টি করে আসছিল।

হায়দ্রাবাদের সাংসদ এবং এআইএমআইএম (AIMIM) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি প্রশাসনের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, "যদি জমিটি নিয়ে বিতর্ক থাকত, তবে গত দুই বছর প্রশাসন কী করছিল? কেন নামাজ শুরু হওয়ার পর এবং রমজানের ঠিক আগে এই অভিযান চালানো হলো?" তিনি অবিলম্বে স্থানীয় বিধায়ক ও জেলা কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে এই ঘটনার আইনি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

মজলিস বাঁচাও তাহরিক (MBT) এই ঘটনার জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের বরখাস্তের দাবি জানিয়েছে এবং একই স্থানে মসজিদটি পুনর্নির্মাণের দাবি তুলেছে। তাদের মতে, আদালতের হস্তক্ষেপ ছাড়া এভাবে ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলা সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভীতি ও আস্থাহীনতা তৈরি করছে।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই ইয়াদাদ্রি ভুবনগিরি জেলার জালালপুর গ্রামে আরেকটি মসজিদে ভাঙচুর ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ অবমাননার অভিযোগ উঠেছিল। পরপর এমন দুটি ঘটনায় তেলেঙ্গানার বর্তমান কংগ্রেস সরকারের প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

রাজস্ব দপ্তর তাদের অবস্থানে অনড়। তাদের মতে, 'ইনাম' জমি বিশেষ শ্রেণীর সরকারি সম্পত্তি এবং সেখানে ব্যক্তিগত স্থাপনা নির্মাণ আইনত দণ্ডনীয়। সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে একটি নিছক প্রশাসনিক উচ্ছেদ হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং সাম্প্রদায়িক কোনো সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করা হয়েছে। তবে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না করে সরাসরি বুলডোজার চালানোয় জনমনে ক্ষোভ বেড়েই চলেছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ