অবরুদ্ধ গাজা সিটির একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা আলী আল-আমুদিকে হত্যার ব্যর্থ উদ্দেশ্যে সুনির্দিষ্ট বিমান হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। ইসরায়েলি বাহিনীর এই টার্গেটেড হামলায় উদ্দেশ্য ব্যর্থ হলেও প্রাণ হারিয়েছেন দুই খ্রিস্টান নারীসহ একই পরিবারের ও আশেপাশের মোট ৫ জন ফিলিস্তিন নাগরিক। চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি এই আগ্রাসনে আরও ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক দল হামাসের দে ফাক্তো নেতা এবং শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আলী আল-আমুদিকে হত্যা করতে ব্যর্থ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী। সুনির্দিষ্ট টার্গেটে চালানো এই হামলায় হামাস নেতা বেঁচে গেলেও প্রাণ হারিয়েছেন এক খ্রিস্টান মা ও তার মেয়েসহ মোট পাঁচ ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক।
ইসরায়েলি আর্মি রেডিওর বরাত দিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার গভীর রাতে গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে এই হামলা চালানো হয়। কিন্তু সামরিক গোয়েন্দা সূত্রে ইসরায়েলি বাহিনী নিশ্চিত হয়েছে যে, আল-আমুদিকে হত্যার মিশনটি সম্ভবত ব্যর্থ হয়েছে। ইসরায়েলের ১২ নম্বর চ্যানেল জানিয়েছে, হামলার পর থেকে আল-আমুদির মৃত্যুর কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পায়নি দখলদার বাহিনী।
হামাসের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলি গণহত্যা শুরু হওয়ার আগে আলী আল-আমুদি সংগঠনটির প্রচার বিভাগ এবং রাজনৈতিক ব্যুরোর সিনিয়র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২৪ সালে সিনিয়র নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার এবং তার ডেপুটি রাওহি মুশতাহা শহীদ হওয়ার পর, আল-আমুদি গাজায় খলিল আল-হাইয়ার ডেপুটি হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হন। পরবর্তীকালে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে খলিল আল-হাইয়া হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হলে, আলী আল-আমুদি গাজায় দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
গাজার চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলে একটি আবাসিক ভবনে পরিচালিত এই পিনপয়েন্ট হামলায় যে পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে চারজনই নারী। নিহতরা হলেন মায়সা আবু দাউদ (৫৫) ও তার কন্যা মারিয়া আবু দাউদ (৩৬), যারা ফিলিস্তিনের প্রাচীন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্য। এছাড়া ইয়াসমিন আল-বউবু (৪৮), হালুম আল-বউবু (২৩) এবং বিলাল আলী ওউদা (২০) নামে আরও তিন বেসামরিক নাগরিক এতে প্রাণ হারান।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘন করে আসছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকেও ইসরায়েলি হামলায় ১,৪৩৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫,০৫২ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি খ্রিস্টান অধিকার কর্মীদের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি গণহত্যার ফলে গাজার মোট খ্রিস্টান জনসংখ্যার অন্তত ৩ শতাংশকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। সামগ্রিক পরিসংখ্যানে, গত তিন বছরে গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যায় ৭৪,০০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৭৫,০০০ এরও বেশি আহত হয়েছেন, যেখানে গাজার ৯০ শতাংশ অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকের মতে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ২,০০,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
মতামত