ভারতে উত্তর প্রদেশের ৩১ বছর বয়সী আয়ুশ মালিক সম্পূর্ণ নিজস্ব ইচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং স্ত্রী চাঁদনী কোরেশীর সঙ্গেই বসবাস করতে চান বলে জানিয়েছেন এলাহাবাদ হাইকোর্টকে। বুধবার আদালত শ্যুটলি জেলা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে যে তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় যেন কোনোভাবে হস্তক্ষেপ না করা হয়। জোরপূর্বক বা বেআইনিভাবে আটকে রাখার অভিযোগের শুনানিতে আদালত এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।
ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও প্রাপ্তবয়স্কদের নিজস্ব পছন্দের ওপর হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ার হস্তক্ষেপের মধ্যে এলাহাবাদ হাইকোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দিয়েছেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছেন, ৩১ বছর বয়সী আয়ুশ মালিকের ওপর কোনো ধরনের জোরজবরদস্তি করা যাবে না এবং পুলিশ বা প্রশাসন তার জীবনে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
আদালতের শুনানিকালে আয়ুশ মালিক বিচারকের সামনে স্পষ্টভাবে জানান যে, তিনি কারো কোনো প্ররোচনা বা চাপ ছাড়াই স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছেন। একই সাথে তিনি তার স্ত্রী চাঁদনী কোরেশীর সাথে সংসার জীবন পরিচালনা করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন।
ঘটনার নেপথ্যে জানা যায়, আয়ুশ ইসলাম গ্রহণ করে চাঁদনীকে বিয়ে করার পর তার পরিবার, বিশেষ করে তার বাবা দেবরাজ সিং মালিক, তাকে জোরপূর্বক আটকে রাখেন। অভিযোগ ওঠে, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ এতে প্রত্যক্ষ সহায়তা করেছিল। আয়ুশের বন্ধু সুলতান এলাহাবাদ হাইকোর্টে একটি হেবিয়াস কর্পাস (বন্দি প্রদর্শন) রিট পিটিশন দায়ের করলে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর বিচারপতি সন্দীপ জৈন এ ঘটনায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে শ্যুটলি পুলিশ ও আয়ুশের বাবাকে নির্দেশ দেন তাকে ১৬ সেপ্টেম্বর আদালতে সশরীরে হাজির করতে। আদালত পুলিশ ও বাবার বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে আটকে রাখার এই অভিযোগকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ৬ জুন আয়ুশের বাবা শ্যুটলি থানায় চাঁদনী ও তার আত্মীয়দের বিরুদ্ধে মামলা (এফআইআর) দায়ের করেছিলেন। বিতর্কিত ‘উত্তর প্রদেশ ধর্মান্তর বিরোধী আইন, ২০২১’ এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়। তবে রিট আবেদনে বলা হয়, এই মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে যাতে একজন প্রাপ্তবয়স্ক যুবকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হরণ করা যায়।
আদালতে আয়ুশ তার অবস্থানে অটল থাকলে হাইকোর্ট পুলিশকে নির্দেশ দেয় যেন ওই দম্পতির স্বাধীন জীবনযাপনে কোনো বাধা বা হয়রানি সৃষ্টি না করা হয়। এই আদেশের মাধ্যমে ভারতে প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের নিজের ধর্ম নির্বাচন ও জীবনসঙ্গী পছন্দের অধিকার পুনরায় পুনপ্রতিষ্ঠিত হলো। মামলাটির পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া হাইকোর্টে অব্যাহত থাকবে।
মতামত