শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

হিন্দু রক্ষা দলের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে সাহারানপুরে উত্তেজনা; পুলিশের মামলা ও তদন্ত শুরু

সড়কে মুসলিমদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়ে দেয়াল লিখন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সড়কে মুসলিমদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়ে দেয়াল লিখন

ভারতের উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে দিল্লি-দেরাদুন জাতীয় সড়কের পাশে উসকানিমূলক ও ঘৃণ্য বার্তা লিখে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে ডানপন্থী সংগঠন 'হিন্দু রক্ষা দল'-এর বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পুলিশ এই ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলা সংলগ্ন দিল্লি-দেরাদুন জাতীয় সড়কের একটি দেয়ালে স্প্রে-পেইন্ট দিয়ে উসকানিমূলক স্লোগান লেখে হিন্দু রক্ষা দলের একদল কর্মী। ছড়িয়ে পড়া ৫৭ সেকেন্ডের একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, গেরুয়া চাদর পরিহিত কয়েকজন নারী দেয়ালে হিন্দিতে লিখছেন, "মুসলমান কে লিয়ে রোড নেহি হ্যায়" (মুসলমানদের জন্য এই রাস্তা নয়) এবং ইংরেজিতে "This road does not allow Muslim"। স্লোগান লেখা শেষে ওই দলটি 'জয় শ্রী রাম' ধ্বনি দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করে।

এই ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন হিন্দু রক্ষা দলের নেতা ভূপেন্দ্র চৌধুরী, যিনি 'পিঙ্কি ভাইয়া' নামে পরিচিত। তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করেন, ভারতের রাস্তাঘাট কেবল হিন্দুদের করের টাকায় তৈরি হয়। তার ভাষায়, "ভারতে শুধু হিন্দুরাই কর দেয়; এই জিহাদিরা যদি কর না দেয়, তবে জাতীয় সড়কে চলার কোনো অধিকার তাদের নেই।" যদিও ভারতের কর ব্যবস্থা জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল নাগরিকের ওপর সমভাবে প্রযোজ্য, তবুও তার এই ভিত্তিহীন ও সাম্প্রদায়িক মন্তব্য অনলাইনে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি গাজিয়াবাদের বলে ধারণা করা হলেও পরে পুলিশ নিশ্চিত করে যে এটি সাহারানপুরের উত্তরাখণ্ড সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ঘটেছে। সাহারানপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) শৈলেন্দ্র কুমার শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, ভাইরাল ভিডিওর ভিত্তিতে একটি মামলা করা হয়েছে এবং দেয়াল থেকে ওই ঘৃণ্য লেখাগুলো মুছে ফেলা হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ওই এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ নাগরিকরা এই ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। উত্তরপ্রদেশে সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং ঘৃণ্য বক্তব্যের (Hate Speech) প্রবণতা বাড়ায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিষয় : ভারত

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


সড়কে মুসলিমদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়ে দেয়াল লিখন

প্রকাশের তারিখ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে দিল্লি-দেরাদুন জাতীয় সড়কের পাশে উসকানিমূলক ও ঘৃণ্য বার্তা লিখে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে ডানপন্থী সংগঠন 'হিন্দু রক্ষা দল'-এর বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পুলিশ এই ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলা সংলগ্ন দিল্লি-দেরাদুন জাতীয় সড়কের একটি দেয়ালে স্প্রে-পেইন্ট দিয়ে উসকানিমূলক স্লোগান লেখে হিন্দু রক্ষা দলের একদল কর্মী। ছড়িয়ে পড়া ৫৭ সেকেন্ডের একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, গেরুয়া চাদর পরিহিত কয়েকজন নারী দেয়ালে হিন্দিতে লিখছেন, "মুসলমান কে লিয়ে রোড নেহি হ্যায়" (মুসলমানদের জন্য এই রাস্তা নয়) এবং ইংরেজিতে "This road does not allow Muslim"। স্লোগান লেখা শেষে ওই দলটি 'জয় শ্রী রাম' ধ্বনি দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করে।

এই ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন হিন্দু রক্ষা দলের নেতা ভূপেন্দ্র চৌধুরী, যিনি 'পিঙ্কি ভাইয়া' নামে পরিচিত। তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করেন, ভারতের রাস্তাঘাট কেবল হিন্দুদের করের টাকায় তৈরি হয়। তার ভাষায়, "ভারতে শুধু হিন্দুরাই কর দেয়; এই জিহাদিরা যদি কর না দেয়, তবে জাতীয় সড়কে চলার কোনো অধিকার তাদের নেই।" যদিও ভারতের কর ব্যবস্থা জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল নাগরিকের ওপর সমভাবে প্রযোজ্য, তবুও তার এই ভিত্তিহীন ও সাম্প্রদায়িক মন্তব্য অনলাইনে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি গাজিয়াবাদের বলে ধারণা করা হলেও পরে পুলিশ নিশ্চিত করে যে এটি সাহারানপুরের উত্তরাখণ্ড সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ঘটেছে। সাহারানপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) শৈলেন্দ্র কুমার শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, ভাইরাল ভিডিওর ভিত্তিতে একটি মামলা করা হয়েছে এবং দেয়াল থেকে ওই ঘৃণ্য লেখাগুলো মুছে ফেলা হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ওই এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ নাগরিকরা এই ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। উত্তরপ্রদেশে সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং ঘৃণ্য বক্তব্যের (Hate Speech) প্রবণতা বাড়ায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ