দখলকৃত পশ্চিমতীরের নাবলুস শহরের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ঐতিহাসিক আল-মাসউসিয়া অঞ্চলের বুর্কা গ্রামের উর্বর কৃষিজমিতে অবৈধ বসতি বিস্তার শুরু করেছে উগ্র ইসরায়েলি দখলদাররা। সোমবার মানবাধিকার সংস্থা 'আল-বায়দার' এক সতর্কবার্তায় জানায়, এই অবৈধ চারণভূমি ও কৃষিভিত্তিক কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি কৃষকদের নিজস্ব জমি ও গবাদিপশুর চারণভূমিতে প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার নীলক নকশা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংস্থাটি ফিলিস্তিনিদের জমি সুরক্ষা এবং তাদের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।
মানবাধিকার সংস্থা 'আল-বায়দার' এক বিবৃতিতে সতর্ক করে জানিয়েছে, অধিকৃত পশ্চিমতীরের নাবলুস জেলার উত্তর-পশ্চিমের বুর্কা গ্রামের অন্তর্ভুক্ত আল-মাসউসিয়া এলাকায় ফিলিস্তিনিদের কৃষি ও চারণভূমি দখল করে চরমপন্থী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা এক নতুন অবৈধ আউটপোস্ট (বসতি-বহির্ভূত ফাঁড়ি) তৈরি ও সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিগত কয়েক মাসে আল-মাসউসিয়া অঞ্চলে সসংগঠিতভাবে উগ্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চরম আকার ধারণ করেছে। মানবাধিকারের বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা ফিলিস্তিনি কৃষকদের মালিকানাধীন ফসলি জমিতে বেআইনিভাবে ঢুকে গবাদিপশু চরাচ্ছে এবং সাধারণ ফিলিস্তিনিদের যানবাহনে ক্রমাগত হামলা চালিয়েছে।
আল-বায়দার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, কৃষি ও চারণভূমি কেন্দ্রিক এই দখলদারিত্ব বিস্তার মূলত ফিলিস্তিনি কৃষক ও মূল ভূমির মালিকদের অস্তিত্বের ওপর এক 'প্রত্যক্ষ ও মারাত্মক হুমকি'। সংস্থাটি আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব সম্পত্তিতে স্বাভাবিক যাতায়াত ও সুরক্ষার মৌলিক অধিকার অবিলম্বে নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সাল থেকে পূর্ব জেরুজালেমসহ সমগ্র পশ্চিমতীর দখল করে রেখেছে ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এসব অধিকৃত ভূখণ্ডে প্রতিষ্ঠিত সকল ইসরায়েলি বসতি সম্পূর্ণ বেআইনি হলেও তা তোয়াক্কা না করে দখলদাররা প্রতিনিয়ত তাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে চলেছে। বর্তমানে অধিকৃত পশ্চিমতীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ১৫৬টি মূল বসতি এবং ৩৬০টি অবৈধ আউটপোস্টে প্রায় ৭,৫০,০০০ উগ্র ইসরায়েলি অবস্থান করছে। তারা ফিলিস্তিনিদের মাতৃভূমি থেকে জোরপূর্বক বিতাড়ন (Forced Displacement) করতে অনবরত সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
ইসরায়েলি দখলদার সেনাবাহিনী এবং সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীদের এই যৌথ সন্ত্রাসের মধ্যে রয়েছে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের হত্যা, অবৈধ গ্রেপ্তার, ঘরবাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস, মসজিদে অগ্নিসংযোগ, গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া, কৃষি জমি উপড়ে ফেলা এবং কৃষকদের নিজ জমিতে যেতে বাধা দেওয়া। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মতে, এই চলমান রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ইসরায়েল মূলত সমগ্র পশ্চিমতীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত (Annexation) করার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করছে, যা জাতিসংঘ স্বীকৃত একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথকে সম্পূর্ণ রুদ্ধ করে দেয়।
মতামত