ইসরায়েলি দখলদারিত্বের দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে খুলতে যাচ্ছে গাজা ও মিসর সংযোগকারী রাফাহ সীমান্ত। মিসরীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমান্ত উন্মুক্ত হওয়ার সাথে সাথেই গাজার গুরুতর আহতদের গ্রহণ এবং মানবিক ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর জন্য তারা শতভাগ প্রস্তুত। চলমান যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে বিপর্যস্ত গাজাবাসীর জন্য এটি একটি বড় আশার আলো হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য একমাত্র বহির্গমন পথ রাফাহ সীমান্ত পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে জোরদার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে মিসর। উত্তর সিনাই প্রদেশের গভর্নর মেজর জেনারেল খালেদ মেজাওয়ার বুধবার রাতে এক টেলিভিশন ভাষণে নিশ্চিত করেছেন যে, সীমান্ত খোলার পর সম্ভাব্য সকল পরিস্থিতির জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছেন।
গভর্নর মেজাওয়ার জানান, কায়রোর কেন্দ্রীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কক্ষের সাথে সমন্বয় করে উত্তর সিনাই প্রশাসন কাজ করছে। তিনি বলেন, "আমরা গাজা থেকে আহতদের গ্রহণ এবং মানবিক ত্রাণ সামগ্রী ভেতরে পাঠানোর জন্য ১০০ শতাংশ প্রস্তুত। পরিস্থিতি অনুকূলে আসার সাথে সাথেই কার্যক্রম শুরু হবে।"
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের মে মাস থেকে ইসরায়েলি বাহিনী রাফাহ সীমান্তের ফিলিস্তিনি অংশ দখল করে রাখে, যার ফলে গাজায় ত্রাণ প্রবেশ এবং অসুস্থ রোগীদের বাইরে যাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ইসরায়েল প্রতিনিয়ত তা লঙ্ঘন করে চলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলোতে সীমান্ত খোলার তারিখ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ইসরায়েলি আর্মি রেডিও জানিয়েছে বৃহস্পতিবার সীমান্ত খুলতে পারে, আবার 'চ্যানেল ১২' এবং 'ওয়াল্লা' নিউজের মতে এটি আগামী রবিবার নাগাদ খুলতে পারে। তবে ইসরায়েলি সরকারি সম্প্রচার সংস্থা জানিয়েছে, প্রতিদিন কতজন মানুষ যাতায়াত করবে তা নিয়ে মিসর ও ইসরায়েলের মধ্যে এখনো কিছু মতবিরোধ রয়েছে।
বিগত দুই বছরের ভয়াবহ সংঘাতে গাজায় ৭১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। বর্তমানে গাজার প্রায় ২৪ লাখ মানুষ চরম খাদ্য ও চিকিৎসা সংকটে রয়েছেন। রাফাহ সীমান্ত খুলে দেওয়া হলে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মতামত