মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রীর প্রকাশ্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের আহ্বান এবং পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের তান্ডবে চরম ঝুঁকিতে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক।

প্রতি রাতে ৪০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা উচিত: বেন গভিরের উসকানিমূলক মন্তব্যে বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা



প্রতি রাতে ৪০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা উচিত: বেন গভিরের উসকানিমূলক মন্তব্যে বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা

গাজায় অব্যাহত গণহত্যার মধ্যেই ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির প্রতিদিন রাতে ৩০ থেকে ৪০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যার প্রকাশ্য আহ্বান জানিয়েছেন। সাবেক এক বন্দির সাথে আলাপচারিতায় তিনি এই নৃশংস মন্তব্য করেন এবং তা বাস্তবায়নে "দুনিয়া ওলটপালট" করে দেওয়ার হুমকি দেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের মন্তব্য কেবল কোনো ব্যক্তির বক্তব্য নয়, বরং ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান জাতিগত নিধন ও উপনিবেশবাদী আগ্রাসনের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।

গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান নির্বিচারে হামলার মধ্যেই চরম উসকানিমূলক ও সহিংস বক্তব্য দিয়েছেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির। সাবেক ইসরায়েলি বন্দি রোম ব্রাসলাভস্কির সঙ্গে এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে বেন গভির বলেন, গাজায় প্রতিদিন রাতে ইসরায়েলি বাহিনীর ৩০ থেকে ৪০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা উচিত।

পডকাস্ট চলাকালে ব্রাসলাভস্কি বেন গভিরের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিজে জল্লাদ হিসেবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে বেন গভির তা সানন্দে সমর্থন করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, "আমি এটি বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ব ওলটপালট করে দেব। আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি, এটি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।"

বেন গভিরের এই মন্তব্য বিশ্বজুড়ে চরম ক্ষোভের জন্ম দিলেও, পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি ইসরায়েলি বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার গভীর মানসিকতারই প্রতিফলন। ইসরায়েলি সমাজ ও সরকারের এক বড় অংশই ফিলিস্তিনিদের সম্পূর্ণ নির্মূলের নীতিতে বিশ্বাস করে। হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয় সেন্টারের পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ইসরায়েলি সরকারের সমর্থকদের ৮৭ শতাংশ মনে করে গাজায় "কোনো নির্দোষ নাগরিক নেই"। অন্যদিকে, সাধারণ ইসরায়েলিদের ৬৪ শতাংশই একই মতামত পোষণ করে। দেশটির বেশ কয়েকটি মূলধারার গণমাধ্যম গণহত্যায় নিহত সমস্ত ফিলিস্তিনিকে ঢালাওভাবে "সন্ত্রাসী" হিসেবে চিহ্নিত করে থাকে।

বেন গভিরের মন্তব্য গাজাকে কেন্দ্র করে হলেও, ইসরায়েলের উপনিবেশিক পরিকল্পনা কেবল গাজাতেই সীমাবদ্ধ নয়। অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ইসরায়েলি বাহিনী ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা প্রতিদিন ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে।

সম্প্রতি নাবলুসের দক্ষিণে রাস আল-আইনে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে অবরুদ্ধ করে তাদের বিদ্যুৎ, পানি ও খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর এরিকা গুয়েভারা রস এই ঘটনাকে "ইসরায়েল রাষ্ট্র দ্বারা সমর্থিত ও অর্থায়িত সংগঠিত বসতি স্থাপনকারী সন্ত্রাসের তরান্বিত রূপ" বলে আখ্যায়িত করেছেন।

ইসরায়েল প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করে আসলেও জাতিসংঘ এবং বিশ্বনেতারা কেবল আনুষ্ঠানিক নিন্দার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছেন। কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়ায় ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী চরম দায়মুক্তির সুবিধা পাচ্ছে।

বেন গভিরের মূল বক্তব্য হলো, ফিলিস্তিনিরা "বাঁচবার যোগ্য নয়, তারা মানুষই নয়।" এই ধরনের চরম অমানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতার সুযোগেই ডালপালা মেলছে। বিশ্ববিবেক যদি এখনো ফিলিস্তিনিদের রক্ষায় কঠোর ভূমিকা না নেয়, তবে এই নজিরবিহীন জাতিগত নিধন বন্ধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

বিষয় : ইসরায়েল হত্যা ফিলিস্তিনি তীব্র নিন্দা

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬


প্রতি রাতে ৪০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা উচিত: বেন গভিরের উসকানিমূলক মন্তব্যে বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গাজায় অব্যাহত গণহত্যার মধ্যেই ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির প্রতিদিন রাতে ৩০ থেকে ৪০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যার প্রকাশ্য আহ্বান জানিয়েছেন। সাবেক এক বন্দির সাথে আলাপচারিতায় তিনি এই নৃশংস মন্তব্য করেন এবং তা বাস্তবায়নে "দুনিয়া ওলটপালট" করে দেওয়ার হুমকি দেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের মন্তব্য কেবল কোনো ব্যক্তির বক্তব্য নয়, বরং ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান জাতিগত নিধন ও উপনিবেশবাদী আগ্রাসনের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।

গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান নির্বিচারে হামলার মধ্যেই চরম উসকানিমূলক ও সহিংস বক্তব্য দিয়েছেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির। সাবেক ইসরায়েলি বন্দি রোম ব্রাসলাভস্কির সঙ্গে এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে বেন গভির বলেন, গাজায় প্রতিদিন রাতে ইসরায়েলি বাহিনীর ৩০ থেকে ৪০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা উচিত।

পডকাস্ট চলাকালে ব্রাসলাভস্কি বেন গভিরের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিজে জল্লাদ হিসেবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে বেন গভির তা সানন্দে সমর্থন করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, "আমি এটি বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ব ওলটপালট করে দেব। আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি, এটি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।"

বেন গভিরের এই মন্তব্য বিশ্বজুড়ে চরম ক্ষোভের জন্ম দিলেও, পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি ইসরায়েলি বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার গভীর মানসিকতারই প্রতিফলন। ইসরায়েলি সমাজ ও সরকারের এক বড় অংশই ফিলিস্তিনিদের সম্পূর্ণ নির্মূলের নীতিতে বিশ্বাস করে। হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয় সেন্টারের পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ইসরায়েলি সরকারের সমর্থকদের ৮৭ শতাংশ মনে করে গাজায় "কোনো নির্দোষ নাগরিক নেই"। অন্যদিকে, সাধারণ ইসরায়েলিদের ৬৪ শতাংশই একই মতামত পোষণ করে। দেশটির বেশ কয়েকটি মূলধারার গণমাধ্যম গণহত্যায় নিহত সমস্ত ফিলিস্তিনিকে ঢালাওভাবে "সন্ত্রাসী" হিসেবে চিহ্নিত করে থাকে।

বেন গভিরের মন্তব্য গাজাকে কেন্দ্র করে হলেও, ইসরায়েলের উপনিবেশিক পরিকল্পনা কেবল গাজাতেই সীমাবদ্ধ নয়। অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ইসরায়েলি বাহিনী ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা প্রতিদিন ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে।

সম্প্রতি নাবলুসের দক্ষিণে রাস আল-আইনে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে অবরুদ্ধ করে তাদের বিদ্যুৎ, পানি ও খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর এরিকা গুয়েভারা রস এই ঘটনাকে "ইসরায়েল রাষ্ট্র দ্বারা সমর্থিত ও অর্থায়িত সংগঠিত বসতি স্থাপনকারী সন্ত্রাসের তরান্বিত রূপ" বলে আখ্যায়িত করেছেন।

ইসরায়েল প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করে আসলেও জাতিসংঘ এবং বিশ্বনেতারা কেবল আনুষ্ঠানিক নিন্দার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছেন। কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়ায় ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী চরম দায়মুক্তির সুবিধা পাচ্ছে।

বেন গভিরের মূল বক্তব্য হলো, ফিলিস্তিনিরা "বাঁচবার যোগ্য নয়, তারা মানুষই নয়।" এই ধরনের চরম অমানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতার সুযোগেই ডালপালা মেলছে। বিশ্ববিবেক যদি এখনো ফিলিস্তিনিদের রক্ষায় কঠোর ভূমিকা না নেয়, তবে এই নজিরবিহীন জাতিগত নিধন বন্ধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ