শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

মুহুরী-কহুয়া পুনর্বাসন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন—বিগত শাসনামলে ধ্বংসপ্রাপ্ত বিচার ও আইনি ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করে জনগণের অধিকার ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে বর্তমান সরকার।

সবাই পাবে আইনের সমান সুযোগ, ফিরে আসবে আইনের শাসন: ফেনীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

সবাই পাবে আইনের সমান সুযোগ, ফিরে আসবে আইনের শাসন: ফেনীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আজ ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় এক জনসভায় বক্তৃতা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট-মুহুরী সেতু এলাকায় মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ও পানি নিষ্কাশন প্রকল্প পুনর্বাসনের (প্রথম পর্যায়) শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, দেশে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং বিগত ১৭ বছরের ধ্বংসপ্রাপ্ত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই তাঁর সরকারের প্রধান অঙ্গীকার। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নস্যাৎ করতে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি দেশের সমৃদ্ধিতে সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট-মুহুরী সেতু প্রাঙ্গণে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ও পানি নিষ্কাশন প্রকল্প পুনর্বাসনের প্রথম পর্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধন শেষে এক সুবিশাল জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে তাঁর সরকারের সুদৃঢ় সংকল্পের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের জনগণ যখন বিএনপি সরকারের ওপর রাষ্ট্র পরিচালনার পবিত্র দায়িত্ব অর্পণ করেছে, তখন সরকার তার সর্বশক্তি দিয়ে ইনশাআল্লাহ সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে। গত ১৭ বছরে আমরা দেখেছি কীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইনের শাসনকে ধূলিসাৎ করা হয়েছিল। আমরা সেই ভঙ্গুর পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটাতে চাই এবং ধাপে ধাপে দেশে সত্যিকারের ইনসাফ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

রাজনৈতিক অঙ্গনের বর্তমান গতিপ্রকৃতি ও কিছু অসাধু চক্রের অনাকাঙ্ক্ষিত তৎপরতার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, কিছু চিহ্নিত গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের অপচেষ্টা সরকারের অগ্রাধিকারমূলক জনকল্যাণমুখী ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করবে, যার প্রত্যক্ষ শিকার হবে দেশের সাধারণ জনগণ।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমরা জনগণের সুফলের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল ও নদী খনন, উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর আধুনিকায়ন এবং বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। এসব জনহিতকর কাজে যদি চক্রান্ত করে বাধা দেওয়া হয়, তবে দিনশেষে কার ক্ষতি হবে? নিশ্চিতভাবেই তা এ দেশের সাধারণ মানুষের ক্ষতি।

নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব দলের ভেতরের অনিয়ম ও অসদাচরণ খতিয়ে দেখার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার এক বৈপ্লবিক রূপান্তরের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০-এ উন্নীত করা হবে। এর ফলে গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষ নিজ নিজ এলাকাতেই বিশেষায়িত চিকিৎসা, জটিল ডায়ালাইসিস সেবা এবং উন্নত মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। তাঁদের আর বাধ্য হয়ে জেলা শহর কিংবা রাজধানীতে ছুটতে হবে না। পরশুরামের ৫০ শয্যার হাসপাতালটিকে সরাসরি ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি স্মরণ করেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে এই হাসপাতালের প্রথম ৩০টি শয্যা এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার আমলে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছিল।

কৃষক ও কর্মজীবী পরিবারের ভাগ্যন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান:

ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড: প্রান্তিক ও মধ্যম আয়ের কৃষকদের সরাসরি সরকারি সহায়তা প্রদান এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দোরাত্ম্য বন্ধে কৃষক কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

কৃষিঋণ মওকুফ: নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র সাত দিনের মাথায় সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে সরকারের প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও দেশের প্রায় ১৩ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।

মুহুরী-কহুয়া নদীর সংযোগকারী খাল পুনঃখনন প্রকল্প নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে বন্যায় মানুষের ঘরবাড়ি ভেসে গিয়েছিল এবং সেতুর ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ সুবিধা প্রদান এবং সুপেয় পানি নিশ্চিত করতেই খাল ও নদী পুনঃখননের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

এই প্রকল্পটির সুফল সম্পর্কে তিনি জানান: ১. প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।

২. প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর কৃষি জমিতে সুষম সেচ সুবিধা পৌঁছাবে।

৩. বার্ষিক ফসল উৎপাদন প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন বৃদ্ধি পাবে, যা খাদ্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন বিপ্লবের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করেন। বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানা পুনরায় চালু করতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সাথে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং লাখ লাখ পরিবার অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব অর্জন করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের প্রদত্ত ম্যান্ডেটের ভিত্তিতেই সরকার দেশ পরিচালনা করছে। কোনো ষড়যন্ত্রের কাছে নতি স্বীকার না করে যেকোনো মূল্যে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হবে।

জনসভায় বক্তব্যের আগে প্রধানমন্ত্রী ড্রেজারের মাধ্যমে নদী খনন ও বাঁধ নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করেন, মাটি কেটে খাল পুনঃখনন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং স্মারক হিসেবে খেয়াঘাট এলাকায় একটি বৃক্ষরোপণ করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনু, জয়নাল আবেদীন ও রেহানা আক্তার রানুসহ স্থানীয় ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ।

বিষয় : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


সবাই পাবে আইনের সমান সুযোগ, ফিরে আসবে আইনের শাসন: ফেনীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট-মুহুরী সেতু এলাকায় মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ও পানি নিষ্কাশন প্রকল্প পুনর্বাসনের (প্রথম পর্যায়) শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, দেশে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং বিগত ১৭ বছরের ধ্বংসপ্রাপ্ত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই তাঁর সরকারের প্রধান অঙ্গীকার। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নস্যাৎ করতে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি দেশের সমৃদ্ধিতে সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট-মুহুরী সেতু প্রাঙ্গণে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ও পানি নিষ্কাশন প্রকল্প পুনর্বাসনের প্রথম পর্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধন শেষে এক সুবিশাল জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে তাঁর সরকারের সুদৃঢ় সংকল্পের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের জনগণ যখন বিএনপি সরকারের ওপর রাষ্ট্র পরিচালনার পবিত্র দায়িত্ব অর্পণ করেছে, তখন সরকার তার সর্বশক্তি দিয়ে ইনশাআল্লাহ সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে। গত ১৭ বছরে আমরা দেখেছি কীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইনের শাসনকে ধূলিসাৎ করা হয়েছিল। আমরা সেই ভঙ্গুর পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটাতে চাই এবং ধাপে ধাপে দেশে সত্যিকারের ইনসাফ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

রাজনৈতিক অঙ্গনের বর্তমান গতিপ্রকৃতি ও কিছু অসাধু চক্রের অনাকাঙ্ক্ষিত তৎপরতার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, কিছু চিহ্নিত গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের অপচেষ্টা সরকারের অগ্রাধিকারমূলক জনকল্যাণমুখী ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করবে, যার প্রত্যক্ষ শিকার হবে দেশের সাধারণ জনগণ।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমরা জনগণের সুফলের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল ও নদী খনন, উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর আধুনিকায়ন এবং বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। এসব জনহিতকর কাজে যদি চক্রান্ত করে বাধা দেওয়া হয়, তবে দিনশেষে কার ক্ষতি হবে? নিশ্চিতভাবেই তা এ দেশের সাধারণ মানুষের ক্ষতি।

নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব দলের ভেতরের অনিয়ম ও অসদাচরণ খতিয়ে দেখার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার এক বৈপ্লবিক রূপান্তরের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০-এ উন্নীত করা হবে। এর ফলে গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষ নিজ নিজ এলাকাতেই বিশেষায়িত চিকিৎসা, জটিল ডায়ালাইসিস সেবা এবং উন্নত মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। তাঁদের আর বাধ্য হয়ে জেলা শহর কিংবা রাজধানীতে ছুটতে হবে না। পরশুরামের ৫০ শয্যার হাসপাতালটিকে সরাসরি ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি স্মরণ করেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে এই হাসপাতালের প্রথম ৩০টি শয্যা এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার আমলে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছিল।

কৃষক ও কর্মজীবী পরিবারের ভাগ্যন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান:

ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড: প্রান্তিক ও মধ্যম আয়ের কৃষকদের সরাসরি সরকারি সহায়তা প্রদান এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দোরাত্ম্য বন্ধে কৃষক কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

কৃষিঋণ মওকুফ: নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র সাত দিনের মাথায় সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে সরকারের প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও দেশের প্রায় ১৩ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।

মুহুরী-কহুয়া নদীর সংযোগকারী খাল পুনঃখনন প্রকল্প নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে বন্যায় মানুষের ঘরবাড়ি ভেসে গিয়েছিল এবং সেতুর ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ সুবিধা প্রদান এবং সুপেয় পানি নিশ্চিত করতেই খাল ও নদী পুনঃখননের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

এই প্রকল্পটির সুফল সম্পর্কে তিনি জানান: ১. প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।

২. প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর কৃষি জমিতে সুষম সেচ সুবিধা পৌঁছাবে।

৩. বার্ষিক ফসল উৎপাদন প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন বৃদ্ধি পাবে, যা খাদ্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন বিপ্লবের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করেন। বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানা পুনরায় চালু করতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সাথে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং লাখ লাখ পরিবার অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব অর্জন করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের প্রদত্ত ম্যান্ডেটের ভিত্তিতেই সরকার দেশ পরিচালনা করছে। কোনো ষড়যন্ত্রের কাছে নতি স্বীকার না করে যেকোনো মূল্যে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হবে।

জনসভায় বক্তব্যের আগে প্রধানমন্ত্রী ড্রেজারের মাধ্যমে নদী খনন ও বাঁধ নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করেন, মাটি কেটে খাল পুনঃখনন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং স্মারক হিসেবে খেয়াঘাট এলাকায় একটি বৃক্ষরোপণ করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনু, জয়নাল আবেদীন ও রেহানা আক্তার রানুসহ স্থানীয় ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ