সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

ভোপালে প্রকাশ্য জনসভায় বিজেপি বিধায়ক রামেশ্বর শর্মার বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ভাইরালের পর তীব্র ক্ষোভ; উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির কঠোর সমালোচনায় বিরোধী দলগুলো ও সুশীল সমাজ।

ভারতে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় 'মিসাইল মারার' হুমকি বিজেপি বিধায়কের


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় 'মিসাইল মারার' হুমকি বিজেপি বিধায়কের

ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক বিধায়ক রাজ্যের রাজধানী ভোপালের একটি ঘনবসতিপূর্ণ মুসলিম এলাকায় মিসাইল নিক্ষেপ করার বিতর্কিত ও উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন। হুজুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক রামেশ্বর শর্মার এই উগ্র মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। বিরোধী দল কংগ্রেস এবং স্থানীয় মুসলিম নেতৃত্ব এই উসকানিমূলক বক্তব্যের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতাদের পক্ষ থেকে সংখ্যালঘু মুসলিমদের লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় যুক্ত হলো নতুন এক বিতর্কিত অধ্যায়। মধ্যপ্রদেশের ভোপালের হুজুর আসনের বিজেপি বিধায়ক রামেশ্বর শর্মা প্রকাশ্যে একটি ঘনবসতিপূর্ণ মুসলিম এলাকায় 'মিসাইল হামলা' চালানোর উসকানি দিয়েছেন।

ভোপালের কারোন এলাকায় আয়োজিত এক 'মটকি ফোড়' উৎসবে বক্তব্য দেওয়ার সময় রামেশ্বর শর্মা বলেন, "করোন্দ চৌরাহা থেকে যদি কোনো মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়, তবে তা যেন সোজা গিয়ে পড়ে কাজি ক্যাম্পে।" উল্লেখ্য, কাজি ক্যাম্প এলাকাটি উত্তর ভোপাল বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এবং এটি একটি ঘনবসতিপূর্ণ মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরপরই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ও মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ নাগরিক অধ্যুষিত একটি আবাসিক এলাকাকে লক্ষ্য করে এভাবে সামরিক আক্রমণের মতো পরিভাষা ব্যবহার এবং সহিংসতার উসকানি দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উসকানিমূলক মন্তব্যের পেছনে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। কাজি ক্যাম্প এলাকাটি উত্তর ভোপাল বিধানসভা কেন্দ্রের অংশ, যা ঐতিহাসিকভাবেই বিজেপির জন্য একটি কঠিন আসন। পুরো রাজ্যে বিজেপির শক্তিশালী অবস্থান থাকা সত্ত্বেও টানা কয়েক নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই আসনে জয়লাভ করে আসছে। এই নির্বাচনী মেরুকরণ তৈরির লক্ষ্যেই উগ্র হিন্দুত্ববাদী উসকানি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের।

ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ওই অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত থাকা হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী ও মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান একই মঞ্চে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন। এছাড়া বলিউড তারকা আদা শর্মা, চংকি পান্ডে, রাজপাল যাদব এবং ভক্তি সঙ্গীতশিল্পী প্রমোদ ত্রিপাঠী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন।

পূর্বে ভোপালের বিজেপি সংসদ সদস্য আলোক শর্মাও কাজি ক্যাম্প এলাকাকে লক্ষ্য করে রাজনৈতিক মন্তব্য করেছিলেন। কংগ্রেসের গণমাধ্যম সমন্বয়ক আব্বাস ও কংগ্রেস বিধায়ক আরিফ মাসুদ এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

কংগ্রেস বিধায়ক আরিফ মাসুদ বলেন, "এ ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্য ভোপালের ঐতিহ্যবাহী 'গঙ্গা-যমুনী তহজিপ' বা দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার এক অপচেষ্টা। শান্ত ভোপালের পরিবেশ বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে দ্রুত কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।"

ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রভাবে ক্রমাগত মুসলিমদের লক্ষ্য করে ঘৃণা ও সহিংসতার উসকানি দেওয়ার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, এই ঘটনা তারই আরেক নগ্ন প্রকাশ বলে মনে করছেন মানবাধিকারকর্মীরা।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ভারতে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় 'মিসাইল মারার' হুমকি বিজেপি বিধায়কের

প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক বিধায়ক রাজ্যের রাজধানী ভোপালের একটি ঘনবসতিপূর্ণ মুসলিম এলাকায় মিসাইল নিক্ষেপ করার বিতর্কিত ও উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন। হুজুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক রামেশ্বর শর্মার এই উগ্র মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। বিরোধী দল কংগ্রেস এবং স্থানীয় মুসলিম নেতৃত্ব এই উসকানিমূলক বক্তব্যের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতাদের পক্ষ থেকে সংখ্যালঘু মুসলিমদের লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় যুক্ত হলো নতুন এক বিতর্কিত অধ্যায়। মধ্যপ্রদেশের ভোপালের হুজুর আসনের বিজেপি বিধায়ক রামেশ্বর শর্মা প্রকাশ্যে একটি ঘনবসতিপূর্ণ মুসলিম এলাকায় 'মিসাইল হামলা' চালানোর উসকানি দিয়েছেন।

ভোপালের কারোন এলাকায় আয়োজিত এক 'মটকি ফোড়' উৎসবে বক্তব্য দেওয়ার সময় রামেশ্বর শর্মা বলেন, "করোন্দ চৌরাহা থেকে যদি কোনো মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়, তবে তা যেন সোজা গিয়ে পড়ে কাজি ক্যাম্পে।" উল্লেখ্য, কাজি ক্যাম্প এলাকাটি উত্তর ভোপাল বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এবং এটি একটি ঘনবসতিপূর্ণ মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরপরই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ও মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ নাগরিক অধ্যুষিত একটি আবাসিক এলাকাকে লক্ষ্য করে এভাবে সামরিক আক্রমণের মতো পরিভাষা ব্যবহার এবং সহিংসতার উসকানি দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উসকানিমূলক মন্তব্যের পেছনে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। কাজি ক্যাম্প এলাকাটি উত্তর ভোপাল বিধানসভা কেন্দ্রের অংশ, যা ঐতিহাসিকভাবেই বিজেপির জন্য একটি কঠিন আসন। পুরো রাজ্যে বিজেপির শক্তিশালী অবস্থান থাকা সত্ত্বেও টানা কয়েক নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই আসনে জয়লাভ করে আসছে। এই নির্বাচনী মেরুকরণ তৈরির লক্ষ্যেই উগ্র হিন্দুত্ববাদী উসকানি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের।

ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ওই অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত থাকা হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী ও মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান একই মঞ্চে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন। এছাড়া বলিউড তারকা আদা শর্মা, চংকি পান্ডে, রাজপাল যাদব এবং ভক্তি সঙ্গীতশিল্পী প্রমোদ ত্রিপাঠী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন।

পূর্বে ভোপালের বিজেপি সংসদ সদস্য আলোক শর্মাও কাজি ক্যাম্প এলাকাকে লক্ষ্য করে রাজনৈতিক মন্তব্য করেছিলেন। কংগ্রেসের গণমাধ্যম সমন্বয়ক আব্বাস ও কংগ্রেস বিধায়ক আরিফ মাসুদ এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

কংগ্রেস বিধায়ক আরিফ মাসুদ বলেন, "এ ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্য ভোপালের ঐতিহ্যবাহী 'গঙ্গা-যমুনী তহজিপ' বা দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার এক অপচেষ্টা। শান্ত ভোপালের পরিবেশ বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে দ্রুত কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।"

ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রভাবে ক্রমাগত মুসলিমদের লক্ষ্য করে ঘৃণা ও সহিংসতার উসকানি দেওয়ার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, এই ঘটনা তারই আরেক নগ্ন প্রকাশ বলে মনে করছেন মানবাধিকারকর্মীরা।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ