ইরানের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল ও অর্থ পরিবহনের অভিযোগে সিঙ্গাপুরভিত্তিক পণ্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান 'ওয়েলব্রেড ক্যাপিটাল'-এর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের 'অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল' (ওএফএসি) সোমবার এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করে। এতে প্রতিষ্ঠানটির দুবাই ও জেনেভা শাখাসহ ফ্রান্সে অবস্থিত একটি জৈব জ্বালানি শোধনাগারও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক যুদ্ধের অংশ হিসেবে সিঙ্গাপুরভিত্তিক বহুজাতিক পণ্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান 'ওয়েলব্রেড ক্যাপিটাল'-এর বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়। ওয়াশিংটনের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি গোপনে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক বাজারে ইরানি ও রুশ তেল সরবরাহের সাথে সরাসরি যুক্ত।
সোমবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল অফিস (ওএফএসি) তাদের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে এই নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত প্রকাশ করে। একই সাথে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স তাদের একটি প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে যে, ওয়েলব্রেড ক্যাপিটালের সিঙ্গাপুর প্রধান কার্যালয়ের পাশাপাশি দুবাই ও জেনেভায় অবস্থিত শাখা কার্যালয় এবং ফ্রান্সে অবস্থিত একটি বায়োফুয়েল শোধনাগারকেও এই নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত করা হয়েছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ওয়েলব্রেড ক্যাপিটাল মূলত মোহাম্মদ হোসেইন শামখানির পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়ে আসছিল। মোহাম্মদ হোসেইন শামখানি হলেন ইরানের জ্যেষ্ঠ নৌ কর্মকর্তা ও প্রখ্যাত রাজনীতিক প্রয়াত আলি শামখানির ছেলে। আলি শামখানি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত হন, যার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
ওয়াশিংটনের অভিযোগ অনুযায়ী, শামখানি একটি বিশাল ট্যাংকার এবং পণ্যবাহী জাহাজের আন্তর্জাতিক বহর পরিচালনা করেন। এই ছায়া নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই মধ্যপ্রাচ্যে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরান ও রাশিয়ার কাঁচা তেল বিশ্ববাজারের নানা প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া হয়।
যদিও আপাতদৃষ্টিতে ওয়েলব্রেড ক্যাপিটালকে ইরানের মূল বাণিজ্য কাঠামোর বাইরে একটি স্বাধীন সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল, তবুও এর পরিচালনা ও আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা ছিল শামখানির। তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ বিদেশে পাচার ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ইরানি সরকারের গোপন প্রবেশাধিকার অব্যাহত রাখার মার্কিন তদন্তে এটি উদঘাটিত হওয়ার পর এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
ইসলামী বিশ্বের সার্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা যখন পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও ইসরাইলি আগ্রাসনে বিপন্ন, তখন মুসলিম দেশের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্কের অজুহাতে আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এ জাতীয় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ একটি সুপরিকল্পিত চাপের অংশ।
বিষয় : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরান সিঙ্গাপুর

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬
ইরানের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল ও অর্থ পরিবহনের অভিযোগে সিঙ্গাপুরভিত্তিক পণ্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান 'ওয়েলব্রেড ক্যাপিটাল'-এর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের 'অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল' (ওএফএসি) সোমবার এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করে। এতে প্রতিষ্ঠানটির দুবাই ও জেনেভা শাখাসহ ফ্রান্সে অবস্থিত একটি জৈব জ্বালানি শোধনাগারও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক যুদ্ধের অংশ হিসেবে সিঙ্গাপুরভিত্তিক বহুজাতিক পণ্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান 'ওয়েলব্রেড ক্যাপিটাল'-এর বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়। ওয়াশিংটনের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি গোপনে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক বাজারে ইরানি ও রুশ তেল সরবরাহের সাথে সরাসরি যুক্ত।
সোমবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল অফিস (ওএফএসি) তাদের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে এই নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত প্রকাশ করে। একই সাথে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স তাদের একটি প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে যে, ওয়েলব্রেড ক্যাপিটালের সিঙ্গাপুর প্রধান কার্যালয়ের পাশাপাশি দুবাই ও জেনেভায় অবস্থিত শাখা কার্যালয় এবং ফ্রান্সে অবস্থিত একটি বায়োফুয়েল শোধনাগারকেও এই নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত করা হয়েছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ওয়েলব্রেড ক্যাপিটাল মূলত মোহাম্মদ হোসেইন শামখানির পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়ে আসছিল। মোহাম্মদ হোসেইন শামখানি হলেন ইরানের জ্যেষ্ঠ নৌ কর্মকর্তা ও প্রখ্যাত রাজনীতিক প্রয়াত আলি শামখানির ছেলে। আলি শামখানি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত হন, যার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
ওয়াশিংটনের অভিযোগ অনুযায়ী, শামখানি একটি বিশাল ট্যাংকার এবং পণ্যবাহী জাহাজের আন্তর্জাতিক বহর পরিচালনা করেন। এই ছায়া নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই মধ্যপ্রাচ্যে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরান ও রাশিয়ার কাঁচা তেল বিশ্ববাজারের নানা প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া হয়।
যদিও আপাতদৃষ্টিতে ওয়েলব্রেড ক্যাপিটালকে ইরানের মূল বাণিজ্য কাঠামোর বাইরে একটি স্বাধীন সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল, তবুও এর পরিচালনা ও আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা ছিল শামখানির। তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ বিদেশে পাচার ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ইরানি সরকারের গোপন প্রবেশাধিকার অব্যাহত রাখার মার্কিন তদন্তে এটি উদঘাটিত হওয়ার পর এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
ইসলামী বিশ্বের সার্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা যখন পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও ইসরাইলি আগ্রাসনে বিপন্ন, তখন মুসলিম দেশের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্কের অজুহাতে আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এ জাতীয় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ একটি সুপরিকল্পিত চাপের অংশ।

আপনার মতামত লিখুন