মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

অজ্ঞাত projectiles-এর আঘাতে ইঞ্জিনের ক্ষতি ও ক্রু হতাহতের খবর দিয়েছে UKMTO; ওমানি কোস্ট গার্ডের মাধ্যমে উদ্ধারকাজ পরিচালনা।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা ও ক্রু নিহত: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় স্থবির নৌপথ



হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা ও ক্রু নিহত: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় স্থবির নৌপথ

যুক্তরাজ্য সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা (UKMTO)-র তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি বাণিজ্যিক জাহাজে অজ্ঞাত উৎসের ক্ষেপণাস্ত্র বা সমরাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এই হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন রুম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি একজন ক্রু হতাহত হয়েছেন, যাঁদের উদ্ধার ও সহায়তা প্রদান করছে ওমানি কোস্ট গার্ড। বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তিরক্ষা আলোচনার স্থবিরতার জের ধরে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে এক অঙ্কে নেমে এসেছে।

যুক্তরাজ্য সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা (UKMTO) মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছে যে, মাস্কাট উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী একটি আন্তর্জাতিক জাহাজে একটি অজানা প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। এতে জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং ক্রু সদস্য হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজ ও অবশিষ্ট ক্রুদের সহযোগিতায় তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে এসেছে ওমানের কোস্ট গার্ড।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলপথে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। কেপলার (Kpler) শিপ-ট্র্যাকিংয়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সোমবার মাত্র ৬টি পণ্যবাহী জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে, যার মধ্যে ৩টি পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে এবং ৩টি বের হয়ে গেছে। যেখানে গত ১০ দিনের গড় হিসাব অনুযায়ী দৈনিক অন্তত ১১টি জাহাজ চলাচল করত, সেখানে শনিবার মাত্র ৩টি এবং রবিবারে ২টি জাহাজ চলাচল রেকর্ড করা হয়।

সংগৃহীত তথ্য মতে, পারস্য উপসাগরে তেল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত বিশাল আকৃতির অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ (VLCC) বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) বহনকারী কোনো সুপারট্যাংকার সোমবার প্রণালি অতিক্রম করেনি। তবে, ট্র্যাক এড়াতে কিছু জাহাজ নিজেদের ট্রানসপন্ডার (Transponder) বন্ধ রেখে চলাচল করায় সেগুলো সাধারণ গণনায় আসেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শিপ-ট্র্যাকিং ডাটা অনুযায়ী, একটি 'ভেরি লার্জ গ্যাস ক্যারিয়ার' (VLGC) 'জাভিয়া' (Xavia) কোনো পণ্য ছাড়াই খালি অবস্থায় (Ballast mode) ইরানের রুট ব্যবহার করে প্রণালিতে প্রবেশ করে। এছাড়া একটি মাঝারি দূরত্বের ফুয়েল ট্যাংকার ও একটি ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ ট্যাংকার উপসাগরে প্রবেশ করে। অন্যদিকে একটি মাঝারি এলপিজি ক্যারিয়ার, একটি পানামাক্স বাল্ক ক্যারিয়ার এবং একটি পানামাক্স-সাইজের ফুয়েল ট্যাংকার প্রণালি ত্যাগ করে।

হরমুজ প্রণালিতে এ ধরনের সামুদ্রিক হামলা ও নিরাপত্তার চরম ঘাটতি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজার ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে। আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোর অচলাবস্থা ও আঞ্চলিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে ওমান উপসাগর ও আশপাশের মুসলিম দেশগুলোর সামুদ্রিক নিরাপত্তা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিষয় : যুক্তরাজ্য ইরান হরমুজ প্রণালী নৌপথ

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬


হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা ও ক্রু নিহত: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় স্থবির নৌপথ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

যুক্তরাজ্য সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা (UKMTO)-র তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি বাণিজ্যিক জাহাজে অজ্ঞাত উৎসের ক্ষেপণাস্ত্র বা সমরাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এই হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন রুম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি একজন ক্রু হতাহত হয়েছেন, যাঁদের উদ্ধার ও সহায়তা প্রদান করছে ওমানি কোস্ট গার্ড। বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তিরক্ষা আলোচনার স্থবিরতার জের ধরে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে এক অঙ্কে নেমে এসেছে।

যুক্তরাজ্য সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা (UKMTO) মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছে যে, মাস্কাট উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী একটি আন্তর্জাতিক জাহাজে একটি অজানা প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। এতে জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং ক্রু সদস্য হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজ ও অবশিষ্ট ক্রুদের সহযোগিতায় তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে এসেছে ওমানের কোস্ট গার্ড।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলপথে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। কেপলার (Kpler) শিপ-ট্র্যাকিংয়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সোমবার মাত্র ৬টি পণ্যবাহী জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে, যার মধ্যে ৩টি পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে এবং ৩টি বের হয়ে গেছে। যেখানে গত ১০ দিনের গড় হিসাব অনুযায়ী দৈনিক অন্তত ১১টি জাহাজ চলাচল করত, সেখানে শনিবার মাত্র ৩টি এবং রবিবারে ২টি জাহাজ চলাচল রেকর্ড করা হয়।

সংগৃহীত তথ্য মতে, পারস্য উপসাগরে তেল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত বিশাল আকৃতির অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ (VLCC) বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) বহনকারী কোনো সুপারট্যাংকার সোমবার প্রণালি অতিক্রম করেনি। তবে, ট্র্যাক এড়াতে কিছু জাহাজ নিজেদের ট্রানসপন্ডার (Transponder) বন্ধ রেখে চলাচল করায় সেগুলো সাধারণ গণনায় আসেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শিপ-ট্র্যাকিং ডাটা অনুযায়ী, একটি 'ভেরি লার্জ গ্যাস ক্যারিয়ার' (VLGC) 'জাভিয়া' (Xavia) কোনো পণ্য ছাড়াই খালি অবস্থায় (Ballast mode) ইরানের রুট ব্যবহার করে প্রণালিতে প্রবেশ করে। এছাড়া একটি মাঝারি দূরত্বের ফুয়েল ট্যাংকার ও একটি ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ ট্যাংকার উপসাগরে প্রবেশ করে। অন্যদিকে একটি মাঝারি এলপিজি ক্যারিয়ার, একটি পানামাক্স বাল্ক ক্যারিয়ার এবং একটি পানামাক্স-সাইজের ফুয়েল ট্যাংকার প্রণালি ত্যাগ করে।

হরমুজ প্রণালিতে এ ধরনের সামুদ্রিক হামলা ও নিরাপত্তার চরম ঘাটতি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজার ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে। আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোর অচলাবস্থা ও আঞ্চলিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে ওমান উপসাগর ও আশপাশের মুসলিম দেশগুলোর সামুদ্রিক নিরাপত্তা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ