একদিকে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর ক্রমাগত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ায় মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা—এমন পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে তুরস্ক তার সমস্ত সক্ষমতা ও কূটনৈতিক শক্তি নিয়োগ করছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। মঙ্গলবার রাজধানী আঙ্কারার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান সতর্ক করে বলেছেন, ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর মধ্যে নতুন কোনো শত্রুতা তৈরি হওয়ার আগেই তুরস্ক রক্তপাত বন্ধে তৎপর রয়েছে। তিনি জানান, আঙ্কারা এমন একটি সক্রিয় কূটনীতি পরিচালনা করছে যার মূল লক্ষ্য হলো সংলাপের মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান খুঁজে বের করা।
এরদোগান গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফিলিস্তিনিরা এ বছরও অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে পবিত্র রমজান মাস শুরু করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি সরকার গাজায় ত্রাণ সহায়তা প্রবেশের পথে বাধা সৃষ্টি করে সরাসরি যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে। তার দেওয়া তথ্যমতে, গত পাঁচ মাসে যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলি হামলায় ৬২০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট এরদোগান তার বক্তব্যে বর্তমান সময়ের কিছু উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন:
আফগানিস্তান ও পাকিস্তান: দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
ইরান পরিস্থিতি: এরদোগান দাবি করেন, "জায়নবাদী লবির" প্ররোচনায় গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে বিমান অভিযান শুরু হয়েছে, যা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে পারে।
উপসাগরীয় দেশ: ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।
সোমালিয়া, সুদান এবং আরাকানে (রাখাইন) নির্যাতিত মুসলিমদের কষ্টের কথা স্মরণ করে এরদোগান বলেন, তুরস্ক তার জনগণকে এই সব ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি বিশ্ববাসীকে বিশেষ করে তুর্কি জনগণকে রমজানের এই মাসে নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ানোর এবং তাদের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান।
তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, "আমরা রক্তপাত এবং কান্নার অবসান ঘটাতে চাই। তুরস্ক তার শান্তিকেন্দ্রিক কূটনীতির মাধ্যমে টেবিলের আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধান করতে বদ্ধপরিকর।"
মতামত