বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ জনপদের রক্তাক্ত বাস্তবতার মাঝেই হাইফায় ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট ও ইহুদি নেতাদের সাথে কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের বার্ষিক সম্মেলন; 'মদিনা সনদ'-এর অপব্যাখ্যা ও সহাবস্থানের ফাঁকা বুলি নিয়ে প্রশ্ন বিশ্ব মুসলিমের।

অব্যাহত সামরিক আগ্রাসনের মুখে হাইফায় কাদিয়ানীর বার্ষিক সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের প্রশংসা


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অব্যাহত সামরিক আগ্রাসনের মুখে হাইফায় কাদিয়ানীর বার্ষিক সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের প্রশংসা

ফিলিস্তিনের দখলকৃত ভূমি হাইফায় কাদিয়ানী (আহমদী) সম্প্রদায়ের ২৯তম বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে তাদের 'সহাবস্থান ও সহনশীলতার প্রতীক' হিসেবে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজোগ। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রেসিডেন্ট হারজোগ, হাইফার মেয়র ইয়োনা ইয়াহাব এবং বিভিন্ন ইহুদি ও জায়নবাদী নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। সম্মেলনে ঐতিহাসিক 'মদিনা সনদ'-এর দোহাই দিয়ে ইসরায়েলি রাষ্ট্র কাঠামোয় কথিত সহাবস্থানের বার্তা প্রচার করা হয়, যাকে মূলধারার মুসলিম স্কলার ও বিশ্লেষকরা জায়নবাদী নিপীড়ন ঢাকা এবং ইসলামের মূল আকীদার সাথে বিভ্রান্তি তৈরির কৌশল বলে তীব্র সমালোচনা করছেন।

ফিলিস্তিনের দখলকৃত ভূমি হাইফার কাসবা ও কাবীর এলাকায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর কাদিয়ানী (আহমদী) সম্প্রদায়ের আহমদিয়া সেন্টারে তাদের ২৯তম বার্ষিক 'জলসা সালানা' অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সম্মেলনে প্রায় ৭০০ থেকে ১,০০০ ইহুদি ও স্থানীয় কাদিয়ানী প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজোগ কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে 'সহাবস্থান, সহনশীলতা ও শ্রদ্ধাবোধের মূর্ত প্রতীক' বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও যৌথ জীবনযাত্রার দর্শনে এই সম্প্রদায়ের ভূমিকা প্রশংসনীয়। অনুষ্ঠানে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত জেপি সিং, স্থানীয় ইহুদি ধর্মীয় নেতা, ইসরায়েলি পার্লামেন্ট (নেসেট)-এর সদস্য এবং বিভিন্ন কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে জায়নবাদী ও কাদিয়ানী নেতাদের এই মেলবন্ধন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য করা হয়েছিল মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক গঠিত ঐতিহাসিক 'মদিনা সনদ'। কাদিয়ানী আমির মুহাম্মদ শরীফ ওদে তার বক্তব্যে মদিনা সনদের দোহাই দিয়ে ইসরায়েলি রাষ্ট্রের অধীনে নাগরিকত্ব, সমান অধিকার ও ইহুদি-মুসলিম সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, কোরআনে ইহুদি ও আরবদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয়নি এবং তিনি তাওরাত ও কোরআনের বিভিন্ন আয়াত উদ্ধৃত করে সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতি ভালোবাসার বার্তা দেন।

তবে বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক ইসলামিক স্কলারগণ এই সম্মেলন এবং মদিনা সনদের ব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মুসলিম বিশ্বের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কাদিয়ানী (আহমদী) সম্প্রদায় শেষ নবীর খতমে নবুওয়াত অস্বীকার করার কারণে ইসলামি শরীয়াহ মতে মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে, একটি অমুসলিম সম্প্রদায়কে জায়নবাদী ইসরায়েল কর্তৃক 'মুসলিম সম্প্রদায়ের মডেল' হিসেবে তুলে ধরার পেছনে সুদূরপ্রসারী ভূ-রাজনৈতিক এজেন্ডা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তাছাড়া, মদিনা সনদ ছিল তৎকালীন মদিনা রাষ্ট্রে সার্বভৌম ইসলামিক নেতৃত্বের অধীনে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাজনৈতিক চুক্তি। ফিলিস্তিনজুড়ে যখন ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক আগ্রাসন, গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে, তখন মদিনা সনদের মতো পবিত্র চুক্তিকে দখলদার জায়নবাদী শাসনব্যবস্থায় বৈধতা দেওয়ার কাজে ব্যবহার করাকে প্রতারণামূলক বলে অভিহিত করা হয়েছে।

সম্মেলনের গোলটেবিল আলোচনায় ইসরায়েলি সমাজে 'নাগরিক দায়িত্ব ও সামরিক সেবা' অর্পণের বিষয়টিও ওঠে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান চরম নিপীড়ন ঢেকে রাখতে এবং মুসলিম বিশ্বের কাছে নিজেদের একটি 'উদার ও সহনশীল রাষ্ট্র' হিসেবে মিথ্যা প্রতিচ্ছবি তৈরি করতেই ইসরায়েলি নেতৃত্ব কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে দৃশ্যপটে এনে প্রচারণা চালাচ্ছে।

বিষয় : কাদিয়ানী

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


অব্যাহত সামরিক আগ্রাসনের মুখে হাইফায় কাদিয়ানীর বার্ষিক সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের প্রশংসা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ফিলিস্তিনের দখলকৃত ভূমি হাইফায় কাদিয়ানী (আহমদী) সম্প্রদায়ের ২৯তম বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে তাদের 'সহাবস্থান ও সহনশীলতার প্রতীক' হিসেবে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজোগ। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রেসিডেন্ট হারজোগ, হাইফার মেয়র ইয়োনা ইয়াহাব এবং বিভিন্ন ইহুদি ও জায়নবাদী নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। সম্মেলনে ঐতিহাসিক 'মদিনা সনদ'-এর দোহাই দিয়ে ইসরায়েলি রাষ্ট্র কাঠামোয় কথিত সহাবস্থানের বার্তা প্রচার করা হয়, যাকে মূলধারার মুসলিম স্কলার ও বিশ্লেষকরা জায়নবাদী নিপীড়ন ঢাকা এবং ইসলামের মূল আকীদার সাথে বিভ্রান্তি তৈরির কৌশল বলে তীব্র সমালোচনা করছেন।

ফিলিস্তিনের দখলকৃত ভূমি হাইফার কাসবা ও কাবীর এলাকায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর কাদিয়ানী (আহমদী) সম্প্রদায়ের আহমদিয়া সেন্টারে তাদের ২৯তম বার্ষিক 'জলসা সালানা' অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সম্মেলনে প্রায় ৭০০ থেকে ১,০০০ ইহুদি ও স্থানীয় কাদিয়ানী প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজোগ কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে 'সহাবস্থান, সহনশীলতা ও শ্রদ্ধাবোধের মূর্ত প্রতীক' বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও যৌথ জীবনযাত্রার দর্শনে এই সম্প্রদায়ের ভূমিকা প্রশংসনীয়। অনুষ্ঠানে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত জেপি সিং, স্থানীয় ইহুদি ধর্মীয় নেতা, ইসরায়েলি পার্লামেন্ট (নেসেট)-এর সদস্য এবং বিভিন্ন কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে জায়নবাদী ও কাদিয়ানী নেতাদের এই মেলবন্ধন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য করা হয়েছিল মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক গঠিত ঐতিহাসিক 'মদিনা সনদ'। কাদিয়ানী আমির মুহাম্মদ শরীফ ওদে তার বক্তব্যে মদিনা সনদের দোহাই দিয়ে ইসরায়েলি রাষ্ট্রের অধীনে নাগরিকত্ব, সমান অধিকার ও ইহুদি-মুসলিম সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, কোরআনে ইহুদি ও আরবদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয়নি এবং তিনি তাওরাত ও কোরআনের বিভিন্ন আয়াত উদ্ধৃত করে সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতি ভালোবাসার বার্তা দেন।

তবে বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক ইসলামিক স্কলারগণ এই সম্মেলন এবং মদিনা সনদের ব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মুসলিম বিশ্বের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কাদিয়ানী (আহমদী) সম্প্রদায় শেষ নবীর খতমে নবুওয়াত অস্বীকার করার কারণে ইসলামি শরীয়াহ মতে মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে, একটি অমুসলিম সম্প্রদায়কে জায়নবাদী ইসরায়েল কর্তৃক 'মুসলিম সম্প্রদায়ের মডেল' হিসেবে তুলে ধরার পেছনে সুদূরপ্রসারী ভূ-রাজনৈতিক এজেন্ডা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তাছাড়া, মদিনা সনদ ছিল তৎকালীন মদিনা রাষ্ট্রে সার্বভৌম ইসলামিক নেতৃত্বের অধীনে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাজনৈতিক চুক্তি। ফিলিস্তিনজুড়ে যখন ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক আগ্রাসন, গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে, তখন মদিনা সনদের মতো পবিত্র চুক্তিকে দখলদার জায়নবাদী শাসনব্যবস্থায় বৈধতা দেওয়ার কাজে ব্যবহার করাকে প্রতারণামূলক বলে অভিহিত করা হয়েছে।

সম্মেলনের গোলটেবিল আলোচনায় ইসরায়েলি সমাজে 'নাগরিক দায়িত্ব ও সামরিক সেবা' অর্পণের বিষয়টিও ওঠে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান চরম নিপীড়ন ঢেকে রাখতে এবং মুসলিম বিশ্বের কাছে নিজেদের একটি 'উদার ও সহনশীল রাষ্ট্র' হিসেবে মিথ্যা প্রতিচ্ছবি তৈরি করতেই ইসরায়েলি নেতৃত্ব কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে দৃশ্যপটে এনে প্রচারণা চালাচ্ছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ