বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সেনাপ্রধানদের অংশগ্রহণে ইস্তাম্বুলে যৌথ রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির উদ্বোধনী বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ইস্তাম্বুলে ‘মক্কা চুক্তি’র প্রথম বৈঠক: মুসলিম বিশ্বের প্রতিরক্ষা বলয় জোরদারের উদ্যোগ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

ইস্তাম্বুলে ‘মক্কা চুক্তি’র প্রথম বৈঠক: মুসলিম বিশ্বের প্রতিরক্ষা বলয় জোরদারের উদ্যোগ

মুসলিম বিশ্বের তিন প্রধান সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি—তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সমন্বয়ে গঠিত 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি'র অধীনে প্রতিষ্ঠিত কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম ঐতিহাসিক বৈঠক সোমবার ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সেনাপ্রধানগণ এ বৈঠকে অংশ নেবেন। এ আলোচনার মূল উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, যৌথ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মুসলিম বিশ্বের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।

মুসলিম উম্মাহর যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে তুরস্কের ঐতিহাসিক নগরী ইস্তাম্বুলে আয়োজিত হতে যাচ্ছে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র অধীনস্থ ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’র প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, স্বাগতিক তুরস্কের পক্ষে বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোলু। পাকিস্তান থেকে অংশ নিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মদ ইসহাক দার, ফেডারেল প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। অন্যদিকে সৌদি আরবের প্রতিনিধি দলে থাকছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং সৌদি সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল ফায়াদ বিন হামেদ আল-রুয়াইলি।

গত ৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পবিত্র মক্কা নগরীতে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মধ্যে এই ঐতিহাসিক 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির মূল শর্তানুসারে, কোনো একটি স্বাক্ষরকারী দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা তিনটি দেশের ওপরই আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে এবং সম্মিলিতভাবে তার জবাব দেওয়া হবে।

ইস্তাম্বুলের এই শীর্ষস্থানীয় বৈঠকে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির গভীর পর্যালোচনার পাশাপাশি তিন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা বৃদ্ধি, যৌথ সামরিক গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উৎপাদনের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

বৈঠক থেকে একটি স্থায়ী সচিবালয় গঠন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কৌশলগত কাঠামোর পথনকশা প্রণয়ন করা হবে, যা ভবিষ্যতে তিন দেশের সামরিক যৌথ কার্যক্রম পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করবে। মক্কা চুক্তিটি কোনো আগ্রাসী সামরিক জোট নয়, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্বের শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা রক্ষা এবং যেকোনো বহিরাগত হুমকি প্রতিহত করতে একটি কার্যকরী যৌথ প্রতিরক্ষা বলয় প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিষয় : তুরস্ক ইস্তাম্বুল মক্কা চুক্তি

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


ইস্তাম্বুলে ‘মক্কা চুক্তি’র প্রথম বৈঠক: মুসলিম বিশ্বের প্রতিরক্ষা বলয় জোরদারের উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মুসলিম বিশ্বের তিন প্রধান সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি—তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সমন্বয়ে গঠিত 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি'র অধীনে প্রতিষ্ঠিত কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম ঐতিহাসিক বৈঠক সোমবার ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সেনাপ্রধানগণ এ বৈঠকে অংশ নেবেন। এ আলোচনার মূল উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, যৌথ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মুসলিম বিশ্বের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।

মুসলিম উম্মাহর যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে তুরস্কের ঐতিহাসিক নগরী ইস্তাম্বুলে আয়োজিত হতে যাচ্ছে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র অধীনস্থ ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’র প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, স্বাগতিক তুরস্কের পক্ষে বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোলু। পাকিস্তান থেকে অংশ নিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মদ ইসহাক দার, ফেডারেল প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। অন্যদিকে সৌদি আরবের প্রতিনিধি দলে থাকছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং সৌদি সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল ফায়াদ বিন হামেদ আল-রুয়াইলি।

গত ৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পবিত্র মক্কা নগরীতে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মধ্যে এই ঐতিহাসিক 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির মূল শর্তানুসারে, কোনো একটি স্বাক্ষরকারী দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা তিনটি দেশের ওপরই আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে এবং সম্মিলিতভাবে তার জবাব দেওয়া হবে।

ইস্তাম্বুলের এই শীর্ষস্থানীয় বৈঠকে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির গভীর পর্যালোচনার পাশাপাশি তিন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা বৃদ্ধি, যৌথ সামরিক গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উৎপাদনের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

বৈঠক থেকে একটি স্থায়ী সচিবালয় গঠন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কৌশলগত কাঠামোর পথনকশা প্রণয়ন করা হবে, যা ভবিষ্যতে তিন দেশের সামরিক যৌথ কার্যক্রম পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করবে। মক্কা চুক্তিটি কোনো আগ্রাসী সামরিক জোট নয়, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্বের শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা রক্ষা এবং যেকোনো বহিরাগত হুমকি প্রতিহত করতে একটি কার্যকরী যৌথ প্রতিরক্ষা বলয় প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ