ফিলিস্তিনের দখলকৃত ভূমি হাইফায় কাদিয়ানী (আহমদী) সম্প্রদায়ের ২৯তম বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে তাদের 'সহাবস্থান ও সহনশীলতার প্রতীক' হিসেবে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজোগ।
ফিলিস্তিনের দখলকৃত ভূমি হাইফার কাসবা ও কাবীর এলাকায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর কাদিয়ানী (আহমদী) সম্প্রদায়ের আহমদিয়া সেন্টারে তাদের ২৯তম বার্ষিক 'জলসা সালানা' অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজোগ কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে 'সহাবস্থান, সহনশীলতা ও শ্রদ্ধাবোধের মূর্ত প্রতীক' বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও যৌথ জীবনযাত্রার দর্শনে এই সম্প্রদায়ের ভূমিকা প্রশংসনীয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য করা হয়েছিল মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক গঠিত ঐতিহাসিক 'মদিনা সনদ'। কাদিয়ানী আমির মুহাম্মদ শরীফ ওদে তার বক্তব্যে মদিনা সনদের দোহাই দিয়ে ইসরায়েলি রাষ্ট্রের অধীনে নাগরিকত্ব, সমান অধিকার ও ইহুদি-মুসলিম সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, কোরআনে ইহুদি ও আরবদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয়নি এবং তিনি তাওরাত ও কোরআনের বিভিন্ন আয়াত উদ্ধৃত করে সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতি ভালোবাসার বার্তা দেন।
তবে বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক ইসলামিক স্কলারগণ এই সম্মেলন এবং মদিনা সনদের ব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তাছাড়া, মদিনা সনদ ছিল তৎকালীন মদিনা রাষ্ট্রে সার্বভৌম ইসলামিক নেতৃত্বের অধীনে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাজনৈতিক চুক্তি।
সম্মেলনের গোলটেবিল আলোচনায় ইসরায়েলি সমাজে 'নাগরিক দায়িত্ব ও সামরিক সেবা' অর্পণের বিষয়টিও ওঠে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান চরম নিপীড়ন ঢেকে রাখতে এবং মুসলিম বিশ্বের কাছে নিজেদের একটি 'উদার ও সহনশীল রাষ্ট্র' হিসেবে মিথ্যা প্রতিচ্ছবি তৈরি করতেই ইসরায়েলি নেতৃত্ব কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে দৃশ্যপটে এনে প্রচারণা চালাচ্ছে।
মতামত