ভারতের মহারাষ্ট্রের যভতমাল জেলার উমরখেদ এলাকায় এক ভয়াবহ সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছেন দুই মুসলিম পরিবহন শ্রমিক। কেরালা থেকে মধ্যপ্রদেশ যাওয়ার পথে মহাসড়কে একদল দুষ্কৃতকারী তাদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালায়। বর্তমানে তারা গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনাটি আবারও ভারতের মহাসড়কগুলোতে সংখ্যালঘু ও পরিবহন শ্রমিকদের নিরাপত্তার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।
ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টিকে একটি 'অপরাধী চক্রের হামলা' হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পুলিশি ভাষ্যমতে, মহাসড়কে ছিনতাই বা আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে অপরাধী গোষ্ঠীগুলো প্রায়ই যানবাহন আটকে হামলা চালিয়ে থাকে। অভিযুক্ত সশস্ত্র দলটির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও, ঘটনার সময় তাদের উগ্র আচরণ এবং ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার সুপরিকল্পিত কোনো হামলার ইঙ্গিত দেয়। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে সমালোচকদের দাবি, মহাসড়কে নিরাপত্তা টহল জোরদার থাকলে নির্জন স্থানে দীর্ঘক্ষণ ধাওয়া করে এমন হামলা চালানো সম্ভব হতো না।
গত ২৪ এপ্রিল মহারাষ্ট্র-মধ্যপ্রদেশ সীমান্তবর্তী উমরখেদ থানা এলাকায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। কর্ণাটকের উডুপির সৈয়দ ওয়াজিদ আলীর মালিকানাধীন একটি ট্রাক (যা কেরালা থেকে আপেল নিয়ে মধ্যপ্রদেশ যাচ্ছিল) হামলার শিকার হয়। আক্রান্ত আলভিন পাইস (চালক) ম্যাঙ্গালুরুর বাসিন্দা, মোহাম্মদ নাদাফ নিসার কোরেশী (সহকারী হেলপার) থানের বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, সশস্ত্র গ্যাংটি ট্রাকটিকে কয়েক কিলোমিটার ধাওয়া করে। এরপর একটি নির্জন স্থানে ট্রাকটির গতিপথ রোধ করা হয়। হামলাকারীরা ধারালো ও ভারী অস্ত্র দিয়ে চালক ও সহকারীর মাথা, মুখ এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ি আঘাত করে। তাদের মৃত ভেবে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে হামলাকারীরা চলে যায়।
পরবর্তীতে স্থানীয় পথচারীরা তাদের উদ্ধার করে উমরখেদের একটি নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে, ওই হাসপাতালটি রোগীদের ভর্তি করতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলস্বরূপ, ৭০ কিলোমিটার দূরে যশোসাই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের চিকিৎসা শুরু হয়। এই বিলম্বের কারণে তাদের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে।
ভারতের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, মহাসড়কে সংখ্যালঘু শ্রমিকদের লক্ষ্য করে ক্রমবর্ধমান হামলা এবং পরবর্তীতে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা না পাওয়া মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেকোনো জরুরি অবস্থায় হাসপাতাল চিকিৎসা দিতে বাধ্য। উমরখেদ হাসপাতাল কেন চিকিৎসায় অস্বীকৃতি জানাল, তা নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তুলেছেন পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নগুলো। এছাড়া, অপরাধীদের বিরুদ্ধে 'হত্যাচেষ্টা' মামলা দায়ের করে দ্রুত গ্রেফতার নিশ্চিত করা প্রশাসনের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব।
মতামত