মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

রাজধানীর পল্টনে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর পল্টন জোনের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত; দলীয় স্বার্থ নয়, ইসলাম ও দেশরক্ষায় আলেম-উলামারা ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান।

শাপলা চত্বরের আন্দোলন ঈমান ও আকিদা রক্ষার ঐতিহাসিক অধ্যায়


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শাপলা চত্বরের আন্দোলন ঈমান ও আকিদা রক্ষার ঐতিহাসিক অধ্যায়

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে তৌহিদী জনতার সমাবেশকে ঈমান-আকিদা ও ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষার আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাদ এশা পুরানা পল্টনের আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ঢাকা মহানগর পল্টন জোনের পরামর্শ সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় বক্তারা সংগঠনটিকে অরাজনৈতিক উল্লেখ করে ইসলাম, দেশ ও মানবতার কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

রাজধানীর পুরানা পল্টনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর পল্টন জোনের উদ্যোগে এক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শাইখুল হাদিস মুফতি সালাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজীর সঞ্চালনায় আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.) মিলনায়তনে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে আলেম-উলামা ও তৌহিদী জনতার ওপর তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের চরম দমন-পীড়ন ও কঠোর বাধা সত্ত্বেও সাধারণ মুসলমানরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর ইজ্জত এবং ইসলামের মর্যাদা রক্ষায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমেছিলেন। এই আন্দোলন বাংলাদেশের ইসলামী ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, হেফাজতে ইসলাম কোনো রাজনৈতিক দল নয়। এটি মূলত বাংলাদেশের সাধারণ মুসলিম ও তৌহিদী জনতার অধিকার রক্ষার একটি অরাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্ল্যাটফর্ম। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এটি দেশ, ইসলাম ও মানবতার কল্যাণে কাজ করে আসছে এবং কোনো দলীয় স্বার্থের কাছে নতি স্বীকার করেনি।

অন্যতম যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের আন্দোলনসহ দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে হেফাজতে ইসলাম অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। এমনকি ২০২৪ সালের স্বৈরাচারবিরোধী সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামেও সংগঠনের নেতাকর্মীরা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। বাংলাদেশের আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস পর্যালোচনা করতে গেলে হেফাজতে ইসলামের অবদানকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।

সভাপতির বক্তব্যে মুফতি সালাহ উদ্দিন বলেন, কতিপয় মহল থেকে হেফাজতে ইসলামকে রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে চিত্রায়িত করার অপচেষ্টা চালানো হয়, যা সম্পূর্ণ সত্যবর্জিত। সংগঠনটি তার নিজস্ব ধর্মীয় আদর্শ বজায় রেখেই আলেম-উলামা, মাদরাসা, মসজিদ এবং সাধারণ মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সোচ্চার থাকবে।

সভায় কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা সর্বস্তরের মুসলিম জনতাকে ইসলামের মৌলিক আকিদা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং জাতীয় শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, সহকারী মহাসচিব মুফতি আজহারুল ইসলাম, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি শামসুল ইসলাম জিলানীসহ শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর নেতারা উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

বিষয় : শাপলা চত্বর ঈমান ও আকিদা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শাপলা চত্বরের আন্দোলন ঈমান ও আকিদা রক্ষার ঐতিহাসিক অধ্যায়

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে তৌহিদী জনতার সমাবেশকে ঈমান-আকিদা ও ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষার আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাদ এশা পুরানা পল্টনের আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ঢাকা মহানগর পল্টন জোনের পরামর্শ সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় বক্তারা সংগঠনটিকে অরাজনৈতিক উল্লেখ করে ইসলাম, দেশ ও মানবতার কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

রাজধানীর পুরানা পল্টনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর পল্টন জোনের উদ্যোগে এক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শাইখুল হাদিস মুফতি সালাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজীর সঞ্চালনায় আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.) মিলনায়তনে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে আলেম-উলামা ও তৌহিদী জনতার ওপর তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের চরম দমন-পীড়ন ও কঠোর বাধা সত্ত্বেও সাধারণ মুসলমানরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর ইজ্জত এবং ইসলামের মর্যাদা রক্ষায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমেছিলেন। এই আন্দোলন বাংলাদেশের ইসলামী ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, হেফাজতে ইসলাম কোনো রাজনৈতিক দল নয়। এটি মূলত বাংলাদেশের সাধারণ মুসলিম ও তৌহিদী জনতার অধিকার রক্ষার একটি অরাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্ল্যাটফর্ম। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এটি দেশ, ইসলাম ও মানবতার কল্যাণে কাজ করে আসছে এবং কোনো দলীয় স্বার্থের কাছে নতি স্বীকার করেনি।

অন্যতম যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের আন্দোলনসহ দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে হেফাজতে ইসলাম অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। এমনকি ২০২৪ সালের স্বৈরাচারবিরোধী সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামেও সংগঠনের নেতাকর্মীরা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। বাংলাদেশের আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস পর্যালোচনা করতে গেলে হেফাজতে ইসলামের অবদানকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।

সভাপতির বক্তব্যে মুফতি সালাহ উদ্দিন বলেন, কতিপয় মহল থেকে হেফাজতে ইসলামকে রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে চিত্রায়িত করার অপচেষ্টা চালানো হয়, যা সম্পূর্ণ সত্যবর্জিত। সংগঠনটি তার নিজস্ব ধর্মীয় আদর্শ বজায় রেখেই আলেম-উলামা, মাদরাসা, মসজিদ এবং সাধারণ মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সোচ্চার থাকবে।

সভায় কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা সর্বস্তরের মুসলিম জনতাকে ইসলামের মৌলিক আকিদা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং জাতীয় শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, সহকারী মহাসচিব মুফতি আজহারুল ইসলাম, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি শামসুল ইসলাম জিলানীসহ শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর নেতারা উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ