বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

পুলিশের উপস্থিতিতেই চরম লাঞ্ছনা ও জোরপূর্বক ধর্মীয় স্লোগান দেওয়ানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল; ভারতে মুসলিম চরম নিপীড়নে উদ্বেগ বাড়ছে।

মুসলিম দম্পতিকে কান ধরে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনিতে বাধ্য করলো হিন্দুত্ববাদীরা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

মুসলিম দম্পতিকে কান ধরে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনিতে বাধ্য করলো হিন্দুত্ববাদীরা

ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী ‘গোরক্ষক’দের হিংস্রতা ও চরমপন্থার আরেকটি নজির সামনে এসেছে। ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বরের ভুবনেশ্বরে গরুর মাংস বহনের ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে এক মুসলিম দম্পতিকে প্রকাশ্যে কান ধরে হাঁটু গেড়ে বসতে এবং ‘জয় শ্রী রাম’ ও ‘জয় গো মাতা’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও উগ্রবাদীদের বাধা না দিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করার অভিযোগ উঠেছে, যা দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিমদের নিরাপত্তাহীনতাকে আরও স্পষ্ট করেছে।

ভারতে কট্টর হিন্দুত্ববাদী শক্তির বলীয়ান হয়ে গো-রক্ষার নামে মুসলিমদের ওপর নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। এবার ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বরে এক মুসলিম দম্পতিকে চরম লাঞ্ছনা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার ঘটনা ঘটেছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোরক্ষক দল তাদের পথ আটকে গরুর মাংস বহনের অভিযোগ আনে। এরপর ওই দম্পতিকে কান ধরে রাস্তায় হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করা হয় এবং জোড়হাত করে ধর্মীয় স্লোগান ‘জয় শ্রী রাম’ ও ‘জয় গো মাতা’ জপতে বলা হয়।

ঘটনাটি গত ১৯ আগস্ট সংঘটিত হলেও সম্প্রতি (২৩ আগস্ট) এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, আতঙ্কিত দম্পতিকে ঘিরে ধরে একের পর এক উগ্রবাদী স্লোগান দিচ্ছে এবং তাদের ওপর মানসিক ও শারীরিক লাঞ্ছনা চালাচ্ছে। একজন গোরক্ষককে হুমকির সুরে বলতে শোনা যায়, “বল জয় শ্রী রাম, বল জয় গো মাতা। ভুল হয়েছে, তোর আল্লাহর নামে কসম খা।”

উপায়ান্তর না পেয়ে নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে ওই মুসলিম দম্পতি চরম অপমান সহ্য করে উগ্রবাদীদের শেখানো ধর্মীয় স্লোগান পুনরাবৃত্তি করতে বাধ্য হন। পুরো ঘটনাটি চরমপন্থীরা মোবাইলে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। স্থানীয় কিছু উৎসুক জনতাও এতে সায় দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে কেবল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, ওড়িশায় সম্প্রতি ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবং ১৯৬০ সালের ‘ওড়িশা গো-হত্যা প্রতিরোধ আইন’ সংস্কার করে আরও কঠোর আইন প্রণয়নের ঘোষণার পর থেকেই উগ্রপন্থী গো-রক্ষক বাহিনীগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নীরব ভূমিকা ও চরমপন্থীদের প্রতি প্রশ্রয় ভারতে মুসলিম সংখ্যালঘুদের জীবন ও মৌলিক মানবাধিকারকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


মুসলিম দম্পতিকে কান ধরে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনিতে বাধ্য করলো হিন্দুত্ববাদীরা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী ‘গোরক্ষক’দের হিংস্রতা ও চরমপন্থার আরেকটি নজির সামনে এসেছে। ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বরের ভুবনেশ্বরে গরুর মাংস বহনের ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে এক মুসলিম দম্পতিকে প্রকাশ্যে কান ধরে হাঁটু গেড়ে বসতে এবং ‘জয় শ্রী রাম’ ও ‘জয় গো মাতা’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও উগ্রবাদীদের বাধা না দিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করার অভিযোগ উঠেছে, যা দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিমদের নিরাপত্তাহীনতাকে আরও স্পষ্ট করেছে।

ভারতে কট্টর হিন্দুত্ববাদী শক্তির বলীয়ান হয়ে গো-রক্ষার নামে মুসলিমদের ওপর নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। এবার ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বরে এক মুসলিম দম্পতিকে চরম লাঞ্ছনা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার ঘটনা ঘটেছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোরক্ষক দল তাদের পথ আটকে গরুর মাংস বহনের অভিযোগ আনে। এরপর ওই দম্পতিকে কান ধরে রাস্তায় হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করা হয় এবং জোড়হাত করে ধর্মীয় স্লোগান ‘জয় শ্রী রাম’ ও ‘জয় গো মাতা’ জপতে বলা হয়।

ঘটনাটি গত ১৯ আগস্ট সংঘটিত হলেও সম্প্রতি (২৩ আগস্ট) এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, আতঙ্কিত দম্পতিকে ঘিরে ধরে একের পর এক উগ্রবাদী স্লোগান দিচ্ছে এবং তাদের ওপর মানসিক ও শারীরিক লাঞ্ছনা চালাচ্ছে। একজন গোরক্ষককে হুমকির সুরে বলতে শোনা যায়, “বল জয় শ্রী রাম, বল জয় গো মাতা। ভুল হয়েছে, তোর আল্লাহর নামে কসম খা।”

উপায়ান্তর না পেয়ে নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে ওই মুসলিম দম্পতি চরম অপমান সহ্য করে উগ্রবাদীদের শেখানো ধর্মীয় স্লোগান পুনরাবৃত্তি করতে বাধ্য হন। পুরো ঘটনাটি চরমপন্থীরা মোবাইলে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। স্থানীয় কিছু উৎসুক জনতাও এতে সায় দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে কেবল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, ওড়িশায় সম্প্রতি ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবং ১৯৬০ সালের ‘ওড়িশা গো-হত্যা প্রতিরোধ আইন’ সংস্কার করে আরও কঠোর আইন প্রণয়নের ঘোষণার পর থেকেই উগ্রপন্থী গো-রক্ষক বাহিনীগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নীরব ভূমিকা ও চরমপন্থীদের প্রতি প্রশ্রয় ভারতে মুসলিম সংখ্যালঘুদের জীবন ও মৌলিক মানবাধিকারকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ