বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

ইমেইলে মুসলিমদের দেশছাড়া করা ও গণহত্যার সরাসরি হুমকি; কানাডাজুড়ে বিস্তৃত তদন্তে নেমেছে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশসহ হেট ক্রাইম বিভাগ।

কানাডায় ৯টি মুসলিম স্কুলে গণহত্যার হুমকি: বাড়ানো হলো পুলিশি নিরাপত্তা


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কানাডায় ৯টি মুসলিম স্কুলে গণহত্যার হুমকি: বাড়ানো হলো পুলিশি নিরাপত্তা

কানাডার বিভিন্ন শহরের অন্তত ৯টি মুসলিম পরিচালিত স্কুলে ইমেইলের মাধ্যমে একযোগে গণহত্যার ও চরম সহিংসতার হুমকি দেওয়া হয়েছে। মুসলিমদের দেশত্যাগে বাধ্য করা বা হত্যার হুমকি সংবলিত এই বার্তা পাওয়ার পর দেশজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ ছড়াতে শুরু করে। ঘটনা অনুসন্ধানে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (RCMP) এবং একাধিক আঞ্চলিক পুলিশের হেট ক্রাইম ইউনিট তদন্ত শুরু করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মুসলিম শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সুরক্ষায় বিভিন্ন মসজিদ ও ইসলামিক স্কুলের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কানাডায় ক্রমবর্ধমান ইসলামোফোবিয়া ও বর্ণবাদী বিদ্বেষের এক ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। দেশটির মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন অব কানাডা (এমএসি) পরিচালিত নয়টি বেসরকারি স্কুলে একই ধরনের একটি বিদ্বেষমূলক ইমেইল পাঠানো হয়েছে, যেখানে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সহিংসতার হুমকি দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিবিসি নিউজের বরাতে জানা যায়, বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসার পরই অটোয়া, টরন্টো, লন্ডন ও ওয়াটারলু শহরজুড়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

হুমকিমূলক ইমেইলটিতে স্পষ্ট ভাষায় উগ্র ইসলামভীতি ও মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য ছিল। প্রেরক নিজেকে "জেহু, সিটিজেন ভিজিলেয়ান্টি" নামে পরিচয় দিয়ে দাবি করে যে, প্রচুর সংখ্যক কানাডিয়ান অস্ত্র হাতে তুলে নিতে প্রস্তুত। ইমেইলে অ্যালবার্টা প্রদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এক গণভোটের উল্লেখ করে বলা হয়, ফলাফলের তোয়াক্কা না করেই মুসলিমদের হয় দেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে, নয়তো হত্যা করা হবে।

হুমকির তীব্রতা এবং পরিধি বিবেচনা করে গ্রেটার টরন্টোর পিল রিজিয়নাল পুলিশ তাদের হেট ক্রাইম ইউনিটকে মাঠে নামিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় মসজিদ ও স্কুলগুলোর আশেপাশে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। অন্যদিকে লন্ডন পুলিশ সার্ভিস, ওয়াটারলু পুলিশ এবং অটোয়া পুলিশ পৃথকভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, হুমকি প্রদান, অপরাধমূলক নিপীড়ন এবং জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে মামলা ও তদন্ত এগোচ্ছে।

মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন অব কানাডার (এমএসি) মুখপাত্র নাবিল সুলতান জানান, অতীতে নানা সময়ে উগ্রপন্থীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন বিদ্বেষমূলক বার্তা আসলেও এত বিপুল সংখ্যক স্কুলে একযোগে এমন ভয়াবহ হুমকি এবারই প্রথম। অটোয়ার আবরার এলিমেন্টারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সালিম বলেন, "কোমলমতি শিশুদের ওপর এমন ভাষা ও সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি আমাদের স্তম্ভিত করেছে।"

পরিসংখ্যান অনুয়ায়ী, কানাডায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদ্বেষমূলক অপরাধ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। 'স্ট্যাটিস্টিক্স কানাডা'-র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে যেখানে রেকর্ড করা হেট ক্রাইম ছিল ১,৮১৭টি, ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪,৮৮২টিতে। একই সময়ে মুসলিমবিদ্বেষী অপরাধের সংখ্যা ৮৪টি থেকে বেড়ে ২২৯টিতে পৌঁছায়। ২০২১ সালে লন্ডন অনটোরিওতে আফজাল পরিবারের চার সদস্যকে পিকআপ ট্রাক চাপা দিয়ে সন্ত্রাসী হত্যার নির্মম ঘটনাটি এখনও কানাডার মুসলিম কমিউনিটির মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে রেখেছে।

কানাডার ইসলামোফোবিয়া সংক্রান্ত সাবেক বিশেষ প্রতিনিধি আমিরা এলগাওয়াবি রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের এক ফাঁকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রশাসনকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। স্থানীয় মুসলিম নেতারা ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় সরকার গঠিত পরামর্শক সংস্থার কার্যক্রম আরও জোরদার ও ফলপ্রসূ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিষয় : ইসলামোফোবিয়া কানাডা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


কানাডায় ৯টি মুসলিম স্কুলে গণহত্যার হুমকি: বাড়ানো হলো পুলিশি নিরাপত্তা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কানাডার বিভিন্ন শহরের অন্তত ৯টি মুসলিম পরিচালিত স্কুলে ইমেইলের মাধ্যমে একযোগে গণহত্যার ও চরম সহিংসতার হুমকি দেওয়া হয়েছে। মুসলিমদের দেশত্যাগে বাধ্য করা বা হত্যার হুমকি সংবলিত এই বার্তা পাওয়ার পর দেশজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ ছড়াতে শুরু করে। ঘটনা অনুসন্ধানে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (RCMP) এবং একাধিক আঞ্চলিক পুলিশের হেট ক্রাইম ইউনিট তদন্ত শুরু করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মুসলিম শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সুরক্ষায় বিভিন্ন মসজিদ ও ইসলামিক স্কুলের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কানাডায় ক্রমবর্ধমান ইসলামোফোবিয়া ও বর্ণবাদী বিদ্বেষের এক ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। দেশটির মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন অব কানাডা (এমএসি) পরিচালিত নয়টি বেসরকারি স্কুলে একই ধরনের একটি বিদ্বেষমূলক ইমেইল পাঠানো হয়েছে, যেখানে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সহিংসতার হুমকি দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিবিসি নিউজের বরাতে জানা যায়, বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসার পরই অটোয়া, টরন্টো, লন্ডন ও ওয়াটারলু শহরজুড়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

হুমকিমূলক ইমেইলটিতে স্পষ্ট ভাষায় উগ্র ইসলামভীতি ও মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য ছিল। প্রেরক নিজেকে "জেহু, সিটিজেন ভিজিলেয়ান্টি" নামে পরিচয় দিয়ে দাবি করে যে, প্রচুর সংখ্যক কানাডিয়ান অস্ত্র হাতে তুলে নিতে প্রস্তুত। ইমেইলে অ্যালবার্টা প্রদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এক গণভোটের উল্লেখ করে বলা হয়, ফলাফলের তোয়াক্কা না করেই মুসলিমদের হয় দেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে, নয়তো হত্যা করা হবে।

হুমকির তীব্রতা এবং পরিধি বিবেচনা করে গ্রেটার টরন্টোর পিল রিজিয়নাল পুলিশ তাদের হেট ক্রাইম ইউনিটকে মাঠে নামিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় মসজিদ ও স্কুলগুলোর আশেপাশে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। অন্যদিকে লন্ডন পুলিশ সার্ভিস, ওয়াটারলু পুলিশ এবং অটোয়া পুলিশ পৃথকভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, হুমকি প্রদান, অপরাধমূলক নিপীড়ন এবং জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে মামলা ও তদন্ত এগোচ্ছে।

মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন অব কানাডার (এমএসি) মুখপাত্র নাবিল সুলতান জানান, অতীতে নানা সময়ে উগ্রপন্থীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন বিদ্বেষমূলক বার্তা আসলেও এত বিপুল সংখ্যক স্কুলে একযোগে এমন ভয়াবহ হুমকি এবারই প্রথম। অটোয়ার আবরার এলিমেন্টারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সালিম বলেন, "কোমলমতি শিশুদের ওপর এমন ভাষা ও সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি আমাদের স্তম্ভিত করেছে।"

পরিসংখ্যান অনুয়ায়ী, কানাডায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদ্বেষমূলক অপরাধ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। 'স্ট্যাটিস্টিক্স কানাডা'-র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে যেখানে রেকর্ড করা হেট ক্রাইম ছিল ১,৮১৭টি, ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪,৮৮২টিতে। একই সময়ে মুসলিমবিদ্বেষী অপরাধের সংখ্যা ৮৪টি থেকে বেড়ে ২২৯টিতে পৌঁছায়। ২০২১ সালে লন্ডন অনটোরিওতে আফজাল পরিবারের চার সদস্যকে পিকআপ ট্রাক চাপা দিয়ে সন্ত্রাসী হত্যার নির্মম ঘটনাটি এখনও কানাডার মুসলিম কমিউনিটির মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে রেখেছে।

কানাডার ইসলামোফোবিয়া সংক্রান্ত সাবেক বিশেষ প্রতিনিধি আমিরা এলগাওয়াবি রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের এক ফাঁকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রশাসনকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। স্থানীয় মুসলিম নেতারা ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় সরকার গঠিত পরামর্শক সংস্থার কার্যক্রম আরও জোরদার ও ফলপ্রসূ করার আহ্বান জানিয়েছেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ