শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

সৌদি আরবে ১২ বছরের উপার্জিত অর্থ হারিয়ে অসুস্থ অবস্থায় রাস্তায় পরিত্যক্ত প্রবাসী জামাল উদ্দিন মারা গেছেন; স্বজনদের অবহেলার পর গ্রামবাসীর চাঁদায় শেষ দাফন সম্পন্ন।

টাঙ্গাইলে নির্মমতার শিকার সেই প্রবাসীর করুণ মৃত্যু: শেষ বিদায়েও গ্রামবাসীর সামাজিক সহানুভূতি


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

টাঙ্গাইলে নির্মমতার শিকার সেই প্রবাসীর করুণ মৃত্যু: শেষ বিদায়েও গ্রামবাসীর সামাজিক সহানুভূতি

টাঙ্গাইলের সখীপুরে দুটি কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ার পর পরিবারের নির্মম অবহেলার শিকার প্রবাসী জামাল উদ্দিন (৫৫) অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মেনেছেন। সোমবার (১৮ আগস্ট) কালমেঘা গ্রামে ভাতিজি ইসমত আরার বাড়িতে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ১২ বছর প্রবাসে থেকে অর্জিত সমস্ত অর্থ স্ত্রীর নামে পাঠালেও শেষ বয়সে কঠিন অসুস্থতায় তাকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে চরম মানবিক ক্ষোভ ও বেদনার জন্ম দিয়েছে।

মানুষের নিষ্ঠুরতা এবং সামাজিক মানবিকতার এক বিষাদময় চরম চিত্র ফুটে উঠেছে টাঙ্গাইলের সখীপুরে। জীবনসন্ধ্যায় চরম অসহায় অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যাওয়া আলোচিত প্রবাসী জামাল উদ্দিন (৫৫) আর বেঁচে নেই। সোমবার (১৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে কালমেঘা গ্রামে ভাতিজির বাড়িতে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

দীর্ঘ ১২ বছর সৌদি আরবে রক্তপানি করা শ্রমে উপার্জিত সমস্ত অর্থ তিনি দেশে নিজ স্ত্রীর নামে পাঠাতেন। কিন্তু প্রায় তিন মাস আগে দুটি কিডনি অকেজো হয়ে মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফেরার পর শুরু হয় তার জীবনের চরম করুণ অধ্যায়। জামাল উদ্দিনের ভাই আবদুল জলিলের অভিযোগ অনুযায়ী, পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার বদলে তার স্ত্রী ও সন্তানরা অসুস্থ জামালের চিকিৎসা বা দেখভাল করতে অস্বীকার করেন।

ঘটনার চরম প্রকাশ ঘটে গত ১ আগস্ট গভীর রাতে। অভিযোগ উঠে, জামালের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা তাকে কালমেঘা এলাকায় তার পৈতৃক ভিটার নিকটবর্তী নির্জন রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যান। পরদিন স্থানীয় লোকজন তাকে অসহায় অবস্থায় উদ্ধার করে ভাতিজির বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর গ্রামবাসীর নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে সংগৃহীত অর্থে ৪ আগস্ট জামালকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তবে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে শুক্রবার তাকে পুনরায় ভাতিজির বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়, যেখানে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আইনগত বিষয়ের দোহাই দিয়ে জামালের স্ত্রী রিনা আক্তার দাবি করেন, তিনি আড়াই মাস আগেই জামালকে তালাক দিয়েছেন এবং আইনগতভাবে স্বামী না থাকায় তাকে গ্রামের বাড়িতে রেখে আসা হয়েছিল। জানা যায়, প্রায় ২২ বছর আগে জামাল নিজের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে গাজীপুরের শ্রীপুরে স্ত্রীর বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিলেন। কিন্তু জীবনের শেষ মুহূর্তে সেই আশ্রয় ও পরিবার—দুই-ই তাকে নির্মমভাবে ত্যাগ করে।

বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নূরে আলম জানিয়েছেন, জীবিত থাকা অবস্থায় চিকিৎসার খরচ যেমন গ্রামবাসী চাঁদা তুলে বহন করেছিল, ঠিক তেমনি এই অবহেলিত প্রবাসীর শেষ বিদায়ে দাফনের সমস্ত ব্যবস্থাও গ্রামবাসীর নিজস্ব উদ্যোগে সম্পন্ন করা হচ্ছে।

বিষয় : মৃত্যু নির্মমতার শিকার টাঙ্গাইল

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


টাঙ্গাইলে নির্মমতার শিকার সেই প্রবাসীর করুণ মৃত্যু: শেষ বিদায়েও গ্রামবাসীর সামাজিক সহানুভূতি

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

টাঙ্গাইলের সখীপুরে দুটি কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ার পর পরিবারের নির্মম অবহেলার শিকার প্রবাসী জামাল উদ্দিন (৫৫) অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মেনেছেন। সোমবার (১৮ আগস্ট) কালমেঘা গ্রামে ভাতিজি ইসমত আরার বাড়িতে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ১২ বছর প্রবাসে থেকে অর্জিত সমস্ত অর্থ স্ত্রীর নামে পাঠালেও শেষ বয়সে কঠিন অসুস্থতায় তাকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে চরম মানবিক ক্ষোভ ও বেদনার জন্ম দিয়েছে।

মানুষের নিষ্ঠুরতা এবং সামাজিক মানবিকতার এক বিষাদময় চরম চিত্র ফুটে উঠেছে টাঙ্গাইলের সখীপুরে। জীবনসন্ধ্যায় চরম অসহায় অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যাওয়া আলোচিত প্রবাসী জামাল উদ্দিন (৫৫) আর বেঁচে নেই। সোমবার (১৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে কালমেঘা গ্রামে ভাতিজির বাড়িতে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

দীর্ঘ ১২ বছর সৌদি আরবে রক্তপানি করা শ্রমে উপার্জিত সমস্ত অর্থ তিনি দেশে নিজ স্ত্রীর নামে পাঠাতেন। কিন্তু প্রায় তিন মাস আগে দুটি কিডনি অকেজো হয়ে মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফেরার পর শুরু হয় তার জীবনের চরম করুণ অধ্যায়। জামাল উদ্দিনের ভাই আবদুল জলিলের অভিযোগ অনুযায়ী, পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার বদলে তার স্ত্রী ও সন্তানরা অসুস্থ জামালের চিকিৎসা বা দেখভাল করতে অস্বীকার করেন।

ঘটনার চরম প্রকাশ ঘটে গত ১ আগস্ট গভীর রাতে। অভিযোগ উঠে, জামালের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা তাকে কালমেঘা এলাকায় তার পৈতৃক ভিটার নিকটবর্তী নির্জন রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যান। পরদিন স্থানীয় লোকজন তাকে অসহায় অবস্থায় উদ্ধার করে ভাতিজির বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর গ্রামবাসীর নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে সংগৃহীত অর্থে ৪ আগস্ট জামালকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তবে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে শুক্রবার তাকে পুনরায় ভাতিজির বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়, যেখানে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আইনগত বিষয়ের দোহাই দিয়ে জামালের স্ত্রী রিনা আক্তার দাবি করেন, তিনি আড়াই মাস আগেই জামালকে তালাক দিয়েছেন এবং আইনগতভাবে স্বামী না থাকায় তাকে গ্রামের বাড়িতে রেখে আসা হয়েছিল। জানা যায়, প্রায় ২২ বছর আগে জামাল নিজের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে গাজীপুরের শ্রীপুরে স্ত্রীর বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিলেন। কিন্তু জীবনের শেষ মুহূর্তে সেই আশ্রয় ও পরিবার—দুই-ই তাকে নির্মমভাবে ত্যাগ করে।

বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নূরে আলম জানিয়েছেন, জীবিত থাকা অবস্থায় চিকিৎসার খরচ যেমন গ্রামবাসী চাঁদা তুলে বহন করেছিল, ঠিক তেমনি এই অবহেলিত প্রবাসীর শেষ বিদায়ে দাফনের সমস্ত ব্যবস্থাও গ্রামবাসীর নিজস্ব উদ্যোগে সম্পন্ন করা হচ্ছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ