শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও অবরুদ্ধ গাজার নিপীড়িত ও ক্ষতিগ্রস্ত ভাইবোনদের প্রতি সংহতি জানিয়ে আফগানিস্তানের ঘোর প্রদেশের বাসিন্দারা সংগ্রহ করেছেন নগদ অর্থ।

অর্থনৈতিক সংকট সামলে গাজার পাশে আফগানিস্তান: পাঠাল সাড়ে ৪ লাখ আফগানি


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনৈতিক সংকট সামলে গাজার পাশে আফগানিস্তান: পাঠাল সাড়ে ৪ লাখ আফগানি

চরম অর্থনৈতিক মন্দা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের তীব্র সংকট সত্ত্বেও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আফগানিস্তানের ঘোর প্রদেশের সাধারণ বাসিন্দারা। স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগে তহবিল সংগ্রহ করে গাজার ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় পরিবারগুলোর জন্য সাড়ে চার লাখের বেশি নগদ আফগানি অর্থ পাঠিয়েছে তারা। এই সাহায্য ইতিমধ্যে অবরুদ্ধ গাজায় পৌঁছানোর পর সেখানকার অভাবগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে বিতরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দখলদার বাহিনীর সার্বিক অবরোধ ও অবিরাম হামলায় বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষের প্রতি ভ্রাতৃত্ব ও সমবেদনার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন আফগানিস্তানের কেন্দ্রস্থল ঘোর প্রদেশের বাসিন্দারা। নিজেদের নানামুখী অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা ও অভাব-অনটনকে পেছনে ফেলে ঘোর প্রদেশের সর্বস্তরের জনগণ একাট্টা হয়ে তহবিল সংগ্রহ অভিযানে অংশ নেন।

ঘোর প্রদেশের তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রধান মৌলভি আবদুল হাই জাইম নিশ্চিত করেছেন যে, স্থানীয় অধিবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সংগৃহীত মোট ৪ লাখ ৫৪ হাজার আফগানি (আফগান মুদ্রা) অর্থ সফলভাবে গাজায় পাঠানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবিক যোগাযোগ ও মাধ্যম ব্যবহার করে স্থানান্তরিত এই অর্থ গাজার ক্ষতিগ্রস্ত ও অসচ্ছল পরিবারের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

তথ্য কর্মকর্তা মৌলভি আবদুল হাই জাইম বলেন, "ঘোর প্রদেশের মানুষ নিজেরা কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে দিন কাটালেও গাজার নিপীড়িত ও সংকটাপন্ন ফিলিস্তিনি ভাইবোনদের কষ্ট তাদের গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। এই অর্থ সংগ্রহের প্রধান লক্ষ্য ছিল নির্যাতিত গাজাবাসীর প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রদর্শন এবং তাদের এই বার্তা দেওয়া যে—উম্মাহর এই কঠিন সময়ে আফগানিস্তানের জনগণ তাদের পাশে রয়েছে।"

সংগ্রহ অভিযানে শরিক হওয়া স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সাথে কথা বললে তারা জানান, বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহর ওপর যখন অবিচার ও নির্যাতন চলে, তখন ভৌগোলিক দূরত্ব বা নিজস্ব অভাব কোনো বাধা হতে পারে না। সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে তারা এই পুণ্যকাজে অংশ নিয়েছেন। তাদের আশা, এই সামান্য সহায়তা গাজার দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও জরুরি চাহিদা মেটাতে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দেবে।

মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আফগানদের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবিক সংহতির এক অনন্য প্রতীক হিসেবে দেখছেন। নিজেদের চরম দারিদ্র্য ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাজনিত সংকটের মাঝেও গাজার নির্যাতিত মানুষের জন্য আফগানদের এই আন্তরিক সাহায্য বিশ্ব মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের চিত্র ফুটিয়ে তোলে।

বিষয় : আফগানিস্তান গাজা ফিলিস্তিন ঘোর

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


অর্থনৈতিক সংকট সামলে গাজার পাশে আফগানিস্তান: পাঠাল সাড়ে ৪ লাখ আফগানি

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

চরম অর্থনৈতিক মন্দা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের তীব্র সংকট সত্ত্বেও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আফগানিস্তানের ঘোর প্রদেশের সাধারণ বাসিন্দারা। স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগে তহবিল সংগ্রহ করে গাজার ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় পরিবারগুলোর জন্য সাড়ে চার লাখের বেশি নগদ আফগানি অর্থ পাঠিয়েছে তারা। এই সাহায্য ইতিমধ্যে অবরুদ্ধ গাজায় পৌঁছানোর পর সেখানকার অভাবগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে বিতরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দখলদার বাহিনীর সার্বিক অবরোধ ও অবিরাম হামলায় বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষের প্রতি ভ্রাতৃত্ব ও সমবেদনার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন আফগানিস্তানের কেন্দ্রস্থল ঘোর প্রদেশের বাসিন্দারা। নিজেদের নানামুখী অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা ও অভাব-অনটনকে পেছনে ফেলে ঘোর প্রদেশের সর্বস্তরের জনগণ একাট্টা হয়ে তহবিল সংগ্রহ অভিযানে অংশ নেন।

ঘোর প্রদেশের তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রধান মৌলভি আবদুল হাই জাইম নিশ্চিত করেছেন যে, স্থানীয় অধিবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সংগৃহীত মোট ৪ লাখ ৫৪ হাজার আফগানি (আফগান মুদ্রা) অর্থ সফলভাবে গাজায় পাঠানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবিক যোগাযোগ ও মাধ্যম ব্যবহার করে স্থানান্তরিত এই অর্থ গাজার ক্ষতিগ্রস্ত ও অসচ্ছল পরিবারের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

তথ্য কর্মকর্তা মৌলভি আবদুল হাই জাইম বলেন, "ঘোর প্রদেশের মানুষ নিজেরা কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে দিন কাটালেও গাজার নিপীড়িত ও সংকটাপন্ন ফিলিস্তিনি ভাইবোনদের কষ্ট তাদের গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। এই অর্থ সংগ্রহের প্রধান লক্ষ্য ছিল নির্যাতিত গাজাবাসীর প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রদর্শন এবং তাদের এই বার্তা দেওয়া যে—উম্মাহর এই কঠিন সময়ে আফগানিস্তানের জনগণ তাদের পাশে রয়েছে।"

সংগ্রহ অভিযানে শরিক হওয়া স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সাথে কথা বললে তারা জানান, বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহর ওপর যখন অবিচার ও নির্যাতন চলে, তখন ভৌগোলিক দূরত্ব বা নিজস্ব অভাব কোনো বাধা হতে পারে না। সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে তারা এই পুণ্যকাজে অংশ নিয়েছেন। তাদের আশা, এই সামান্য সহায়তা গাজার দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও জরুরি চাহিদা মেটাতে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দেবে।

মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আফগানদের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবিক সংহতির এক অনন্য প্রতীক হিসেবে দেখছেন। নিজেদের চরম দারিদ্র্য ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাজনিত সংকটের মাঝেও গাজার নির্যাতিত মানুষের জন্য আফগানদের এই আন্তরিক সাহায্য বিশ্ব মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের চিত্র ফুটিয়ে তোলে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ