সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

ফি জমার রসিদ ও নিবন্ধনের আবেদনের নথি প্রদর্শনের পরও প্রশাসনিক পদক্ষেপ; স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চরম বৈষম্যের অভিযোগ।

নির্ধারিত সময়ের আগেই উত্তরাখণ্ডে মাদরাসা সিলগালা, নথি জমার সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নির্ধারিত সময়ের আগেই উত্তরাখণ্ডে মাদরাসা সিলগালা, নথি জমার সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন

ভারতের উত্তরাখণ্ডের উধম সিং নগর জেলার বাজপুরে একটি স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান 'জামিয়া হানফিয়া রাজাউল উলুম' মাদ্রাসাটি রাজস্ব বিভাগ ও স্থানীয় পুলিশের যৌথ অভিযানে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। জেলা শাসকের নির্দেশে আয়োজিত এই অভিযানের মূল প্রশাসনিক অজুহাত হলো প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদনহীনভাবে চলছিল এবং পরিদর্শনকালে তারা উপযুক্ত নথিপত্র দেখাতে পারেনি। তবে এই আকস্মিক প্রশাসনিক অভিযানের তীব্র বিরোধিতা করে মাদ্রাসা পরিচালক ইরশাদ আলী জানিয়েছেন, সরকারি বেধে দেওয়া সময়সীমার অনেক আগেই এই পক্ষপাতমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি রুদ্রপুরে অনুষ্ঠিত এক প্রশাসনিক বৈঠকে সংখ্যালঘু বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সুরজিত সিং বারनाला এবং শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল যে, রাজ্যের সকল পরিচালিত মাদ্রাসাকে তাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় প্রদান করা হলো। পরিচালকদের জন্য এই ঘোষণার অর্থ ছিল স্পষ্ট—নথিপত্র গুছিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তাদের হাতে যথেষ্ট সময় রয়েছে।

সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে জামিয়া হানফিয়া রাজাউল উলুম ইতোমধ্যেই সরকারি পোর্টালে তাদের নিবন্ধনের আবেদন জমা দেয় এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে। ফি জমাদানের অফিশিয়াল রসিদ ও আবেদনপত্র পরিচালক ইরশাদ আলীর কাছে সংরক্ষিত ছিল। বুধবার সকালে প্রশাসনিক দল ও পুলিশ যখন মাদ্রাসা চত্বরে হাজির হয়, তখন তিনি অবিলম্বে সরকারি জমার রসিদ এবং আবেদনপত্রের সমস্ত নথিপত্র কর্মকর্তাদের সামনে তুলে ধরেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, কোনো অযৌক্তিক কারণে প্রশাসনিক কর্তারা এসব বৈধ কাগজ গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন এবং বলপ্রয়োগ করে পুরো মাদ্রাসা ভবন সিলগালা করে দেন।

পরিচালক ইরশাদ আলী স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে আক্ষেপের সাথে বলেন, 'আমাদের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেই নির্দিষ্ট মেয়াদের অনেক আগেই আমাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন এই ব্যবস্থা নেওয়া হলো। সমস্ত নথিপত্র ও ফি জমার সরকারি রসিদ দেখানোর পরও তারা তা গ্রাহ্য করেননি।'

শুধু এই একটি প্রতিষ্ঠানই নয়; একই অভিযানের অংশ হিসেবে বাজপুর এলাকার আরও তিনটি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (যেমন: মাদ্রাসা জামিয়া ফাতিমা, মাদ্রাসা গুলশানে ইসলাম ও মাদ্রাসা মইনুল উলুম) সরকারি সিলগালা প্রত্যক্ষ করেছে। উত্তরাখণ্ডের বর্তমান বিজেপি সরকারের অধীনে যেভাবে মুসলিম নিয়ন্ত্রিত ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে টার্গেট করে নথিপত্রের নামে হয়রানি করা হচ্ছে, তা চরম বৈষম্যমূলক নীতির অংশ বলেই মনে করছেন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ মুসলিমরা।

নেটদুনিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সরকারের এমন অন্যায্য ও পক্ষপাতমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। এক্স (টুইটার)-এ এক ব্যবহারকারী হতাশা প্রকাশ করে লিখেছেন, 'সবকিছু ছাপিয়ে প্রশাসন ও সরকারের আসলে মুসলমানদের সাথে সমস্যাটি কোথায়? মুসলমানরা কি এই দেশের নাগরিক ও অংশীদার নন?'

উত্তরাখণ্ডে বর্তমান প্রশাসনের অধীনে যেভাবে গত কয়েক মাস ধরে সংখ্যালঘু মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ধারাবাহিক প্রশাসনিক নজরদারি, অভিযান ও একের পর এক মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে, তাতে সেখানকার মুসলিমদের মৌলিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় নতুন করে গভীর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


নির্ধারিত সময়ের আগেই উত্তরাখণ্ডে মাদরাসা সিলগালা, নথি জমার সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তরাখণ্ডের উধম সিং নগর জেলার বাজপুরে একটি স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান 'জামিয়া হানফিয়া রাজাউল উলুম' মাদ্রাসাটি রাজস্ব বিভাগ ও স্থানীয় পুলিশের যৌথ অভিযানে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। জেলা শাসকের নির্দেশে আয়োজিত এই অভিযানের মূল প্রশাসনিক অজুহাত হলো প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদনহীনভাবে চলছিল এবং পরিদর্শনকালে তারা উপযুক্ত নথিপত্র দেখাতে পারেনি। তবে এই আকস্মিক প্রশাসনিক অভিযানের তীব্র বিরোধিতা করে মাদ্রাসা পরিচালক ইরশাদ আলী জানিয়েছেন, সরকারি বেধে দেওয়া সময়সীমার অনেক আগেই এই পক্ষপাতমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি রুদ্রপুরে অনুষ্ঠিত এক প্রশাসনিক বৈঠকে সংখ্যালঘু বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সুরজিত সিং বারनाला এবং শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল যে, রাজ্যের সকল পরিচালিত মাদ্রাসাকে তাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় প্রদান করা হলো। পরিচালকদের জন্য এই ঘোষণার অর্থ ছিল স্পষ্ট—নথিপত্র গুছিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তাদের হাতে যথেষ্ট সময় রয়েছে।

সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে জামিয়া হানফিয়া রাজাউল উলুম ইতোমধ্যেই সরকারি পোর্টালে তাদের নিবন্ধনের আবেদন জমা দেয় এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে। ফি জমাদানের অফিশিয়াল রসিদ ও আবেদনপত্র পরিচালক ইরশাদ আলীর কাছে সংরক্ষিত ছিল। বুধবার সকালে প্রশাসনিক দল ও পুলিশ যখন মাদ্রাসা চত্বরে হাজির হয়, তখন তিনি অবিলম্বে সরকারি জমার রসিদ এবং আবেদনপত্রের সমস্ত নথিপত্র কর্মকর্তাদের সামনে তুলে ধরেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, কোনো অযৌক্তিক কারণে প্রশাসনিক কর্তারা এসব বৈধ কাগজ গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন এবং বলপ্রয়োগ করে পুরো মাদ্রাসা ভবন সিলগালা করে দেন।

পরিচালক ইরশাদ আলী স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে আক্ষেপের সাথে বলেন, 'আমাদের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেই নির্দিষ্ট মেয়াদের অনেক আগেই আমাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন এই ব্যবস্থা নেওয়া হলো। সমস্ত নথিপত্র ও ফি জমার সরকারি রসিদ দেখানোর পরও তারা তা গ্রাহ্য করেননি।'

শুধু এই একটি প্রতিষ্ঠানই নয়; একই অভিযানের অংশ হিসেবে বাজপুর এলাকার আরও তিনটি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (যেমন: মাদ্রাসা জামিয়া ফাতিমা, মাদ্রাসা গুলশানে ইসলাম ও মাদ্রাসা মইনুল উলুম) সরকারি সিলগালা প্রত্যক্ষ করেছে। উত্তরাখণ্ডের বর্তমান বিজেপি সরকারের অধীনে যেভাবে মুসলিম নিয়ন্ত্রিত ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে টার্গেট করে নথিপত্রের নামে হয়রানি করা হচ্ছে, তা চরম বৈষম্যমূলক নীতির অংশ বলেই মনে করছেন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ মুসলিমরা।

নেটদুনিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সরকারের এমন অন্যায্য ও পক্ষপাতমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। এক্স (টুইটার)-এ এক ব্যবহারকারী হতাশা প্রকাশ করে লিখেছেন, 'সবকিছু ছাপিয়ে প্রশাসন ও সরকারের আসলে মুসলমানদের সাথে সমস্যাটি কোথায়? মুসলমানরা কি এই দেশের নাগরিক ও অংশীদার নন?'

উত্তরাখণ্ডে বর্তমান প্রশাসনের অধীনে যেভাবে গত কয়েক মাস ধরে সংখ্যালঘু মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ধারাবাহিক প্রশাসনিক নজরদারি, অভিযান ও একের পর এক মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে, তাতে সেখানকার মুসলিমদের মৌলিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় নতুন করে গভীর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ