দীর্ঘ সাড়ে চার দশকের বৈষম্যমূলক ও রাজনৈতিক অচল অবস্থা দূর করে সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক’ তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অপসারণ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
সাবেক স্বৈরাচারী শাসক হাফেজ আল-আসাদের শাসনামলে ১৯৭৯ সালে সিরিয়ার ওপর প্রথম আরোপ করা হয়েছিল এই বিধিনিষেধ।
আরব বিশ্বের প্রতিক্রিয়া ও ভ্রাতৃত্ববোধ:
- কুয়েত: কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্তটিকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছে, এটি ভ্রাতৃপ্রতিম সিরিয়ার দ্রুত পুনর্গঠন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিশ্বমঞ্চে স্বকীয় স্বাধীন সত্ত্বা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াকে গতিশীল করবে।
সিরিয়ার আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বিক স্থিতিশীলতার প্রতি কুয়েত অবিচল সমর্থন ব্যক্ত করেছে। - কাতার: কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তকে "একটি ইতিবাচক অগ্রগতি" বলে বর্ণনা করে জানান যে, এটি দীর্ঘমেয়াদী বৈশ্বিক প্রস্তাবনা অনুযায়ী সিরীয় জনগণের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষায় বড় অবদান রাখবে।
- সৌদি আরব: রিয়াদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিরিয়ার নতুন সরকার ও জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছে, এ সিদ্ধান্তের ফলে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের পথ আরও সুগম হবে।
- সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই): সংযুক্ত আরব আমিরাত উল্লেখ করেছে যে মার্কিন এই পদক্ষেপে সিরিয়ায় বিদেশী বিনিয়োগের দুয়ার উন্মুক্ত করবে এবং সিরীয়দের অর্থনীতিকে নতুন মাত্রা প্রদান করবে।
- জর্ডান ও জিসিসি: জর্ডান এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) মহাসচিব জসিম মোহাম্মদ আল-বুদাইউই সিরিয়ার স্বাধীনতা, জাতীয় ঐক্য এবং সার্বিক উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় মুসলিম বিশ্বকে পাশে থাকার আহ্বান জানান।
প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার বার্তা: মার্কিন সিদ্ধান্ত সামনে আসার পর দামেস্কে এক ভিডিও বার্তায় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বলেন, “আজকের সিরিয়া নিজের হাতেই তার বেদনাময় অতীতের কালো অধ্যায় মুছে ফেলে উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের পথে পা বাড়াল। অমানবিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। আমরা সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, এ পদক্ষেপের ফলে সিরীয় ভূখণ্ডে বাণিজ্যিক বিনিয়োগ পুনরায় উৎসাহিত হবে।
মতামত