ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে ওড়ানো সাধারণ ঘুড়ি সীমান্তে ইসরায়েলি বসতিতে পড়ার অভিযোগে গাজাবাসীর ওপর নতুন করে তীব্র হামলা ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির হুমকি দিয়েছে নেতানিয়াহু প্রশাসন। ২৪ আগস্ট ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সামরিক প্রধানদের সাথে বৈঠক করে এই হুমকি দেন। কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি না থাকা সত্ত্বেও শিশুতোষ ঘুড়িকে বাহানা বানিয়ে আবারও চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তেল আবিব।
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান দমন-পীড়নের ধারাবাহিকতায় এবার ঘুড়ি ওড়ানোর ঘটনাকে অজুহাত বানিয়ে নতুন সামরিক অভিযান ও গণ-বাস্তুচ্যুতির হুমকি দিয়েছে তেল আবিবের উগ্র ডানপন্থি নেতানিয়াহু সরকার।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ, সেনাবাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ ইয়াল জামিরসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে এক জরুরি পরিস্থিতি মূল্যায়ন বৈঠক করেন। বৈঠকে দাবি করা হয়, গাজা থেকে ওড়ানো ঘুড়ি, ড্রোন এবং বেলুন সীমান্ত অতিক্রম করে ইসরায়েলি বসতিগুলোতে এসে পড়ছে।
নেতানিয়াহু ও তার সামরিক নেতৃত্ব হুমকি দিয়ে বলেছেন, গাজা থেকে এসব ঘুড়ি আসা অবিলম্বে বন্ধ না হলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী যেখান থেকে ঘুড়ি ওড়ানো হচ্ছে সেই এলাকাগুলোতে তীব্র ও বিধ্বংসী আক্রমণ চালাবে। একই সাথে সেসব এলাকার সাধারণ অধিবাসীদের জোরপূর্বক বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ বা বাস্তুচ্যুত করা হবে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এই হুমকিকে ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ড থেকে উৎখাত করার ইসরায়েলি বর্ণবাদী নীতিরই অংশ হিসেবে দেখছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গতকাল ইসরায়েলি গণমাধ্যমেই স্বীকার করা হয় যে, গাজায় শিশুরা কেবল আনন্দের জন্য ঘুড়ি ওড়াচ্ছিল, যা সীমান্ত পার হয়ে ইসরায়েলি বসতিগুলোতে গিয়ে পড়ে এবং সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে অযথা আতঙ্ক ছড়ায়। এমনকি খোদ ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রাথমিক তদন্তের পর নিশ্চিত করেছিল যে, উদ্ধার হওয়া ঘুড়িগুলোতে সন্দেহজনক বা বিপজ্জনক কোনো কিছুই পাওয়া যায়নি।
তা সত্ত্বেও চরমপন্থা ও ফিলিস্তিনি-বিদ্বেষী নীতি বজায় রেখে ইসরায়েলের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ সামরিক বাহিনীকে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ও আগ্রাসী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। নিরপরাধ শিশুদের খেলাধুলার মতো অতি সাধারণ একটি বিষয়কে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে আবারও হাজার হাজার পরিবারকে বাস্তুচ্যুত করার এই পাঁতারা বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় তুলেছে।
মতামত