সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

সপ্তাহের ব্যবধানে ইসরায়েলি বাহিনীর সরঞ্জাম জব্দের দ্বিতীয় ঘটনা; গুলি চালানোর অনুমতি না পেয়ে সেনা অধিনায়কদের সিদ্ধান্ত ঘিরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে ক্ষোভ।

দক্ষিণ গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর সুড়ঙ্গ অনুসন্ধানের ড্রিলিং পাইপ ও প্রকৌশল সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিলো ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা



দক্ষিণ গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর সুড়ঙ্গ অনুসন্ধানের ড্রিলিং পাইপ ও প্রকৌশল সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিলো ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা

দক্ষিণ গাজায় ফিলিস্তিনি সুড়ঙ্গ অনুসন্ধানে নিয়োজিত ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভারী ড্রিলিং পাইপ ও অন্যান্য প্রকৌশল সরঞ্জাম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র যোদ্ধারা। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই এলাকায় এ ধরনের দ্বিতীয় ঘটনা ঘটলো বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলের হিব্রুভাষী গণমাধ্যম 'চ্যানেল ১৪'। রোববার (১৬ আগস্ট) বিতর্কিত ‘ইয়েলো লাইন’ এলাকায় কৌশলগত অভিযানের সময় সামরিক প্রচ্ছায়ায় থাকা এই প্রযুক্তি হস্তগত করা হয়।

দক্ষিণ গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সুড়ঙ্গ শনাক্তকরণ অভিযানে এক চরম নিরাপত্তা বিপর্যয় ঘটেছে। ইসরায়েলি বাহিনীর নজরদারি ও সামরিক নিয়ন্ত্রণের তোয়াক্কা না করে তাদের ব্যবহৃত ভারী ড্রিলিং পাইপ ও প্রকৌশল সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিয়ে গেছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধারা। হিব্রু গণমাধ্যম 'চ্যানেল ১৪'-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উন্মোচিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ সংলগ্ন এলাকায়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, রোববার তারা একদল সশস্ত্র ফিলিস্তিনিকে সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় গিয়ে ভারী ড্রিলিং ও খনন কাজের সরঞ্জাম তুলে নিতে দেখে। এসব প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম হস্তগত করার পর প্রতিরোধ যোদ্ধারা নিরাপদে গাজার অভ্যন্তরে ফিরে যেতে সক্ষম হয়।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা মূল্যায়নে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা ছিনিয়ে নেওয়া এসব উন্নত প্রকৌশল ও সামরিক মানের ড্রিলিং পাইপ পরবর্তীতে বিস্ফোরক ডিভাইস (আইইডি) তৈরি বা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য নতুন রূপ দিতে পারে। যদিও এগুলো দিয়ে ইতিমধ্যে কোনো ডিভাইস তৈরি করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ইসরায়েলি বাহিনী কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।

ভূগর্ভস্থ প্রতিরোধ সুড়ঙ্গ শনাক্ত করা এবং ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থানের দিকে সুড়ঙ্গ সম্প্রসারণ রোধের লক্ষ্য নিয়ে 'ইয়েলো লাইন' বরাবর ব্যাপক খনন অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। প্রতিবেদনে বলা হয়, এলাকাটিতে খুবই অল্প দূরত্বে ডজন ডজন ভারী ড্রিলিং মেশিন বসিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল।

চ্যানেল ১৪ আরও জানিয়েছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগেও ঠিক একইভাবে আরেকটি ব্যাচ ড্রিলিং সরঞ্জাম তুলে নিয়ে যায় ফিলিস্তিনিরা। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, আগের ঘটনাটির সময় কর্তব্যরত ইসরায়েলি সেনারা সশস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর সরাসরি গুলি চালানোর অনুমতি চেয়েছিল। তবে দখলদার বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কমান্ডাররা সেই অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানান।

কমান্ডারদের এই সিদ্ধান্তের ফলে ইসরায়েলি সেনা জোয়ানদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। গাজায় গুলি বর্ষণের কঠোর নীতিমালা ও সরাসরি প্রাণঘাতী হুমকি চিহ্নিত না হওয়া পর্যন্ত গুলি চালানোর নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে সেনাদলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বড় ধাক্কা খেয়েছে বলে ইসরায়েলি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য, সরঞ্জাম হস্তগত করার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা কাদের ছিল তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও এটি ইসরায়েলি বাহিনীর নজরদারি ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

বিষয় : ইসরায়েল গাজা ফিলিস্তিনি

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬


দক্ষিণ গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর সুড়ঙ্গ অনুসন্ধানের ড্রিলিং পাইপ ও প্রকৌশল সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিলো ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দক্ষিণ গাজায় ফিলিস্তিনি সুড়ঙ্গ অনুসন্ধানে নিয়োজিত ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভারী ড্রিলিং পাইপ ও অন্যান্য প্রকৌশল সরঞ্জাম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র যোদ্ধারা। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই এলাকায় এ ধরনের দ্বিতীয় ঘটনা ঘটলো বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলের হিব্রুভাষী গণমাধ্যম 'চ্যানেল ১৪'। রোববার (১৬ আগস্ট) বিতর্কিত ‘ইয়েলো লাইন’ এলাকায় কৌশলগত অভিযানের সময় সামরিক প্রচ্ছায়ায় থাকা এই প্রযুক্তি হস্তগত করা হয়।

দক্ষিণ গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সুড়ঙ্গ শনাক্তকরণ অভিযানে এক চরম নিরাপত্তা বিপর্যয় ঘটেছে। ইসরায়েলি বাহিনীর নজরদারি ও সামরিক নিয়ন্ত্রণের তোয়াক্কা না করে তাদের ব্যবহৃত ভারী ড্রিলিং পাইপ ও প্রকৌশল সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিয়ে গেছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধারা। হিব্রু গণমাধ্যম 'চ্যানেল ১৪'-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উন্মোচিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ সংলগ্ন এলাকায়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, রোববার তারা একদল সশস্ত্র ফিলিস্তিনিকে সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় গিয়ে ভারী ড্রিলিং ও খনন কাজের সরঞ্জাম তুলে নিতে দেখে। এসব প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম হস্তগত করার পর প্রতিরোধ যোদ্ধারা নিরাপদে গাজার অভ্যন্তরে ফিরে যেতে সক্ষম হয়।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা মূল্যায়নে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা ছিনিয়ে নেওয়া এসব উন্নত প্রকৌশল ও সামরিক মানের ড্রিলিং পাইপ পরবর্তীতে বিস্ফোরক ডিভাইস (আইইডি) তৈরি বা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য নতুন রূপ দিতে পারে। যদিও এগুলো দিয়ে ইতিমধ্যে কোনো ডিভাইস তৈরি করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ইসরায়েলি বাহিনী কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।

ভূগর্ভস্থ প্রতিরোধ সুড়ঙ্গ শনাক্ত করা এবং ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থানের দিকে সুড়ঙ্গ সম্প্রসারণ রোধের লক্ষ্য নিয়ে 'ইয়েলো লাইন' বরাবর ব্যাপক খনন অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। প্রতিবেদনে বলা হয়, এলাকাটিতে খুবই অল্প দূরত্বে ডজন ডজন ভারী ড্রিলিং মেশিন বসিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল।

চ্যানেল ১৪ আরও জানিয়েছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগেও ঠিক একইভাবে আরেকটি ব্যাচ ড্রিলিং সরঞ্জাম তুলে নিয়ে যায় ফিলিস্তিনিরা। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, আগের ঘটনাটির সময় কর্তব্যরত ইসরায়েলি সেনারা সশস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর সরাসরি গুলি চালানোর অনুমতি চেয়েছিল। তবে দখলদার বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কমান্ডাররা সেই অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানান।

কমান্ডারদের এই সিদ্ধান্তের ফলে ইসরায়েলি সেনা জোয়ানদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। গাজায় গুলি বর্ষণের কঠোর নীতিমালা ও সরাসরি প্রাণঘাতী হুমকি চিহ্নিত না হওয়া পর্যন্ত গুলি চালানোর নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে সেনাদলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বড় ধাক্কা খেয়েছে বলে ইসরায়েলি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য, সরঞ্জাম হস্তগত করার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা কাদের ছিল তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও এটি ইসরায়েলি বাহিনীর নজরদারি ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ