বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

মসজিদের সামনে অবমাননাকর গান বাজিয়ে উসকানি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষ ছড়িয়ে নেপালের শতবর্ষের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধ্বংসের পাঁতারা চালাচ্ছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো

নেপালে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের তাণ্ডব: সামাজিক সম্প্রীতি ও মুসলিমদের অস্তিত্ব চরম হুমকির মুখে



নেপালে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের তাণ্ডব: সামাজিক সম্প্রীতি ও মুসলিমদের অস্তিত্ব চরম হুমকির মুখে

নেপালে দিন দিন বেড়ে চলেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর তাণ্ডব ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড, যা দেশটির বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় সামাজিক সম্প্রীতির ভিত্তিকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সম্প্রতি নেপালের সুনসারী (Sunsari) অঞ্চলে ধর্মীয় প্রতীক, পতাকা ও মাইক ব্যবহার কেন্দ্র করে শুরু হওয়া উসকানি শেষ পর্যন্ত সহিংস সংঘাত ও মুসলিম মালিকানাধীন ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান এবং মসজিদে হামলার ঘটনায় রূপ নেয়। তুরস্কে গবেষণারত নেপালি পিএইচডি গবেষক মুহাম্মদ জাভেদ আনসারির বরাত দিয়ে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের পরিকল্পিত উসকানি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষ ছড়ানোর ফলেই আজ নেপালের মুসলিমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

উগ্র হিন্দুত্ববাদ বনাম সনাতন ধর্ম: বিভ্রান্তির সুযোগ নেই

তুরস্কে অবস্থানরত নেপালি গবেষক মুহাম্মদ জাভেদ আনসারি আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেপালের সাম্প্রতিক সহিংস পরিস্থিতি ও মুসলিমবিদ্বেষের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, সহিংসতা সৃষ্টিকারী উগ্র গোষ্ঠীগুলো মূল সনাতন বা হিন্দু ধর্মের আদর্শে পরিচালিত হচ্ছে না, বরং তারা উগ্র 'হিন্দুত্ববাদী' (Hindutva) মতাদর্শ দ্বারা চালিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হিন্দু ধর্ম এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক মতাদর্শকে কখনোই এক করে দেখা উচিত নয়। এই উগ্র রাজনৈতিক মতাদর্শের মূল লক্ষ্যই হলো নেপালের শতবর্ষী সম্প্রীতির সংস্কৃতিকে ধূলিসাৎ করা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠিত বিদ্বেষ ও ‘এইচ-পপ’ উসকানি

আনসারি জানান, নেপালে বিশেষভাবে ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মুসলিমদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগতভাবে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে। উগ্রপন্থীরা এখন এক অভিনব ও উসকানিমূলক কৌশল গ্রহণ করেছে, যা নেপালে ‘এইচ-পপ’ (H-Pop) নামে পরিচিতি পেয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ‘কে-পপ’ (K-pop) সংস্কৃতির অনুকরণে এই উগ্রপন্থীরা বিশেষ কিছু বিদ্বেষমূলক গান তৈরি করছে।

এই 'এইচ-পপ' গানগুলোতে সরাসরি মুসলিম সম্প্রদায় ও ইসলামের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে গালাগাল ও অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করা হয়। উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবের দিনগুলোতে এবং মসজিদের ঠিক সামনে বিকট শব্দে এসব অবমাননাকর গান বাজিয়ে মারাত্মক উসকানি দেয়।

সুনসারীর সহিংসতা ও পুলিশের ভূমিকা

নেপালের সুনসারী অঞ্চলে উগ্রপন্থীদের উসকানিতে সম্প্রতি পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে। আনসারি বলেন, সেখানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে স্থানীয় মুসলিমরা নিজেরা কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে কিংবা পাল্টা আক্রমণ না করে পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ওই উগ্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংস সংঘাত বেঁধে যায়।

এই সংঘর্ষে একজন প্রাণ হারান। দুঃখজনক হলেও সত্য, ঘটনার পর কতিপয় কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহল ও উগ্রপন্থী চক্র পুরো ঘটনার দায়ভার এবং অপরাধের দায় উল্টো নিরপরাধ মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর চাপানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়।

কাস্ট সিস্টেম ও মুসলিমদের অবমূল্যায়নের চক্রান্ত

নেপালের হাজার বছরের ইতিহাস বিশ্লেষণ করে আনসারি উল্লেখ করেন, নেপালে ঐতিহাসিকভাবে বিদ্যমান 'কাস্ট সিস্টেম' বা বর্ণপ্রথাকে এখন উগ্রপন্থীরা মুসলিমদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা নেপালি মুসলিমদের সামাজিকভাবে একদম নিচু স্তরের নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে।

আনসারি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

"উগ্রপন্থীরা কাস্ট সিস্টেমের সর্বনিম্ন স্তরের মানুষের চেয়েও মুসলিমদের নিচে নামিয়ে উপস্থাপন করার অপচেষ্টা করছে, যা মারাত্মক মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং মানব মর্যাদার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।"

ভারতের উগ্রপন্থী যোগসাজশ ও সরকারের প্রতি আহ্বান

নেপালের উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের চরমপন্থী সংগঠনগুলোর গভীর যোগাযোগের ইঙ্গিত দেন আনসারি। ভারতে অবস্থিত হিন্দুত্ববাদী প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নেপালের এই গোষ্ঠীগুলোকে ইন্ধন যোগাচ্ছে ও প্রকাশ্যে সমর্থন দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে সীমান্তবর্তী উভয় পারের উগ্রপন্থীরা পরস্পরকে শক্তিশালী করছে।

এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনসারি নেপাল সরকারের প্রতি শক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন:

  • সহিংসতায় জড়িতদের পরিচয়, পূর্ব অপরাধের রেকর্ড ও আন্তর্জাতিক সংযোগ খতিয়ে দেখার জন্য শক্তিশালী ট্র্যাকিং ও ডেটাবেজ অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
  • নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের মাধ্যমে মূল অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণা ও অবমাননা ছড়ানো অ্যাকাউন্টগুলো অবিলম্বে নিষিদ্ধ করতে হবে।

"হাজার ফুলের তোড়া" থেকে বিভাজনের রাজনীতি

নেপালের জাতীয় সংগীতের উদ্ধৃতি দিয়ে আনসারি আবেগঘন কণ্ঠে স্মরণ করিয়ে দেন যে, নেপাল দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতিগত গোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতীক ছিল। নেপাল ছিল "শত ফুলের একটি তোড়া"। কিন্তু 'আমরা বনাম তারা' রাজনীতির বিষাক্ত ছোবলে আজ সেই ঐতিহ্য ধ্বংসের মুখে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, আজ যারা হিন্দু-মুসলিম বিভাজন সৃষ্টি করে ফায়দা লুটছে, কাল তারা অন্য কোনো সংখ্যালঘু বা জাতিকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে। কারণ এই উগ্র মানসিকতার মূল উদ্দেশ্যই হলো মানুষকে মানুষের বিরুদ্ধে শত্রু বানিয়ে রাখা। নেপাল সরকারকে অবিলম্বে সব ধরনের উগ্রপন্থীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেশে শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান তিনি।

বিষয় : নেপাল সংখ্যালঘু

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬


নেপালে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের তাণ্ডব: সামাজিক সম্প্রীতি ও মুসলিমদের অস্তিত্ব চরম হুমকির মুখে

প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নেপালে দিন দিন বেড়ে চলেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর তাণ্ডব ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড, যা দেশটির বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় সামাজিক সম্প্রীতির ভিত্তিকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সম্প্রতি নেপালের সুনসারী (Sunsari) অঞ্চলে ধর্মীয় প্রতীক, পতাকা ও মাইক ব্যবহার কেন্দ্র করে শুরু হওয়া উসকানি শেষ পর্যন্ত সহিংস সংঘাত ও মুসলিম মালিকানাধীন ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান এবং মসজিদে হামলার ঘটনায় রূপ নেয়। তুরস্কে গবেষণারত নেপালি পিএইচডি গবেষক মুহাম্মদ জাভেদ আনসারির বরাত দিয়ে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের পরিকল্পিত উসকানি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষ ছড়ানোর ফলেই আজ নেপালের মুসলিমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

উগ্র হিন্দুত্ববাদ বনাম সনাতন ধর্ম: বিভ্রান্তির সুযোগ নেই

তুরস্কে অবস্থানরত নেপালি গবেষক মুহাম্মদ জাভেদ আনসারি আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেপালের সাম্প্রতিক সহিংস পরিস্থিতি ও মুসলিমবিদ্বেষের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, সহিংসতা সৃষ্টিকারী উগ্র গোষ্ঠীগুলো মূল সনাতন বা হিন্দু ধর্মের আদর্শে পরিচালিত হচ্ছে না, বরং তারা উগ্র 'হিন্দুত্ববাদী' (Hindutva) মতাদর্শ দ্বারা চালিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হিন্দু ধর্ম এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক মতাদর্শকে কখনোই এক করে দেখা উচিত নয়। এই উগ্র রাজনৈতিক মতাদর্শের মূল লক্ষ্যই হলো নেপালের শতবর্ষী সম্প্রীতির সংস্কৃতিকে ধূলিসাৎ করা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠিত বিদ্বেষ ও ‘এইচ-পপ’ উসকানি

আনসারি জানান, নেপালে বিশেষভাবে ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মুসলিমদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগতভাবে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে। উগ্রপন্থীরা এখন এক অভিনব ও উসকানিমূলক কৌশল গ্রহণ করেছে, যা নেপালে ‘এইচ-পপ’ (H-Pop) নামে পরিচিতি পেয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ‘কে-পপ’ (K-pop) সংস্কৃতির অনুকরণে এই উগ্রপন্থীরা বিশেষ কিছু বিদ্বেষমূলক গান তৈরি করছে।

এই 'এইচ-পপ' গানগুলোতে সরাসরি মুসলিম সম্প্রদায় ও ইসলামের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে গালাগাল ও অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করা হয়। উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবের দিনগুলোতে এবং মসজিদের ঠিক সামনে বিকট শব্দে এসব অবমাননাকর গান বাজিয়ে মারাত্মক উসকানি দেয়।

সুনসারীর সহিংসতা ও পুলিশের ভূমিকা

নেপালের সুনসারী অঞ্চলে উগ্রপন্থীদের উসকানিতে সম্প্রতি পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে। আনসারি বলেন, সেখানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে স্থানীয় মুসলিমরা নিজেরা কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে কিংবা পাল্টা আক্রমণ না করে পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ওই উগ্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংস সংঘাত বেঁধে যায়।

এই সংঘর্ষে একজন প্রাণ হারান। দুঃখজনক হলেও সত্য, ঘটনার পর কতিপয় কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহল ও উগ্রপন্থী চক্র পুরো ঘটনার দায়ভার এবং অপরাধের দায় উল্টো নিরপরাধ মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর চাপানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়।

কাস্ট সিস্টেম ও মুসলিমদের অবমূল্যায়নের চক্রান্ত

নেপালের হাজার বছরের ইতিহাস বিশ্লেষণ করে আনসারি উল্লেখ করেন, নেপালে ঐতিহাসিকভাবে বিদ্যমান 'কাস্ট সিস্টেম' বা বর্ণপ্রথাকে এখন উগ্রপন্থীরা মুসলিমদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা নেপালি মুসলিমদের সামাজিকভাবে একদম নিচু স্তরের নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে।

আনসারি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

"উগ্রপন্থীরা কাস্ট সিস্টেমের সর্বনিম্ন স্তরের মানুষের চেয়েও মুসলিমদের নিচে নামিয়ে উপস্থাপন করার অপচেষ্টা করছে, যা মারাত্মক মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং মানব মর্যাদার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।"

ভারতের উগ্রপন্থী যোগসাজশ ও সরকারের প্রতি আহ্বান

নেপালের উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের চরমপন্থী সংগঠনগুলোর গভীর যোগাযোগের ইঙ্গিত দেন আনসারি। ভারতে অবস্থিত হিন্দুত্ববাদী প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নেপালের এই গোষ্ঠীগুলোকে ইন্ধন যোগাচ্ছে ও প্রকাশ্যে সমর্থন দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে সীমান্তবর্তী উভয় পারের উগ্রপন্থীরা পরস্পরকে শক্তিশালী করছে।

এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনসারি নেপাল সরকারের প্রতি শক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন:

  • সহিংসতায় জড়িতদের পরিচয়, পূর্ব অপরাধের রেকর্ড ও আন্তর্জাতিক সংযোগ খতিয়ে দেখার জন্য শক্তিশালী ট্র্যাকিং ও ডেটাবেজ অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
  • নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের মাধ্যমে মূল অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণা ও অবমাননা ছড়ানো অ্যাকাউন্টগুলো অবিলম্বে নিষিদ্ধ করতে হবে।

"হাজার ফুলের তোড়া" থেকে বিভাজনের রাজনীতি

নেপালের জাতীয় সংগীতের উদ্ধৃতি দিয়ে আনসারি আবেগঘন কণ্ঠে স্মরণ করিয়ে দেন যে, নেপাল দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতিগত গোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতীক ছিল। নেপাল ছিল "শত ফুলের একটি তোড়া"। কিন্তু 'আমরা বনাম তারা' রাজনীতির বিষাক্ত ছোবলে আজ সেই ঐতিহ্য ধ্বংসের মুখে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, আজ যারা হিন্দু-মুসলিম বিভাজন সৃষ্টি করে ফায়দা লুটছে, কাল তারা অন্য কোনো সংখ্যালঘু বা জাতিকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে। কারণ এই উগ্র মানসিকতার মূল উদ্দেশ্যই হলো মানুষকে মানুষের বিরুদ্ধে শত্রু বানিয়ে রাখা। নেপাল সরকারকে অবিলম্বে সব ধরনের উগ্রপন্থীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেশে শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান তিনি।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ