ভারতের উত্তর প্রদেশে প্রয়াগরাজ থেকে সাতনাগামী একটি ট্রেনে মুসলিম এক তরুণীকে হয়রানি ও জোরপূর্বক নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উগ্রপন্থী সংগঠন বজরং দলের বিরুদ্ধে। এক মুসলিম যুবকের সঙ্গে ভ্রমণের সময় বজরং দলের সদস্যরা তাঁদের পথ রোধ করে পরিচয়পত্র যাচাই করেন এবং হেনস্তা করেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ভারতের উত্তর প্রদেশের সাতনা রেলওয়ে স্টেশনে এক মুসলিম তরুণীকে হয়রানি এবং ট্রেন থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তরুণীটি প্রয়াগরাজ থেকে সাতনাগামী একটি ট্রেনে ভ্রমণ করছিলেন। সে সময় তাঁর সঙ্গে এক মুসলিম যুবকও ছিলেন।
তথ্যসূত্র থেকে জানা যায়, উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরং দলের কিছু সদস্য তাঁদের একসঙ্গে ভ্রমণ করতে দেখে দলবদ্ধভাবে এগিয়ে আসে এবং তাঁদের পরিচয় নিয়ে জেরা শুরু করে। পরিস্থিতি এমন একপর্যায়ে পৌঁছায় যে, জোরপূর্বক ওই তরুণীকে ট্রেন থেকে নামতে বাধ্য করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই পুরো ঘটনার সময় তরুণীর আধার কার্ডসহ ব্যক্তিগত নথিপত্র পরীক্ষা করা হয় এবং তাঁরা মুসলিম নিশ্চিত হওয়ার পরেই তাঁকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ব্যবহারকারীরা উগ্রপন্থী সংগঠনের এহেন বেআইনি আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেনি এবং দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।
এক্স (টুইটার)-এ উত্তর প্রদেশ পুলিশকে ট্যাগ করে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, "বজরং দলের লোকজন এই নাবালিকা মেয়েকে হয়রানি করেছে এবং রেলওয়ে পুলিশ নীরব দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে দেখেছে। কে তাদের কাগজপত্র পরীক্ষা করার অধিকার দিয়েছে? এটি একটি স্পষ্ট অপরাধ।"
আরেক ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, "কীভাবে এই ধরনের বেআইনি কাজ চলতে পারে? যে কেউ কি আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে পার পেয়ে যেতে পারে? এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে কবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে?"
তৃতীয় এক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলে বলেন, "এই উগ্র মানসিকতার লোকদের কে অর্থায়ন করছে? সারাদিন তারা ঘুরে বেড়ায় এবং নিরীহ মানুষকে হয়রানি করে।"
মতামত