মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

বিএসএফের গুলিতে নিহত কিশোরীর বিচার আজও অধরা, আন্তর্জাতিক আদালতের আশায় পরিবার

ফেলানী হত্যার ১৫ বছর: সীমান্তে ঝুলে থাকা ন্যায়ের প্রতীক্ষা


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬

ফেলানী হত্যার ১৫ বছর: সীমান্তে ঝুলে থাকা ন্যায়ের প্রতীক্ষা

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে আলোচিত ফেলানী হত্যাকাণ্ডের ১৫ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১১ সালের এই দিনে বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারায় কিশোরী ফেলানী খাতুন। দীর্ঘ সময় কাঁটাতারে ঝুলে থাকা মরদেহ বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিলেও আজও সুষ্ঠু বিচার পায়নি তার পরিবার।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার অভিযোগে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় কিশোরী ফেলানী খাতুন। নিহত হওয়ার পর প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা কাঁটাতারে ঝুলে থাকে তার মরদেহ—যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ঘটনার পর অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের বিরুদ্ধে ভারতের বিশেষ আদালতে দুই দফা বিচার হলেও উভয় ক্ষেত্রেই তাকে খালাস দেওয়া হয়। এই রায় প্রত্যাখ্যান করে ফেলানীর পরিবার ভারতীয় মানবাধিকার সংগঠন ‘মাসুম’-এর সহায়তায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট আবেদন করে। তবে দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

ফেলানীর বাবা-মায়ের অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের কূটনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা ও রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়নি। তারা মনে করেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে জোরালো পদক্ষেপ নিলে এই হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারত।

বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে নতুন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে পরিবারটি। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আদালত বা আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে ফেলানী হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হোক।

বিশ্লেষকদের মতে, ফেলানী হত্যাকাণ্ড শুধু একটি সীমান্ত হত্যাই নয়—এটি দক্ষিণ এশিয়ায় মানবাধিকার, সীমান্ত নিরাপত্তা ও বিচারহীনতার একটি প্রতীক হয়ে উঠেছে।

বিষয় : ফেলানী

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


ফেলানী হত্যার ১৫ বছর: সীমান্তে ঝুলে থাকা ন্যায়ের প্রতীক্ষা

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে আলোচিত ফেলানী হত্যাকাণ্ডের ১৫ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১১ সালের এই দিনে বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারায় কিশোরী ফেলানী খাতুন। দীর্ঘ সময় কাঁটাতারে ঝুলে থাকা মরদেহ বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিলেও আজও সুষ্ঠু বিচার পায়নি তার পরিবার।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার অভিযোগে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় কিশোরী ফেলানী খাতুন। নিহত হওয়ার পর প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা কাঁটাতারে ঝুলে থাকে তার মরদেহ—যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ঘটনার পর অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের বিরুদ্ধে ভারতের বিশেষ আদালতে দুই দফা বিচার হলেও উভয় ক্ষেত্রেই তাকে খালাস দেওয়া হয়। এই রায় প্রত্যাখ্যান করে ফেলানীর পরিবার ভারতীয় মানবাধিকার সংগঠন ‘মাসুম’-এর সহায়তায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট আবেদন করে। তবে দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

ফেলানীর বাবা-মায়ের অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের কূটনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা ও রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়নি। তারা মনে করেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে জোরালো পদক্ষেপ নিলে এই হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারত।

বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে নতুন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে পরিবারটি। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আদালত বা আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে ফেলানী হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হোক।

বিশ্লেষকদের মতে, ফেলানী হত্যাকাণ্ড শুধু একটি সীমান্ত হত্যাই নয়—এটি দক্ষিণ এশিয়ায় মানবাধিকার, সীমান্ত নিরাপত্তা ও বিচারহীনতার একটি প্রতীক হয়ে উঠেছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ