আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের গ্রাম ও উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ মনসুর দাবি করেছেন যে, আফগানিস্তানের নারী স্বাধীনতা ও মেয়েদের শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি না দেওয়ার জন্য কেবল একটি 'সাধারণ ওজুহাত' হিসেবে ব্যবহার করছে। কাবুলে তালেবান সংশ্লিষ্ট একটি গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে তিনি অভিযোগ করেন, তাদের প্রতিষ্ঠিত প্রকৃত ইসলামী শাসন সহ্য করতে না পেরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছে। একই সাথে তিনি দেশের সার্বিক নিরাপত্তা এবং প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের গ্রাম, পুনর্গঠন ও উন্নয়ন মন্ত্রী আব্দুল লতিফ মনসুর এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আফগানিস্তানে তালেবান একটি 'প্রকৃত ইসলামী সরকার' প্রতিষ্ঠা করেছে। কিন্তু বিশ্বের কিছু দেশ আফগানিস্তানে ইসলামের এই অগ্রগতি ও উত্থান সহ্য করতে পারছে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এসব দেশ তালেবান সরকারের সাথে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ও স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নারীদের অধিকার ও শিক্ষার বিষয়টিকে একটি হাতিয়ার বানিয়েছে।
আফগান ভূখণ্ড থেকে উদ্ভূত নিরাপত্তা হুমকির বিষয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনকে মন্ত্রী সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে বিশ্বের কোনো দেশের জন্যই কোনো হুমকি সৃষ্টি করা হবে না এবং এটি তালেবান সরকারের নীতিগত অবস্থান।
আমেরিকানদের সাথে বিশ বছরের যুদ্ধ এবং পরবর্তীতে দোহার আলোচনার কথা উল্লেখ করে মনসুর বলেন, 'যারা অতীতে আমাদের 'সন্ত্রাসী' বলত, তারা শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথেই আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য হয়েছে এবং আজ তারা তালেবানদেরই দেশের আসল সন্তান বলে মেনে নিচ্ছে।'
প্রতিবেশী পাকিস্তানের নীতি ও ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে তালেবান মন্ত্রী অভিযোগ করেন, ইসলামাবাদ সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের দাবি করলেও বাস্তবে আফগানিস্তানে স্থায়ী স্থায়িত্ব ও স্থিতিশীলতা চায় না। তার মতে, পাকিস্তান কেবল তালেবান সরকারের প্রতিই নয়, বরং আফগানিস্তানের যেকোনো বৈধ শাসনব্যবস্থার প্রতিই একটি ঐতিহাসিক বিদ্বেষ ও আক্রোশ পোষণ করে আসছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের আগস্টে তালেবান পুনরায় আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসার পর থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশ দেশই তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বারবার বলা হয়েছে যে মেয়েদের শিক্ষা ও নারীদের কাজের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সব গোষ্ঠীর অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনই তালেবানকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রধান শর্ত। অন্যদিকে, আফগান কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলোকে তাদের অভ্যন্তরীণ আইনি ও শরীয়াহ কাঠামোর অধীন বলে উল্লেখ করে আসছে।
মতামত