সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

ইসলামের ইতিহাসের বাঁক-বদল থেকে শুরু করে প্রাথমিক যুগের শিলালিপি—যেভাবে নিন্দা ও দূষণের ‘ইয়াসরিব’ রূপান্তরিত হলো বরকতময় ‘তাইবাহ’ বা আলোকিত নগরীতে।

মদিনাকে কেন ‘তাইবাহ’ বলা হয়? প্রিয় নবীর দেয়া পবিত্র নামের পিছনের ইতিহাস


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মদিনাকে কেন ‘তাইবাহ’ বলা হয়? প্রিয় নবীর দেয়া পবিত্র নামের পিছনের ইতিহাস

ইসলামী ইতিহাসে মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর হিজরতের পর মদিনা মুনাওয়ারাহ এক বিশেষ মহিমায় ভূষিত হয়। ৬২২ খ্রিস্টাব্দে হিজরতের আগে প্রাচীন এই জনপদটি 'ইয়াসরিব' নামে পরিচিত ছিল, যার শাব্দিক অর্থ ছিল 'নিন্দা' বা 'দূষণ'। বিশ্বনবী ﷺ নাম পরিবর্তন করে এই পবিত্র নগরীর নাম রাখেন 'তাইবাহ' (পবিত্র, উত্তম ও স্বাস্থ্যকর)। ইসলামের প্রারম্ভিক যুগ থেকে শুরু করে ৮ম শতাব্দীর শিলালিপি পর্যন্ত ঐতিহাসিক নানা প্রমাণের মাধ্যমে এই নামের ঐতিহ্য আজও টিকে রয়েছে।

মদিনাকে কেন ‘তাইবাহ’ বলা হয়?

ইসলামী সভ্যতার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র মদিনা মুনাওয়ারাহ বহু ঐতিহাসিক নামের অধিকারী। তবে এই নগরীর সবচেয়ে সুপরিচিত ও বরকতময় একটি নাম হলো ‘তাইবাহ’ (طيبة)। আরবি ভাষার এই শব্দটির অর্থ হলো পবিত্র, উত্তম ও স্বাস্থ্যকর।

‘ইয়াসরিব’ থেকে ‘তাইবাহ’ হওয়ার ইতিহাস

হিজরতের পূর্বে জাজিরাতুল আরবের এই শহরটির নাম ছিল 'ইয়াসরিব'। ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, শব্দটি এসেছে আরবি মূল 'থারব' (ثرب) এবং 'তাসরিব' (يثرب) থেকে, যার শাব্দিক প্রয়োগ হতো ত্রুটি, নিন্দা, ধ্বংস কিংবা অন্যায়-অবিচারের বর্ণনা দিতে।

৬২২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ মক্কা থেকে এই নগরীতে হিজরত করার পর এর পূর্ববর্তী নামের নেতিবাচক অর্থ দূর করতে নতুন নামকরণ করেন। তিনি এই শহরটির নাম রাখেন ‘তাইবাহ’। এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত আরেকটি সুন্দর নাম হলো ‘তাবাহ’ (طابة), যার অর্থও পবিত্র ও মনোরম। একটি অভিশপ্ত ও জরাজীর্ণ নামের স্থান রূপান্তর ঘটে এক আলোকোজ্জ্বল পবিত্র নগরীতে।

ঐতিহাসিক প্রমাণের স্বাক্ষর

মদিনা নগরীর এই নামকরণ কেবল মুখে মুখেই প্রচলিত ছিল না, বরং প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণাতেও এর অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। মদিনায় প্রাপ্ত অষ্টম শতাব্দীর একটি প্রাচীন শিলালিপিতে শহরটিকে স্পষ্ট অক্ষরে 'তাইবাহ' নামে উল্লেখ করা হয়েছে। যা প্রমাণ করে, বিশ্বনবী ﷺ-এর যুগ থেকেই এই নামটি নথিভুক্ত ও আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

মদিনার বিভিন্ন নাম ও তাৎপর্য

ইসলামী ইতিহাসে শহরটির অবস্থান ও মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে আরও বেশ কিছু সুপরিচিত নাম ব্যবহৃত হয়েছে:

নামঅর্থ
আল-মদিনানির্দিষ্ট নগরী বা শহর
মাদিনাত আন-নবীমহানবীর শহর
আল-মদিনা আল-মুনাওয়ারাআলোকিত শহর
দার আল-হিজরাহহিজরতের নিরাপদ ভূমি

৬২২ খ্রিস্টাব্দে রাসূলুল্লাহ ﷺ কর্তৃক নিজ হাতে নির্মিত ‘মসজিদে নববী’ আজও এই পবিত্র শহরের ঠিক কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলিম নবীর এই ভালোবাসার স্মারক ও পবিত্রতম ভূমি দর্শনে মদিনা শরিফে সমবেত হন।

বিষয় : ইতিহাস মদিনা মদিনা মুনাওয়ারাহ

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মদিনাকে কেন ‘তাইবাহ’ বলা হয়? প্রিয় নবীর দেয়া পবিত্র নামের পিছনের ইতিহাস

প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ইসলামী ইতিহাসে মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর হিজরতের পর মদিনা মুনাওয়ারাহ এক বিশেষ মহিমায় ভূষিত হয়। ৬২২ খ্রিস্টাব্দে হিজরতের আগে প্রাচীন এই জনপদটি 'ইয়াসরিব' নামে পরিচিত ছিল, যার শাব্দিক অর্থ ছিল 'নিন্দা' বা 'দূষণ'। বিশ্বনবী ﷺ নাম পরিবর্তন করে এই পবিত্র নগরীর নাম রাখেন 'তাইবাহ' (পবিত্র, উত্তম ও স্বাস্থ্যকর)। ইসলামের প্রারম্ভিক যুগ থেকে শুরু করে ৮ম শতাব্দীর শিলালিপি পর্যন্ত ঐতিহাসিক নানা প্রমাণের মাধ্যমে এই নামের ঐতিহ্য আজও টিকে রয়েছে।

মদিনাকে কেন ‘তাইবাহ’ বলা হয়?

ইসলামী সভ্যতার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র মদিনা মুনাওয়ারাহ বহু ঐতিহাসিক নামের অধিকারী। তবে এই নগরীর সবচেয়ে সুপরিচিত ও বরকতময় একটি নাম হলো ‘তাইবাহ’ (طيبة)। আরবি ভাষার এই শব্দটির অর্থ হলো পবিত্র, উত্তম ও স্বাস্থ্যকর।

‘ইয়াসরিব’ থেকে ‘তাইবাহ’ হওয়ার ইতিহাস

হিজরতের পূর্বে জাজিরাতুল আরবের এই শহরটির নাম ছিল 'ইয়াসরিব'। ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, শব্দটি এসেছে আরবি মূল 'থারব' (ثرب) এবং 'তাসরিব' (يثرب) থেকে, যার শাব্দিক প্রয়োগ হতো ত্রুটি, নিন্দা, ধ্বংস কিংবা অন্যায়-অবিচারের বর্ণনা দিতে।

৬২২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ মক্কা থেকে এই নগরীতে হিজরত করার পর এর পূর্ববর্তী নামের নেতিবাচক অর্থ দূর করতে নতুন নামকরণ করেন। তিনি এই শহরটির নাম রাখেন ‘তাইবাহ’। এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত আরেকটি সুন্দর নাম হলো ‘তাবাহ’ (طابة), যার অর্থও পবিত্র ও মনোরম। একটি অভিশপ্ত ও জরাজীর্ণ নামের স্থান রূপান্তর ঘটে এক আলোকোজ্জ্বল পবিত্র নগরীতে।

ঐতিহাসিক প্রমাণের স্বাক্ষর

মদিনা নগরীর এই নামকরণ কেবল মুখে মুখেই প্রচলিত ছিল না, বরং প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণাতেও এর অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। মদিনায় প্রাপ্ত অষ্টম শতাব্দীর একটি প্রাচীন শিলালিপিতে শহরটিকে স্পষ্ট অক্ষরে 'তাইবাহ' নামে উল্লেখ করা হয়েছে। যা প্রমাণ করে, বিশ্বনবী ﷺ-এর যুগ থেকেই এই নামটি নথিভুক্ত ও আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

মদিনার বিভিন্ন নাম ও তাৎপর্য

ইসলামী ইতিহাসে শহরটির অবস্থান ও মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে আরও বেশ কিছু সুপরিচিত নাম ব্যবহৃত হয়েছে:

নামঅর্থ
আল-মদিনানির্দিষ্ট নগরী বা শহর
মাদিনাত আন-নবীমহানবীর শহর
আল-মদিনা আল-মুনাওয়ারাআলোকিত শহর
দার আল-হিজরাহহিজরতের নিরাপদ ভূমি

৬২২ খ্রিস্টাব্দে রাসূলুল্লাহ ﷺ কর্তৃক নিজ হাতে নির্মিত ‘মসজিদে নববী’ আজও এই পবিত্র শহরের ঠিক কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলিম নবীর এই ভালোবাসার স্মারক ও পবিত্রতম ভূমি দর্শনে মদিনা শরিফে সমবেত হন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ