আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ 'হোরমুজ প্রণালী'কে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্কিত মানচিত্র পোস্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিত্রে জলপথটিকে "নতুন মার্কিন ভূখণ্ড" (New US Territory) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ জোরদারের খবরের মধ্যেই ট্রাম্পের এই উসকানিমূলক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক মার্জিতবোধকে তোয়াক্কা না করে মধ্যপ্রাচ্যের অতিসংবেদনশীল জলপথ 'হোরমুজ প্রণালী' নিয়ে ফের উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে হোরমুজ প্রণালীকে "যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূখণ্ড" হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এর মাত্র কয়েকদিন আগেই এক বক্তব্যে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, তিনি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালীটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ বলে ঘোষণা করবেন। গত ১৪ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন নৌবাহিনী হোরমুজ প্রণালীতে সম্পূর্ণ অবরোধ বজায় রাখছে। তিনি বলেন, "ইরানকে পরাজিত করার পর—যা খুব দ্রুতই ঘটতে যাচ্ছে—আমি হোরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব।" অন্য এক পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, এই প্রণালীর ওপর ওয়াশিংটনের "পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ" রয়েছে।
ইরানের কঠোর অবস্থান
ট্রাম্পের এই আগ্রাসী ও ভূখন্ড দখলের মানসিকতার চরম বিরোধিতা করেছে ইরান। তেহরানের কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ সামরিক হস্তক্ষেপ ও নৌ অবরোধ অবিলম্বে বন্ধ না হলে এবং ১৭ জুনের দ্বিপক্ষীয় চুক্তির শর্তাবলী ওয়াশিংটন পূর্ণাঙ্গভাবে না মানলে হোরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে না।
উপনিবেশবাদী আগ্রাসনের নতুন রূপ
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের মোট খনিজ তেলের উল্লেখযোগ্য অংশ পরিবহন হওয়া এই আন্তর্জাতিক জলপথকে নিজের ভূখণ্ড দাবি করা স্পষ্টত সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের নগ্ন প্রকাশ। ট্রাম্প প্রশাসনের এমন অস্থিতিশীল নীতি পুরো অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে। আন্তর্জাতিক মহলের নীরবতা ওয়াশিংটনকে এই ধরনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের দুঃসাহস জোগাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ 'হোরমুজ প্রণালী'কে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্কিত মানচিত্র পোস্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিত্রে জলপথটিকে "নতুন মার্কিন ভূখণ্ড" (New US Territory) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ জোরদারের খবরের মধ্যেই ট্রাম্পের এই উসকানিমূলক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক মার্জিতবোধকে তোয়াক্কা না করে মধ্যপ্রাচ্যের অতিসংবেদনশীল জলপথ 'হোরমুজ প্রণালী' নিয়ে ফের উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে হোরমুজ প্রণালীকে "যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূখণ্ড" হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এর মাত্র কয়েকদিন আগেই এক বক্তব্যে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, তিনি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালীটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ বলে ঘোষণা করবেন। গত ১৪ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন নৌবাহিনী হোরমুজ প্রণালীতে সম্পূর্ণ অবরোধ বজায় রাখছে। তিনি বলেন, "ইরানকে পরাজিত করার পর—যা খুব দ্রুতই ঘটতে যাচ্ছে—আমি হোরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব।" অন্য এক পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, এই প্রণালীর ওপর ওয়াশিংটনের "পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ" রয়েছে।
ইরানের কঠোর অবস্থান
ট্রাম্পের এই আগ্রাসী ও ভূখন্ড দখলের মানসিকতার চরম বিরোধিতা করেছে ইরান। তেহরানের কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ সামরিক হস্তক্ষেপ ও নৌ অবরোধ অবিলম্বে বন্ধ না হলে এবং ১৭ জুনের দ্বিপক্ষীয় চুক্তির শর্তাবলী ওয়াশিংটন পূর্ণাঙ্গভাবে না মানলে হোরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে না।
উপনিবেশবাদী আগ্রাসনের নতুন রূপ
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের মোট খনিজ তেলের উল্লেখযোগ্য অংশ পরিবহন হওয়া এই আন্তর্জাতিক জলপথকে নিজের ভূখণ্ড দাবি করা স্পষ্টত সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের নগ্ন প্রকাশ। ট্রাম্প প্রশাসনের এমন অস্থিতিশীল নীতি পুরো অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে। আন্তর্জাতিক মহলের নীরবতা ওয়াশিংটনকে এই ধরনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের দুঃসাহস জোগাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত লিখুন