শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
কওমী টাইমস

উত্তরপ্রদেশের রামপুরে জৌহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি ভবন উচ্ছেদের পাঁয়তারার বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি; শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

জৌহর বিশ্ববিদ্যালয় ভাঙার চেষ্টার বিরোধিতা মাওলানা আরশাদ মাদানির: ‘বুলডোজার নয়, আইনি প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখুন’



জৌহর বিশ্ববিদ্যালয় ভাঙার চেষ্টার বিরোধিতা মাওলানা আরশাদ মাদানির: ‘বুলডোজার নয়, আইনি প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখুন’

ভারতের উত্তরপ্রদেশের রামপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মোহাম্মদ আলী জৌহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রশাসনিক উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় মুসলিম সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি। শনিবার লখনউয়ে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানান, যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা কখনোই প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে না। কোনো আইনি জটিলতা থাকলে তা সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহ্যবাহী স্মৃতি রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়টির সুরক্ষার জোর দাবি জানান তিনি।

ভারতের উত্তরপ্রদেশ সরকারের অধীনে রামপুরের মোহাম্মদ আলী জৌহর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবন ভাঙার প্রস্তাবিত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি। লখনউয়ে আয়োজিত ‘সাম্প্রদায়িকতা ও বিদ্বেষবিরোধী হিন্দু-মুসলিম প্রীতি কনভেনশন’-এর ফাঁকে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ঐতিহ্যের অবমাননা

মাওলানা আরশাদ মাদানি বিষয়টিকে একটি রাজনৈতিক চক্রান্ত হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “আপনাদের বুঝতে হবে এটি পুরোপুরি একটি রাজনৈতিক বিষয়। আজম খান একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, তাঁর সাথে আমার মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু যার নামে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই মাওলানা মোহাম্মদ আলী জৌহর ছিলেন এই দেশের একজন মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী। তাঁর নামাঙ্কিত প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া অনুচিত।”

বুলডোজার নীতি নয়, আইনি মীমাংসা প্রয়োজন

বিশ্ববিদ্যালয় ভবনের নির্মাণে আইনি ত্রুটি বা অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে জমিয়ত প্রধান সতর্ক করে বলেন, “যদি কেউ অবৈধভাবে কোনো ভবন নির্মাণও করে থাকে, তবে সেই ভবন ধ্বংস করে দেওয়াই একমাত্র সমাধান হতে পারে না। সেখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে, জ্ঞান অর্জন করছে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব।”

তিনি আরও যোগ করেন, আদালতের মাধ্যমে যদি কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তবে সরকার আইন অনুযায়ী জরিমানা বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারে, কিন্তু হাজার কোটি টাকার জাতীয় সম্পদ গুঁড়িয়ে দেওয়া কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের কাজ হতে পারে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, উচ্চ আদালত এমনকি প্রয়োজন হলে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত আইনি লড়াই চূড়ান্ত হওয়ার আগে কোনো ধরনের চরম বা অপূরণীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা বন্ধ রাখতে হবে।

সম্প্রীতির বার্তা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে আহ্বান

কনভেনশনে বক্তব্য রাখার সময় মাওলানা আরশাদ মাদানি মুসলিম সমাজকে অন্যান্য ধর্মের মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “বিদ্বেষের আগুন কখনোই বিদ্বেষ দিয়ে নেভানো যায় না। ভালোবাসার শীতল স্পর্শই কেবল এই আগুন নেভাতে পারে। অনাবিল প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বই আমাদের অস্ত্র।”

তিনি মুসলিমদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা অমুসলিম প্রতিবেশীদের মাদরাসায় আমন্ত্রণ জানান, যাতে ইসলাম ও মুসলিমদের সম্পর্কে উগ্রপন্থীদের ছড়ানো ভুল ধারণাগুলো দূর হয়। সেই সাথে বিপদে-আপদে অমুসলিম প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়িয়ে ইসলামের প্রকৃত আদর্শ ফুটিয়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ও নাগরিক সমাজের সংহতি

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ ও জমিয়তে উলামায়ে উত্তরপ্রদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে প্রখ্যাত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং, বারাণসির সংকট মোচন হনুমান মন্দিরের মহন্ত প্রফেসর বিশ্বম্ভর নাথ মিশ্র এবং খ্রিস্টান, শিখ ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সম্মেলনে প্রখ্যাত মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং পিটিয়ে হত্যা (মব লিঞ্চিং), রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বুলডোজার সংস্কৃতি এবং ঘৃণাভিত্তিক অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া মাওলানা সুফিয়ান নিজামী জৌহর বিশ্ববিদ্যালয় ভাঙার ষড়যন্ত্রের সমালোচনা করে বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধর্মের ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশোনা করে, তাই রাজনীতিকে শিক্ষার আঙিনা থেকে দূরে রাখা উচিত।

বিষয় : ভারত মাওলানা আরশাদ মাদানি

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬


জৌহর বিশ্ববিদ্যালয় ভাঙার চেষ্টার বিরোধিতা মাওলানা আরশাদ মাদানির: ‘বুলডোজার নয়, আইনি প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখুন’

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তরপ্রদেশের রামপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মোহাম্মদ আলী জৌহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রশাসনিক উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় মুসলিম সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি। শনিবার লখনউয়ে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানান, যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা কখনোই প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে না। কোনো আইনি জটিলতা থাকলে তা সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহ্যবাহী স্মৃতি রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়টির সুরক্ষার জোর দাবি জানান তিনি।

ভারতের উত্তরপ্রদেশ সরকারের অধীনে রামপুরের মোহাম্মদ আলী জৌহর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবন ভাঙার প্রস্তাবিত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি। লখনউয়ে আয়োজিত ‘সাম্প্রদায়িকতা ও বিদ্বেষবিরোধী হিন্দু-মুসলিম প্রীতি কনভেনশন’-এর ফাঁকে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ঐতিহ্যের অবমাননা

মাওলানা আরশাদ মাদানি বিষয়টিকে একটি রাজনৈতিক চক্রান্ত হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “আপনাদের বুঝতে হবে এটি পুরোপুরি একটি রাজনৈতিক বিষয়। আজম খান একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, তাঁর সাথে আমার মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু যার নামে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই মাওলানা মোহাম্মদ আলী জৌহর ছিলেন এই দেশের একজন মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী। তাঁর নামাঙ্কিত প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া অনুচিত।”

বুলডোজার নীতি নয়, আইনি মীমাংসা প্রয়োজন

বিশ্ববিদ্যালয় ভবনের নির্মাণে আইনি ত্রুটি বা অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে জমিয়ত প্রধান সতর্ক করে বলেন, “যদি কেউ অবৈধভাবে কোনো ভবন নির্মাণও করে থাকে, তবে সেই ভবন ধ্বংস করে দেওয়াই একমাত্র সমাধান হতে পারে না। সেখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে, জ্ঞান অর্জন করছে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব।”

তিনি আরও যোগ করেন, আদালতের মাধ্যমে যদি কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তবে সরকার আইন অনুযায়ী জরিমানা বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারে, কিন্তু হাজার কোটি টাকার জাতীয় সম্পদ গুঁড়িয়ে দেওয়া কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের কাজ হতে পারে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, উচ্চ আদালত এমনকি প্রয়োজন হলে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত আইনি লড়াই চূড়ান্ত হওয়ার আগে কোনো ধরনের চরম বা অপূরণীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা বন্ধ রাখতে হবে।

সম্প্রীতির বার্তা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে আহ্বান

কনভেনশনে বক্তব্য রাখার সময় মাওলানা আরশাদ মাদানি মুসলিম সমাজকে অন্যান্য ধর্মের মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “বিদ্বেষের আগুন কখনোই বিদ্বেষ দিয়ে নেভানো যায় না। ভালোবাসার শীতল স্পর্শই কেবল এই আগুন নেভাতে পারে। অনাবিল প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বই আমাদের অস্ত্র।”

তিনি মুসলিমদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা অমুসলিম প্রতিবেশীদের মাদরাসায় আমন্ত্রণ জানান, যাতে ইসলাম ও মুসলিমদের সম্পর্কে উগ্রপন্থীদের ছড়ানো ভুল ধারণাগুলো দূর হয়। সেই সাথে বিপদে-আপদে অমুসলিম প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়িয়ে ইসলামের প্রকৃত আদর্শ ফুটিয়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ও নাগরিক সমাজের সংহতি

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ ও জমিয়তে উলামায়ে উত্তরপ্রদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে প্রখ্যাত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং, বারাণসির সংকট মোচন হনুমান মন্দিরের মহন্ত প্রফেসর বিশ্বম্ভর নাথ মিশ্র এবং খ্রিস্টান, শিখ ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সম্মেলনে প্রখ্যাত মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং পিটিয়ে হত্যা (মব লিঞ্চিং), রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বুলডোজার সংস্কৃতি এবং ঘৃণাভিত্তিক অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া মাওলানা সুফিয়ান নিজামী জৌহর বিশ্ববিদ্যালয় ভাঙার ষড়যন্ত্রের সমালোচনা করে বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধর্মের ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশোনা করে, তাই রাজনীতিকে শিক্ষার আঙিনা থেকে দূরে রাখা উচিত।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ