রাজস্থানে বিজেপি সরকার কর্তৃক প্রস্তাবিত 'ডিস্টার্বড এরিয়াস বিল ২০২৬' নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের দাবি, দাঙ্গা বা অস্থিরতার সময় জোরপূর্বক সম্পত্তি বিক্রি রোধে এই আইন আনা হচ্ছে। তবে বিরোধী দল, মুসলিম সংগঠন এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর অভিযোগ, এই আইনের মাধ্যমে বিশেষ করে মুসলিম ও আদিবাসীদের টার্গেট করে তাদের আবাসন ও চলাচলের স্বাধীনতা খর্ব করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
রাজস্থান মন্ত্রিসভায় সম্প্রতি অনুমোদিত এই খসড়া বিলটির আনুষ্ঠানিক নাম 'রাজস্থান ডিস্টার্বড এরিয়াস (স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর নিষিদ্ধকরণ এবং উচ্ছেদ থেকে ভাড়াটেদের সুরক্ষা) বিল ২০২৬'। আসন্ন বাজেট অধিবেশনে এটি উত্থাপন করার কথা রয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, সরকার যেকোনো এলাকাকে ‘বিক্ষুব্ধ এলাকা’ (Disturbed Area) হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। এমন এলাকায় স্থাবর সম্পত্তি কেনাবেচা বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক হবে।
যদি কেউ সরকারের অনুমতি ছাড়া এই ধরনের এলাকায় সম্পত্তি লেনদেন করেন, তবে সেই লেনদেন অবৈধ বলে গণ্য হবে। আইন অমান্যকারীর তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী জোগারাম প্যাটেল জানান, কিছু এলাকায় নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জনতাত্ত্বিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। তিনি দাবি করেন, এর ফলে স্থায়ী বাসিন্দারা সমস্যায় পড়ছেন এবং অস্থিরতার সময় এই বিশেষ আইনের প্রয়োজন রয়েছে।
এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করে মুসলিম সংগঠনগুলো বলছে, ‘জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন’ বা ‘একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বৃদ্ধি’র মতো শব্দ ব্যবহার করে মূলত মুসলিমদের নিশানা করা হচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, এই আইন কার্যকর হলে মুসলিমরা সাধারণ এলাকায় ঘরবাড়ি কিনতে বাধাগ্রস্ত হবে এবং তারা নির্দিষ্ট কিছু ঘিঞ্জি এলাকায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে।
প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই বিলের কঠোর সমালোচনা করে জানিয়েছে, এটি বিজেপির সাম্প্রদায়িক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। আইনি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ‘বিক্ষুব্ধ এলাকা’র কোনো স্পষ্ট সংজ্ঞা বা মাপকাঠি না থাকলে প্রশাসন এই ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারে, যা সংখ্যালঘুদের মৌলিক অধিকার ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকারের পরিপন্থী।
বিজেপি সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও, সুশীল সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীরা মনে করছেন, এটি রাজস্থানের সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে।
মতামত