শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

সংকট দশম বছরে পদার্পণে রাখাইনে সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ; মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান ১৬টি কূটনৈতিক মিশনের।

রোহিঙ্গা সংকটের ৯ বছর: ন্যায়বিচার ও প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

রোহিঙ্গা সংকটের ৯ বছর: ন্যায়বিচার ও প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যার পর বাংলাদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আশ্রয় নেওয়ার ৯ বছর পূর্ণ হয়ে সংকটটি দশম বছরে পদার্পণ করেছে। এ উপলক্ষে ২৫ আগস্ট ঢাকার যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও জাপানসহ ১৬টি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মিশন যৌথ বিবৃতি দিয়ে ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও রোহিঙ্গাদের আন্তর্জাতিক সমর্থনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। রাখাইন রাজ্যের অস্থিতিশীল পরিবেশের কারণে অবিলম্বে টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা জোরদার করা হয়েছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংস দমন-পীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর গণহারে আশ্রয় নেওয়ার নবম বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মিশন বৈশ্বিক এজেন্ডায় এই ইস্যু সচল রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। সংকটটি দশম বছরে গড়ালেও বিশ্ব সম্প্রদায় যাতে এই নিপীড়িত জনগোষ্ঠীকে ভুলে না যায়, সে লক্ষ্যে যৌথ পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে মিশনগুলো।

যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), কানাডা, জাপানসহ ১৬টি মিশনের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, "সংকট দশম বছরে পদার্পণ করায় আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে না যায়।" এতে বলা হয়, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের কণ্ঠস্বর বিশ্বমঞ্চে সোচ্চার করা, মিয়ানমার জান্তার অপরাধের ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশের কাঁধে পড়া বৈশ্বিক চাপের ভারসাম্য রক্ষা করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে।

বিবৃতিতে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে প্রায় এক দশক ধরে মানবিক আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘ বাস্তুচ্যুতি ও সীমাহীন কষ্টের মুখে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাহস, ধৈর্য ও মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা জানায় মিশনগুলো।

তবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অনুকূলে নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, রাখাইনজুড়ে সংঘাত তীব্র হচ্ছে, বেসামরিক অবকাঠামোতে বিমান হামলা বাড়ছে এবং মিয়ানমার সামরিক কর্তৃপক্ষের খাদ্য ও ত্রাণ অবরোধের কারণে মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এ অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশ ও অঞ্চলের অন্যান্য দেশে নতুন করে বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি বাড়ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে রোহিঙ্গারা প্রাণ হারাচ্ছে।

কূটনৈতিক মিশনগুলো সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, বর্তমানে স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত পরিবেশ নেই। টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হলে সংকটের মূল কারণগুলো নির্মূল করা, সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা ফেরানো এবং মিয়ানমারে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। علاوه بر این, রোহিঙ্গাদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেন তারা নিজ ভূমিতে ফিরে সমাজ ও জীবিকা পুনর্গঠন করতে পারে। মিশনগুলো বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বনির্ভরতা বাড়াতে সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে।

বিষয় : রোহিঙ্গা মিয়ানমার গণহত্যার

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


রোহিঙ্গা সংকটের ৯ বছর: ন্যায়বিচার ও প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যার পর বাংলাদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আশ্রয় নেওয়ার ৯ বছর পূর্ণ হয়ে সংকটটি দশম বছরে পদার্পণ করেছে। এ উপলক্ষে ২৫ আগস্ট ঢাকার যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও জাপানসহ ১৬টি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মিশন যৌথ বিবৃতি দিয়ে ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও রোহিঙ্গাদের আন্তর্জাতিক সমর্থনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। রাখাইন রাজ্যের অস্থিতিশীল পরিবেশের কারণে অবিলম্বে টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা জোরদার করা হয়েছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংস দমন-পীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর গণহারে আশ্রয় নেওয়ার নবম বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মিশন বৈশ্বিক এজেন্ডায় এই ইস্যু সচল রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। সংকটটি দশম বছরে গড়ালেও বিশ্ব সম্প্রদায় যাতে এই নিপীড়িত জনগোষ্ঠীকে ভুলে না যায়, সে লক্ষ্যে যৌথ পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে মিশনগুলো।

যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), কানাডা, জাপানসহ ১৬টি মিশনের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, "সংকট দশম বছরে পদার্পণ করায় আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে না যায়।" এতে বলা হয়, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের কণ্ঠস্বর বিশ্বমঞ্চে সোচ্চার করা, মিয়ানমার জান্তার অপরাধের ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশের কাঁধে পড়া বৈশ্বিক চাপের ভারসাম্য রক্ষা করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে।

বিবৃতিতে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে প্রায় এক দশক ধরে মানবিক আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘ বাস্তুচ্যুতি ও সীমাহীন কষ্টের মুখে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাহস, ধৈর্য ও মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা জানায় মিশনগুলো।

তবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অনুকূলে নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, রাখাইনজুড়ে সংঘাত তীব্র হচ্ছে, বেসামরিক অবকাঠামোতে বিমান হামলা বাড়ছে এবং মিয়ানমার সামরিক কর্তৃপক্ষের খাদ্য ও ত্রাণ অবরোধের কারণে মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এ অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশ ও অঞ্চলের অন্যান্য দেশে নতুন করে বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি বাড়ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে রোহিঙ্গারা প্রাণ হারাচ্ছে।

কূটনৈতিক মিশনগুলো সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, বর্তমানে স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত পরিবেশ নেই। টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হলে সংকটের মূল কারণগুলো নির্মূল করা, সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা ফেরানো এবং মিয়ানমারে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। علاوه بر این, রোহিঙ্গাদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেন তারা নিজ ভূমিতে ফিরে সমাজ ও জীবিকা পুনর্গঠন করতে পারে। মিশনগুলো বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বনির্ভরতা বাড়াতে সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ