মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) ওয়াকফ এস্টেটের নিয়ন্ত্রণ ও হাইকোর্টের রিট নির্দেশনার পর জুমার নামাজের শেষে দুই পক্ষের ২ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন।

সিলেটে মাজার ওয়াকফ ও মসজিদের দানবাক্স নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত অন্তত ৩০


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৬

সিলেটে মাজার ওয়াকফ ও মসজিদের দানবাক্স নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত অন্তত ৩০

সিলেটের মোগলাবাজার থানার সিলাম চকের বাজার এলাকায় একটি ঐতিহাসিক মাজার ওয়াকফ এস্টেট, জামে মসজিদ ও প্রায় ৪০টি দোকান ঘর নিয়ন্ত্রণ এবং দানবাক্সের অর্থ বণ্টনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় তীব্র রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটেছে। ২১ আগস্ট ২০২৬, শুক্রবার জুমার নামাজের পর হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) জামে মসজিদ ও ঈদগাহের সামনে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহারে মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন ও সাত পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

কমিটি গঠন ও আইনি লড়াই কেন্দ্রিক বিরোধ স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) মাজার ওয়াকফ এস্টেট (ইসি নং-১২৭৩৫) পরিচালনা নিয়ে সিলাম শেখপাড়া এলাকার স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে দীর্ঘ দিন ধরেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দ্বন্দ চলছিল। গত ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয় হতে উক্ত এস্টেট পরিচালনায় ৯ সদস্যের একটি পরিচালনা কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। উক্ত কমিটিতে স্থানীয় সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিককে সভাপতি, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সহসভাপতি এবং ফজলু মিয়াকে মোতাওয়াল্লী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

তবে প্রশাসনিক এই অনুমোদনের বিরুদ্ধে শাহ আব্দুল মান্নান নামক এক স্থানীয় ব্যক্তি উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন (নং ১০৭৬৭/২৬) দায়ের করেন। গত ১৬ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মো. তাজরুল হোসাইনের দ্বৈত বেঞ্চে উক্ত রিটের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত ওয়াকফ প্রশাসনের অনুমোদিত কমিটি বহাল রাখলেও মোতাওয়াল্লী ফজলু মিয়ার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেন এবং আবেদ রাজাকে মাজার ও মসজিদের সার্বিক দায়িত্ব পালনের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা প্রদান করেন। এই আইনি রদবদলের পর থেকেই এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সুপ্ত উত্তেজনা চরম রূপ ধারণ করে।

জুমার নামাজের পর সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা ঘটনার দিন অর্থাৎ শুক্রবার বেলা ১টার দিকে জুমার নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে উভয় পক্ষের অনুসারীরা একই মসজিদে সমবেত হন। নামাজ শেষ হওয়া মাত্রই মসজিদের বাইরে ওয়াকফ এস্টেটের আর্থিক হিসাব, দোকান কোটার ভাড়া ও দানবাক্সের অর্থ তোলা নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। উপস্থিত সাধারণ মুসল্লিদের সামনেই এই তর্কাতর্কি দ্রুত হাতাহাতি এবং পরবর্তীতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুই পক্ষের সমর্থকরা লাঠিসোটা, ইটপাটকেল ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে পরস্পরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

সহিংসতার খবর পেয়ে মোগলাবাজার থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে তীব্র হামলার মুখে পড়ে পুলিশও। উত্তেজিত জনতা ও দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার মধ্যে পড়ে মোগলাবাজার থানার ওসি মো. মনির হোসেন এবং সাত জন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মারাত্মক আহত হন। সংঘর্ষের ফলে সিলেট-চণ্ডিপুল-বালাগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে তীব্র যানজট ও সাময়িক যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় মুরুব্বি ও অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স এসে প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতদের চিকিৎসা ও বর্তমান অবস্থা উক্ত সংঘর্ষে দুই পক্ষের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব, মোতাওয়াল্লী ফজলু মিয়া, শুয়েব আহমদ, আরিফুল হক রনি, লতিফুর রহমান মেহদি, শাহ আব্দুল মান্নান, শাহ আবুল ও শাহ সুমনসহ প্রায় ২৫ জন গ্রামবাসী রক্তাক্ত আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মনজুরুল আলম জানান, সার্বিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি পাহারা জোরদার করা হয়েছে। সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে শনিবার এশার নামাজের পর দুই পক্ষের প্রবীণ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে এক সালিশ বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে। এছাড়া সহিংসতার দায়ে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করছে পুলিশ।

বিষয় : সিলেট সংঘর্ষ মসজিদ মাজার

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


সিলেটে মাজার ওয়াকফ ও মসজিদের দানবাক্স নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত অন্তত ৩০

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সিলেটের মোগলাবাজার থানার সিলাম চকের বাজার এলাকায় একটি ঐতিহাসিক মাজার ওয়াকফ এস্টেট, জামে মসজিদ ও প্রায় ৪০টি দোকান ঘর নিয়ন্ত্রণ এবং দানবাক্সের অর্থ বণ্টনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় তীব্র রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটেছে। ২১ আগস্ট ২০২৬, শুক্রবার জুমার নামাজের পর হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) জামে মসজিদ ও ঈদগাহের সামনে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহারে মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন ও সাত পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

কমিটি গঠন ও আইনি লড়াই কেন্দ্রিক বিরোধ স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) মাজার ওয়াকফ এস্টেট (ইসি নং-১২৭৩৫) পরিচালনা নিয়ে সিলাম শেখপাড়া এলাকার স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে দীর্ঘ দিন ধরেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দ্বন্দ চলছিল। গত ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয় হতে উক্ত এস্টেট পরিচালনায় ৯ সদস্যের একটি পরিচালনা কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। উক্ত কমিটিতে স্থানীয় সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিককে সভাপতি, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সহসভাপতি এবং ফজলু মিয়াকে মোতাওয়াল্লী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

তবে প্রশাসনিক এই অনুমোদনের বিরুদ্ধে শাহ আব্দুল মান্নান নামক এক স্থানীয় ব্যক্তি উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন (নং ১০৭৬৭/২৬) দায়ের করেন। গত ১৬ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মো. তাজরুল হোসাইনের দ্বৈত বেঞ্চে উক্ত রিটের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত ওয়াকফ প্রশাসনের অনুমোদিত কমিটি বহাল রাখলেও মোতাওয়াল্লী ফজলু মিয়ার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেন এবং আবেদ রাজাকে মাজার ও মসজিদের সার্বিক দায়িত্ব পালনের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা প্রদান করেন। এই আইনি রদবদলের পর থেকেই এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সুপ্ত উত্তেজনা চরম রূপ ধারণ করে।

জুমার নামাজের পর সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা ঘটনার দিন অর্থাৎ শুক্রবার বেলা ১টার দিকে জুমার নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে উভয় পক্ষের অনুসারীরা একই মসজিদে সমবেত হন। নামাজ শেষ হওয়া মাত্রই মসজিদের বাইরে ওয়াকফ এস্টেটের আর্থিক হিসাব, দোকান কোটার ভাড়া ও দানবাক্সের অর্থ তোলা নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। উপস্থিত সাধারণ মুসল্লিদের সামনেই এই তর্কাতর্কি দ্রুত হাতাহাতি এবং পরবর্তীতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুই পক্ষের সমর্থকরা লাঠিসোটা, ইটপাটকেল ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে পরস্পরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

সহিংসতার খবর পেয়ে মোগলাবাজার থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে তীব্র হামলার মুখে পড়ে পুলিশও। উত্তেজিত জনতা ও দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার মধ্যে পড়ে মোগলাবাজার থানার ওসি মো. মনির হোসেন এবং সাত জন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মারাত্মক আহত হন। সংঘর্ষের ফলে সিলেট-চণ্ডিপুল-বালাগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে তীব্র যানজট ও সাময়িক যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় মুরুব্বি ও অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স এসে প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতদের চিকিৎসা ও বর্তমান অবস্থা উক্ত সংঘর্ষে দুই পক্ষের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব, মোতাওয়াল্লী ফজলু মিয়া, শুয়েব আহমদ, আরিফুল হক রনি, লতিফুর রহমান মেহদি, শাহ আব্দুল মান্নান, শাহ আবুল ও শাহ সুমনসহ প্রায় ২৫ জন গ্রামবাসী রক্তাক্ত আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মনজুরুল আলম জানান, সার্বিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি পাহারা জোরদার করা হয়েছে। সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে শনিবার এশার নামাজের পর দুই পক্ষের প্রবীণ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে এক সালিশ বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে। এছাড়া সহিংসতার দায়ে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করছে পুলিশ।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ