বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

পারিবারিক অভিযোগ সত্ত্বেও মাঝরাতে উচ্চশব্দে বাজানো হয় ডিজে

দুর্গা মূর্তি বিসর্জনের উচ্চস্বরের ডিজে ও শব্দদূষণে ২ দিনের নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৬

দুর্গা মূর্তি বিসর্জনের উচ্চস্বরের ডিজে ও শব্দদূষণে ২ দিনের নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু

ভারতের উত্তরপ্রদেশের সিদ্ধার্থনগর জেলার বারহানি শহরে দুর্গা মূর্তি বিসর্জনের মিছিলে অনিয়ন্ত্রিত ও কানফাটা ডিজে মিউজিকের তাণ্ডবে মাত্র দু’দিন বয়সী এক মুসলিম নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত ২০ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ধেবারুয়া থানা এলাকার রাম জানাকী মন্দিরের কাছে। শিশুর পিতা জাভেদ মনিহারের অভিযোগ, বিকট শব্দ ও তীব্র কম্পনের কারণেই তাঁর সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।

ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী উৎসব-কেন্দ্রিক অপসংস্কৃতি এবং আবাসিক এলাকায় উচ্চশব্দের তাণ্ডবে আবারও এক নিরীহ মুসলিম পরিবারের স্বপ্ন চূর্ণ-বিচূর্ণ হলো। উত্তরপ্রদেশের সিদ্ধার্থনগর জেলার বারহানি শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ২ দিনের এক মুসলিম নবজাতকের প্রাণহানি ঘটেছে।

কী ঘটেছিল সেই রাতে

পরিবারের দেওয়া বিবরণ ও প্রাপ্ত প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত ১৮ অক্টোবর বারহানির প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শিশুটির জন্ম হয়। ১৯ অক্টোবর মা ও নবজাতককে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। ২০ অক্টোবর রাত ১১:৩০ টার দিকে স্থানীয় রাম জানাকী মন্দিরের পাশ দিয়ে দুর্গা মূর্তি বিসর্জনের একটি মিছিল যাচ্ছিল। মিছিল চলাকালীন একাধিক শক্তিশালী ডিজে বক্সে চরম উচ্চশব্দে গান বাজানোর প্রতিযোগিতা শুরু হয়।

শিশুটির পিতা জাভেদ মনিহার জানান, শব্দের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে পুরো বাড়ি থরথর করে কাঁপছিল। তীব্র শব্দ ও কম্পনের চোটে ঘরের চালের একাংশ (ছাদ/ছাজ্জা) ভেঙে পড়ে বলে পরিবার দাবি করেছে।

শিশুটির দাদা সাই মোহাম্মদ জানান, বিকট শব্দের মধ্যে মা যখন শিশুটিকে দুধ খাওয়াচ্ছিলেন, তখন সে বিকট শব্দে আতঙ্কে কান্নাকাটি শুরু করে এবং একপর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই শিশুটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগ, বিকট শব্দের আঘাত সহ্য করতে না পেরে নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ ও কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ

ঘটনার পর রাত আড়াইটার দিকে সোহরতগড় সার্কেল অফিসার মায়াঙ্ক দ্বিবেদী পুলিশ বাহিনী নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে দেখতে যান এবং আইনানুগ ব্যবস্থার আশ্বাস দেন। তবে পুলিশ দাবি করছে, শিশুটি আগেই কিছুটা অসুস্থ ছিল। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

নিয়মকানুন ও প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা

এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ভারতে ধর্মীয় মিছিলের নামে আবাসিক এলাকায় গভীর রাতে উচ্চশব্দে ডিজে বাজানোর আইনি নিষেধাজ্ঞাকে চরম বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর চিত্র উন্মোচন করেছে। ভারতের পরিবেশ সুরক্ষা আইন অনুযায়ী রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত উচ্চশব্দে মাইক বা ডিজে বক্স বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ঘটনার অনেক আগেই অর্থাৎ গত ৪ অক্টোবর স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দিয়ে গভীর রাতে উচ্চশব্দের ডিজে বন্ধের আবেদন জানিয়েছিলেন। এমনকি শান্তি কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি তোলা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন উগ্র উদযাপনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলো।

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, মুসলিম সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ও আবাসিক এলাকায় এ ধরনের বিশৃঙ্খল আড়ম্বর প্রদর্শন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নীরব ভূমিকা চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন বিচার ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করছে।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু শব্দদূষণ

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬


দুর্গা মূর্তি বিসর্জনের উচ্চস্বরের ডিজে ও শব্দদূষণে ২ দিনের নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তরপ্রদেশের সিদ্ধার্থনগর জেলার বারহানি শহরে দুর্গা মূর্তি বিসর্জনের মিছিলে অনিয়ন্ত্রিত ও কানফাটা ডিজে মিউজিকের তাণ্ডবে মাত্র দু’দিন বয়সী এক মুসলিম নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত ২০ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ধেবারুয়া থানা এলাকার রাম জানাকী মন্দিরের কাছে। শিশুর পিতা জাভেদ মনিহারের অভিযোগ, বিকট শব্দ ও তীব্র কম্পনের কারণেই তাঁর সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।

ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী উৎসব-কেন্দ্রিক অপসংস্কৃতি এবং আবাসিক এলাকায় উচ্চশব্দের তাণ্ডবে আবারও এক নিরীহ মুসলিম পরিবারের স্বপ্ন চূর্ণ-বিচূর্ণ হলো। উত্তরপ্রদেশের সিদ্ধার্থনগর জেলার বারহানি শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ২ দিনের এক মুসলিম নবজাতকের প্রাণহানি ঘটেছে।

কী ঘটেছিল সেই রাতে

পরিবারের দেওয়া বিবরণ ও প্রাপ্ত প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত ১৮ অক্টোবর বারহানির প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শিশুটির জন্ম হয়। ১৯ অক্টোবর মা ও নবজাতককে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। ২০ অক্টোবর রাত ১১:৩০ টার দিকে স্থানীয় রাম জানাকী মন্দিরের পাশ দিয়ে দুর্গা মূর্তি বিসর্জনের একটি মিছিল যাচ্ছিল। মিছিল চলাকালীন একাধিক শক্তিশালী ডিজে বক্সে চরম উচ্চশব্দে গান বাজানোর প্রতিযোগিতা শুরু হয়।

শিশুটির পিতা জাভেদ মনিহার জানান, শব্দের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে পুরো বাড়ি থরথর করে কাঁপছিল। তীব্র শব্দ ও কম্পনের চোটে ঘরের চালের একাংশ (ছাদ/ছাজ্জা) ভেঙে পড়ে বলে পরিবার দাবি করেছে।

শিশুটির দাদা সাই মোহাম্মদ জানান, বিকট শব্দের মধ্যে মা যখন শিশুটিকে দুধ খাওয়াচ্ছিলেন, তখন সে বিকট শব্দে আতঙ্কে কান্নাকাটি শুরু করে এবং একপর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই শিশুটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগ, বিকট শব্দের আঘাত সহ্য করতে না পেরে নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ ও কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ

ঘটনার পর রাত আড়াইটার দিকে সোহরতগড় সার্কেল অফিসার মায়াঙ্ক দ্বিবেদী পুলিশ বাহিনী নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে দেখতে যান এবং আইনানুগ ব্যবস্থার আশ্বাস দেন। তবে পুলিশ দাবি করছে, শিশুটি আগেই কিছুটা অসুস্থ ছিল। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

নিয়মকানুন ও প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা

এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ভারতে ধর্মীয় মিছিলের নামে আবাসিক এলাকায় গভীর রাতে উচ্চশব্দে ডিজে বাজানোর আইনি নিষেধাজ্ঞাকে চরম বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর চিত্র উন্মোচন করেছে। ভারতের পরিবেশ সুরক্ষা আইন অনুযায়ী রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত উচ্চশব্দে মাইক বা ডিজে বক্স বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ঘটনার অনেক আগেই অর্থাৎ গত ৪ অক্টোবর স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দিয়ে গভীর রাতে উচ্চশব্দের ডিজে বন্ধের আবেদন জানিয়েছিলেন। এমনকি শান্তি কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি তোলা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন উগ্র উদযাপনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলো।

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, মুসলিম সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ও আবাসিক এলাকায় এ ধরনের বিশৃঙ্খল আড়ম্বর প্রদর্শন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নীরব ভূমিকা চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন বিচার ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ