আজ পবিত্র মসজিদুল হারামে জুমার খুতবায় খতিব শায়খ ড. উসামা বিন আবদুল্লাহ খাইয়াত মুসলমানদের অন্তরের পরিশুদ্ধি ও আল্লাহর সন্তুষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করে গুরুত্বপূর্ণ নসিহত পেশ করেন।
তিনি তাঁর খুতবায় উল্লেখ করেন, আল্লাহ তাআলা মানবদেহের প্রতিটি অঙ্গের জন্য একটি নির্ধারিত পূর্ণতা দান করেছেন, যা তার জীবনের শক্তি ও সজীবতার উৎস। চোখের পূর্ণতা দৃষ্টিশক্তিতে, কানের পূর্ণতা শ্রবণশক্তিতে এবং জবান বা মুখের পূর্ণতা বাকশক্তিতে। আর মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ‘কলব’ বা অন্তরের মর্যাদা ও বিশালতা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—‘জেনে রেখো, শরীরের মধ্যে এমন একটি গোশতের টুকরো রয়েছে, যা সুস্থ থাকলে গোটা শরীর সুস্থ থাকে আর তা নষ্ট হয়ে গেলে গোটা শরীরই নষ্ট হয়ে যায়। সেটি হলো কলব বা অন্তর।’ (বুখারি ও মুসলিম)।
খতিব মহোদয় আরও জানান, দুনিয়ার সমস্ত সুখানুভূতির মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ও সর্বোচ্চ আনন্দ হলো মহান আল্লাহর পরিচয় লাভ এবং তাঁর মহব্বত অর্জন। এটিই মূলত দুনিয়ার জান্নাত ও প্রকৃত নেয়ামত। আর আখেরাতের সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত হলো জান্নাতে মহান প্রভুর দীদার লাভ ও তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন। আল্লাহর ভালোবাসা এবং তাঁর পরিচয়ের মাধ্যমেই কেবল চোখের শীতলতা, আত্মার তৃপ্তি এবং হৃদয়ের আনন্দ লাভ হতে পারে। অন্তর যদি আল্লাহর ভালোবাসা ও পরিচয় থেকে বঞ্চিত হয়, তবে তার ধ্বংস দেহের ধ্বংসের চেয়েও মারাত্মক—যা কেবল সুস্থ অন্তরের অধিকারীরাই উপলব্ধি করতে পারেন।
অন্তরের স্থায়িত্ব ও পূর্ণতা প্রসঙ্গে শায়খ খাইয়াত বলেন, বান্দা যখন নিজের সবকিছুর ওপর আল্লাহর ভালোবাসাকে প্রাধান্য দেয়, তখনই কেবল অন্তরের সঠিক ইস্তিকামত বা অবিচলতা অর্জিত হয়। যখনই আল্লাহর নির্দেশ এবং অন্য কোনো কিছুর ভালোবাসার মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, তখন মুমিন ব্যক্তি নিঃসংকোচে আল্লাহর নির্দেশ ও মহব্বতকেই অগ্রাধিকার দেন।
খুতবার শেষাংশে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে মানবজাতির হেদায়াতের জন্য পাঠানোর মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর আদেশ-নিষেধের নিকট আত্মসমর্পণ করা। আর তা কেবল আল্লাহর হুকুমকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁর না করা বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকার মাধ্যমেই সম্ভব। এর মাধ্যমেই মানুষ প্রকৃত সৎকর্মশীল ও খাঁটি মুমিন হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে।
মতামত