ভারতের পার্লামেন্টে পাস হওয়া ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’-এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (AIMIM) প্রধান ও হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। ৩১ জুলাই বিলটি পাসের পর তিনি বলেন, ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা দেশের সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক ধর্মীয় স্বাধীনতার স্পষ্ট লঙ্ঘন। একজন মুসলিম হিসেবে তিনি কেবল এক আল্লাহরই ইবাদত করেন এবং নিজের ঈমানি বিশ্বাসের পরিপন্থী কোনো কাজ তিনি মেনে নেবেন না।
ভারতের পার্লামেন্টে বিতর্কিত ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’ পাস হওয়ার পর এর বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট মুসলিম নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। নতুন এই সংশোধনীতে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বা সম্মান জানানোকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতায় সরাসরি হস্তক্ষেপ বলে চিহ্নিত করেছেন তিনি।
পার্লামেন্টে বিলটি পাসের পরপরই গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, “আমি একজন মুসলিম, এবং আমি আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কারও ইবাদত বা উপাসনা করি না। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে উপাসনামূলক কিছু করলে তা আমার দ্বীন ও আকিদার সম্পূর্ণ পরিপন্থী হবে।”
‘জন গণ মন’ ও ‘বন্দে মাতরম’-এর পার্থক্য
জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’ এবং জাতীয় গান হিসেবে পরিচিত ‘বন্দে মাতরম’-এর মধ্যে মৌলিক পার্থক্যের বিষয়টি তুলে ধরেন ওয়াইসি। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন:
জন গণ মন: এটি ভারতের জাতীয় সংগীত, যা রাষ্ট্র এবং এর নাগরিকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করে। এর সঙ্গে কোনো দেবী বা উপাসনার সম্পর্ক নেই।
বন্দে মাতরম: এই গানে দেব-দেবী ও মাতৃভূমির পূজা বা আরতি মূলক উপাদান রয়েছে।
ওয়াইসি জোর দিয়ে বলেন, “যখন ‘জন গণ মন’ গাওয়া হয়, তখন তা দেশের সাধারণ মানুষ ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রকাশ করে। পক্ষান্তরে ‘বন্দে মাতরম’-এ দেবীর স্তুতি ও উপাসনার উপাদান বিদ্যমান। এই দুটির প্রকৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এগুলোকে এক করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।”
‘জাতীয় গান’ মর্যাদা নিয়ে সাংবিধানিক প্রশ্ন
‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় গানের মর্যাদা দেওয়ার বিষয়ে ঐতিহাসিক ও সাংবিধানিক সত্য তুলে ধরেন এআইএমআইএম প্রধান। তিনি দাবি করেন, ১৯৫০ সালে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় গান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে একটি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, এ বিষয়ে ভারতীয় পার্লামেন্টে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বা আইন পাস হয়নি। তাছাড়া ভারতের মূল সংবিধানে কোথাও ‘জাতীয় গান’ (National Song) পরিভাষাটির স্পষ্ট সংজ্ঞা বা বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়নি।
সাংবিধানিক অধিকার হরণের অভিযোগ
ওয়াইসি সতর্ক করে বলেন, এই সংশোধনী বিলটি ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৫, ২৬ এবং ২৯-এ বর্ণিত মৌলিক অধিকারগুলোকে খর্ব করে। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদগুলো দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ ধর্ম পালন, বিশ্বাস সুরক্ষা এবং সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা বজায় রাখার পূর্ণ নিশ্চয়তা দেয়।
তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো নাগরিককে তার ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিপন্থী কোনো কাজ করতে রাষ্ট্র বা আইন বাধ্য করতে পারে না। উগ্র হিন্দুত্ববাদী নীতি চাপিয়ে দিয়ে সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার এই চেষ্টা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর জন্য হুমকি স্বরূপ।

শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬
ভারতের পার্লামেন্টে পাস হওয়া ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’-এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (AIMIM) প্রধান ও হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। ৩১ জুলাই বিলটি পাসের পর তিনি বলেন, ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা দেশের সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক ধর্মীয় স্বাধীনতার স্পষ্ট লঙ্ঘন। একজন মুসলিম হিসেবে তিনি কেবল এক আল্লাহরই ইবাদত করেন এবং নিজের ঈমানি বিশ্বাসের পরিপন্থী কোনো কাজ তিনি মেনে নেবেন না।
ভারতের পার্লামেন্টে বিতর্কিত ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’ পাস হওয়ার পর এর বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট মুসলিম নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। নতুন এই সংশোধনীতে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বা সম্মান জানানোকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতায় সরাসরি হস্তক্ষেপ বলে চিহ্নিত করেছেন তিনি।
পার্লামেন্টে বিলটি পাসের পরপরই গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, “আমি একজন মুসলিম, এবং আমি আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কারও ইবাদত বা উপাসনা করি না। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে উপাসনামূলক কিছু করলে তা আমার দ্বীন ও আকিদার সম্পূর্ণ পরিপন্থী হবে।”
‘জন গণ মন’ ও ‘বন্দে মাতরম’-এর পার্থক্য
জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’ এবং জাতীয় গান হিসেবে পরিচিত ‘বন্দে মাতরম’-এর মধ্যে মৌলিক পার্থক্যের বিষয়টি তুলে ধরেন ওয়াইসি। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন:
জন গণ মন: এটি ভারতের জাতীয় সংগীত, যা রাষ্ট্র এবং এর নাগরিকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করে। এর সঙ্গে কোনো দেবী বা উপাসনার সম্পর্ক নেই।
বন্দে মাতরম: এই গানে দেব-দেবী ও মাতৃভূমির পূজা বা আরতি মূলক উপাদান রয়েছে।
ওয়াইসি জোর দিয়ে বলেন, “যখন ‘জন গণ মন’ গাওয়া হয়, তখন তা দেশের সাধারণ মানুষ ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রকাশ করে। পক্ষান্তরে ‘বন্দে মাতরম’-এ দেবীর স্তুতি ও উপাসনার উপাদান বিদ্যমান। এই দুটির প্রকৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এগুলোকে এক করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।”
‘জাতীয় গান’ মর্যাদা নিয়ে সাংবিধানিক প্রশ্ন
‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় গানের মর্যাদা দেওয়ার বিষয়ে ঐতিহাসিক ও সাংবিধানিক সত্য তুলে ধরেন এআইএমআইএম প্রধান। তিনি দাবি করেন, ১৯৫০ সালে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় গান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে একটি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, এ বিষয়ে ভারতীয় পার্লামেন্টে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বা আইন পাস হয়নি। তাছাড়া ভারতের মূল সংবিধানে কোথাও ‘জাতীয় গান’ (National Song) পরিভাষাটির স্পষ্ট সংজ্ঞা বা বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়নি।
সাংবিধানিক অধিকার হরণের অভিযোগ
ওয়াইসি সতর্ক করে বলেন, এই সংশোধনী বিলটি ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৫, ২৬ এবং ২৯-এ বর্ণিত মৌলিক অধিকারগুলোকে খর্ব করে। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদগুলো দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ ধর্ম পালন, বিশ্বাস সুরক্ষা এবং সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা বজায় রাখার পূর্ণ নিশ্চয়তা দেয়।
তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো নাগরিককে তার ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিপন্থী কোনো কাজ করতে রাষ্ট্র বা আইন বাধ্য করতে পারে না। উগ্র হিন্দুত্ববাদী নীতি চাপিয়ে দিয়ে সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার এই চেষ্টা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর জন্য হুমকি স্বরূপ।

আপনার মতামত লিখুন