বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

উত্তরপ্রদেশে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ; প্রধান অভিযুক্ত দীপু পলাতক

ভারতে মাদরাসা ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ: মদ্যপান করিয়ে সাজানো হলো ‘ভুয়া বিয়ে’



ভারতে মাদরাসা ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ: মদ্যপান করিয়ে সাজানো হলো ‘ভুয়া বিয়ে’

ভারতের উত্তরপ্রদেশের কনৌজ জেলায় এক ১৪ বছর বয়সী মাদরাসা ছাত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ ও গণধর্ষণের এক ভয়াবহ ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযুক্ত যুবক ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক মদ্যপান করিয়ে অচৈতন্য করে এবং পরে সিঁদুর পরিয়ে একটি ‘ভুয়া বিয়ের’ নাটক সাজায়। দীর্ঘ দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর একটি সাহসিক ফোন কলের সূত্র ধরে পুলিশ ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৩ মে, ২০২৬। কনৌজের সাইয়্যদপুর সাকরি গ্রামের বাসিন্দা আকিল আহমেদের মেয়ে স্থানীয় ‘মাদরাসা মহসিনাত’-এ থেকে পড়াশোনা করছিল। রবিবার সকাল ৮টার দিকে কিছু খাবার কিনতে মাদরাসার বাইরে বের হলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা দীপু নামের এক যুবক তাকে আটকায়। মেয়েটির বাবার অভিযোগ অনুযায়ী, দীপু মিথ্যা বলেছিল যে তার মা তাকে ডাকছে। মায়ের কথা শুনে সরল বিশ্বাসে কাছে এলেই তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে নিজের বাড়িতে বন্দি করে ফেলে অভিযুক্ত।

ভুক্তভোগী কিশোরীর জবানবন্দি অনুযায়ী, বন্দি থাকাকালীন তার ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালানো হয়। প্রধান অভিযুক্ত দীপু, তার ভাই সঞ্জীব এবং বন্ধু ধীরাজ মিলে কিশোরীটিকে কোল্ড ড্রিঙ্কসের কথা বলে জোর করে মদ পান করায়। এরপর তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। শুধু তাই নয়, ঘটনাটিকে ভিন্নখাত দিতে অভিযুক্তরা তার মাথায় সিঁদুর এবং পায়ে আলতা (মাহাওয়ার) পরিয়ে একটি ‘জবরদস্তিমূলক বিয়ের’ নাটক সাজানোর চেষ্টা করে।

মঙ্গলবার বিকেলে বন্দিদশা থেকে কিশোরীটি কোনোভাবে একটি মোবাইল ফোনের নাগাল পায়। সে সাহস করে তার মাকে ফোন দিয়ে আর্তনাদ করে বলে, "আমি হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আছি, আমাকে বাঁচাও। আমি জানালা দিয়ে মাদরাসার সামনের বাড়িটি দেখতে পাচ্ছি।" এই ক্লু পাওয়ার পরপরই স্বজনরা পুলিশসহ শেখপুরার ওই এলাকায় তল্লাশি শুরু করে। অবশেষে দীপুর বাড়ির ছাদ থেকে কিশোরীটিকে অচৈতন্য এবং হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের পর কিশোরীটিকে দ্রুত জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্ত দীপু পালিয়ে গেলেও পুলিশ তার এক সহযোগীকে আটক করেছে। কনৌজ পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির কঠোর ধারা এবং পকসো (POCSO) আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিষয় : ভারত

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬


ভারতে মাদরাসা ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ: মদ্যপান করিয়ে সাজানো হলো ‘ভুয়া বিয়ে’

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তরপ্রদেশের কনৌজ জেলায় এক ১৪ বছর বয়সী মাদরাসা ছাত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ ও গণধর্ষণের এক ভয়াবহ ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযুক্ত যুবক ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক মদ্যপান করিয়ে অচৈতন্য করে এবং পরে সিঁদুর পরিয়ে একটি ‘ভুয়া বিয়ের’ নাটক সাজায়। দীর্ঘ দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর একটি সাহসিক ফোন কলের সূত্র ধরে পুলিশ ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৩ মে, ২০২৬। কনৌজের সাইয়্যদপুর সাকরি গ্রামের বাসিন্দা আকিল আহমেদের মেয়ে স্থানীয় ‘মাদরাসা মহসিনাত’-এ থেকে পড়াশোনা করছিল। রবিবার সকাল ৮টার দিকে কিছু খাবার কিনতে মাদরাসার বাইরে বের হলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা দীপু নামের এক যুবক তাকে আটকায়। মেয়েটির বাবার অভিযোগ অনুযায়ী, দীপু মিথ্যা বলেছিল যে তার মা তাকে ডাকছে। মায়ের কথা শুনে সরল বিশ্বাসে কাছে এলেই তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে নিজের বাড়িতে বন্দি করে ফেলে অভিযুক্ত।

ভুক্তভোগী কিশোরীর জবানবন্দি অনুযায়ী, বন্দি থাকাকালীন তার ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালানো হয়। প্রধান অভিযুক্ত দীপু, তার ভাই সঞ্জীব এবং বন্ধু ধীরাজ মিলে কিশোরীটিকে কোল্ড ড্রিঙ্কসের কথা বলে জোর করে মদ পান করায়। এরপর তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। শুধু তাই নয়, ঘটনাটিকে ভিন্নখাত দিতে অভিযুক্তরা তার মাথায় সিঁদুর এবং পায়ে আলতা (মাহাওয়ার) পরিয়ে একটি ‘জবরদস্তিমূলক বিয়ের’ নাটক সাজানোর চেষ্টা করে।

মঙ্গলবার বিকেলে বন্দিদশা থেকে কিশোরীটি কোনোভাবে একটি মোবাইল ফোনের নাগাল পায়। সে সাহস করে তার মাকে ফোন দিয়ে আর্তনাদ করে বলে, "আমি হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আছি, আমাকে বাঁচাও। আমি জানালা দিয়ে মাদরাসার সামনের বাড়িটি দেখতে পাচ্ছি।" এই ক্লু পাওয়ার পরপরই স্বজনরা পুলিশসহ শেখপুরার ওই এলাকায় তল্লাশি শুরু করে। অবশেষে দীপুর বাড়ির ছাদ থেকে কিশোরীটিকে অচৈতন্য এবং হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের পর কিশোরীটিকে দ্রুত জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্ত দীপু পালিয়ে গেলেও পুলিশ তার এক সহযোগীকে আটক করেছে। কনৌজ পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির কঠোর ধারা এবং পকসো (POCSO) আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ