মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

ইরানের সামরিক ও ড্রোন প্রযুক্তির শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের অবস্থান জানাতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসনের আশ্বাস; ওয়াশিংটনের পদক্ষেপকে সার্বভৌমত্বের ওপর আগ্রাসি গোয়েন্দা নজরদারি হিসেবে দেখছে বিশ্লেষকরা।

আইআরজিসি-র ৫ শীর্ষ কমান্ডারের মাথার দাম ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের: গোয়েন্দা তথ্যের খোঁজে টোপ



আইআরজিসি-র ৫ শীর্ষ কমান্ডারের মাথার দাম ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের: গোয়েন্দা তথ্যের খোঁজে টোপ

ইরানের প্রতিরক্ষা ও সামরিক কাঠামোর ওপর গোয়েন্দা চাপ বৃদ্ধি করতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) পাঁচ শীর্ষ কমান্ডারের তথ্যের জন্য ১ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি ২৪ আগস্ট এই ঘোষণা দেয়। তথ্যের বিনিময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ ছাড়াও তথ্য প্রদানকারী ও তার পরিবারকে পশ্চিমা দেশে নিরাপদ পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে স্বাধীন প্রতিরক্ষা ও স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থানের বিরুদ্ধে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী নীতির আরেকটি দৃষ্টান্ত হিসেবে ইরানকে ঘিরে নতুন এই পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিশেষ কর্মসূচি ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ (RFJ)-এর পেজ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর ওই শীর্ষ কর্মকর্তাদের অবস্থান বা কার্যক্রম সম্পর্কে কার্যকর তথ্য দিতে পারলে সর্বোচ্চ ১ কোটি ডলার পর্যন্ত অর্থ প্রদান করা হবে।

তালিকায় যেসব শীর্ষ কমান্ডাররা রয়েছেন:

মার্কিন হিটলিস্ট বা তথ্যের আওতায় থাকা আইআরজিসির পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তা হলেন:

  • আহমেদ ওয়াহিদি: আইআরজিসির অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার এবং সামরিক পরিকল্পনাকারী।
  • আলি আব্দুল্লাহি: ইরানের খাতামুল আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের প্রধান।
  • সাঈদ আগাজানি: অ্যারোস্পেস ফোর্সের ড্রোন (UAV) ইউনিটের প্রধান।
  • হামিদরেজা লশগরিয়ান: সাইবার ইলেকট্রনিক কমান্ডের শীর্ষ কর্মকর্তা।
  • মাজিদ খাদেমি: আইআরজিসির গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান।

মার্কিন প্রশাসন অভিযোগ করেছে, উক্ত পাঁচ কর্মকর্তা অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্য ভেঙে দেওয়া এবং প্রতিরক্ষামূলক প্রযুক্তি বিকাশে মুখ্য ভূমিকা রাখছেন। বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তি এবং সাইবার ক্ষেত্রে ইরানের স্বাবলম্বিতা মার্কিন অক্ষশক্তিকে অস্বস্তিতে ফেলেছে, যার কারণে এসব কমান্ডারকে নিশানা করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করেছে যে, উল্লেখিত কর্মকর্তাদের ওপর ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কার্যকর তথ্য প্রদানকারীদের পুরস্কৃত করার পাশাপাশি তাদের পরিচয় গোপন রাখা ও নিরাপদ আশ্রয়ে পুনর্বাসনের সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও মুসলিম বিশ্বের ভূ-রাজনীতিবিদদের মতে, একের পর এক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েও ইরানকে আত্মরক্ষামূলক কৌশল থেকে সরাতে ব্যর্থ হয়ে এখন মার্কিন প্রশাসন সরাসরি গোয়েন্দা তথ্য ক্রয়ের মাধ্যমে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে। তবে তেহরান প্রায়শই এ ধরনের পদক্ষককে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য অক্ষুণ্ন রাখার ব্যর্থ প্রয়াস এবং আন্তর্জাতিক সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়ে আসছে।

বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র ইরান গোয়েন্দা

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬


আইআরজিসি-র ৫ শীর্ষ কমান্ডারের মাথার দাম ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের: গোয়েন্দা তথ্যের খোঁজে টোপ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ইরানের প্রতিরক্ষা ও সামরিক কাঠামোর ওপর গোয়েন্দা চাপ বৃদ্ধি করতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) পাঁচ শীর্ষ কমান্ডারের তথ্যের জন্য ১ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি ২৪ আগস্ট এই ঘোষণা দেয়। তথ্যের বিনিময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ ছাড়াও তথ্য প্রদানকারী ও তার পরিবারকে পশ্চিমা দেশে নিরাপদ পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে স্বাধীন প্রতিরক্ষা ও স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থানের বিরুদ্ধে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী নীতির আরেকটি দৃষ্টান্ত হিসেবে ইরানকে ঘিরে নতুন এই পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিশেষ কর্মসূচি ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ (RFJ)-এর পেজ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর ওই শীর্ষ কর্মকর্তাদের অবস্থান বা কার্যক্রম সম্পর্কে কার্যকর তথ্য দিতে পারলে সর্বোচ্চ ১ কোটি ডলার পর্যন্ত অর্থ প্রদান করা হবে।

তালিকায় যেসব শীর্ষ কমান্ডাররা রয়েছেন:

মার্কিন হিটলিস্ট বা তথ্যের আওতায় থাকা আইআরজিসির পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তা হলেন:

  • আহমেদ ওয়াহিদি: আইআরজিসির অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার এবং সামরিক পরিকল্পনাকারী।
  • আলি আব্দুল্লাহি: ইরানের খাতামুল আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের প্রধান।
  • সাঈদ আগাজানি: অ্যারোস্পেস ফোর্সের ড্রোন (UAV) ইউনিটের প্রধান।
  • হামিদরেজা লশগরিয়ান: সাইবার ইলেকট্রনিক কমান্ডের শীর্ষ কর্মকর্তা।
  • মাজিদ খাদেমি: আইআরজিসির গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান।

মার্কিন প্রশাসন অভিযোগ করেছে, উক্ত পাঁচ কর্মকর্তা অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্য ভেঙে দেওয়া এবং প্রতিরক্ষামূলক প্রযুক্তি বিকাশে মুখ্য ভূমিকা রাখছেন। বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তি এবং সাইবার ক্ষেত্রে ইরানের স্বাবলম্বিতা মার্কিন অক্ষশক্তিকে অস্বস্তিতে ফেলেছে, যার কারণে এসব কমান্ডারকে নিশানা করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করেছে যে, উল্লেখিত কর্মকর্তাদের ওপর ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কার্যকর তথ্য প্রদানকারীদের পুরস্কৃত করার পাশাপাশি তাদের পরিচয় গোপন রাখা ও নিরাপদ আশ্রয়ে পুনর্বাসনের সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও মুসলিম বিশ্বের ভূ-রাজনীতিবিদদের মতে, একের পর এক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েও ইরানকে আত্মরক্ষামূলক কৌশল থেকে সরাতে ব্যর্থ হয়ে এখন মার্কিন প্রশাসন সরাসরি গোয়েন্দা তথ্য ক্রয়ের মাধ্যমে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে। তবে তেহরান প্রায়শই এ ধরনের পদক্ষককে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য অক্ষুণ্ন রাখার ব্যর্থ প্রয়াস এবং আন্তর্জাতিক সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়ে আসছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ