বাংলাদেশ সচিবালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এর এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মোট ১৫,৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়নে ১০,১৮৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণে ৫,২৫২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। সভায় স্বাস্থ্য, পরিবেশ, পানি সম্পদ, বিদ্যুৎ এবং যোগাযোগ খাতের বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পকে অনুমোদন দেওয়া হয়।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবকাঠামো উন্নয়ন ও জনকল্যাণে মোট ১৫,৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ের ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত অর্থায়নের মধ্যে সরকারি খাত থেকে ১০,১৮৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, বৈদেশিক প্রকল্প ঋণ থেকে ৫,২৫২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা যোগান দেওয়া হবে। সভায় অনুমোদিত মোট ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ৮টি নতুন, ৩টি সংশোধিত এবং ২টি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প রয়েছে। সভা শেষে আগারগাঁওয়ের এনএসি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহমান সাকি অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বিবরণ তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় স্বাস্থ্য সেবা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এগুলো হলো—'ইন্টিগ্রেটেড হেলথ সিস্টেম রেসপন্স টু ফাইট এগেইনস্ট টিবি, এইচআইভি/এইডস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া ইন বাংলাদেশ’ এবং ‘পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প। এছাড়া দেশের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনয়নে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২ (এফএসএসপি-২)’ প্রকল্পও অনুমোদন পায়।
সামাজিক ন্যায়বিচার ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠান রৌফাবাদ, চট্টগ্রামে হোস্টেল ভবন সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা’ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
পরিবেশ, নদী রক্ষা এবং জলবায়ু দুর্যোগ মোকাবিলায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এগুলো হলো—‘মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (অংশ-১)’ এবং ‘মেঘনা নদীর ভাঙন হতে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষা’ প্রকল্প।
জনসেবাকে আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপের মাধ্যমে ৩টি সিটি কর্পোরেশন, ১টি পৌরসভা ও ২টি গ্রামীণ উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি স্থাপন (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। একইভাবে স্থানীয় সরকার খাতের অধীনে ‘রংপুর বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ’ এবং ‘মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (৩য় সংশোধন)’ প্রকল্প অনুমোদন পায়।
দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো প্রসারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প (১ম পর্যায়) (৩য় সংশোধন)’ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)- এর কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্পও সভার অনুমোদন লাভ করে।
জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে—'ফেনী জেলার সোনাগাজীতে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ’ এবং ‘তিনটি পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ’ প্রকল্প।
একনেক সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক ইতোমধ্যে অনুমোদন করা ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত ১৫টি ছোট প্রকল্পের বিষয়েও সভাকে অবহিত করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা ও আলীকদম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন, ঢাকা ও পূর্বাচলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন, ১০ জেলায় বিএসটিআইয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন, রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ধরলা ও কুশিয়ারা নদীর তীর প্রতিরক্ষা এবং দেশের বিভিন্ন পৌরসভায় নিরাপদ পানীয় জল সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প।
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে স্থানীয় সরকার മന്ത്രി ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মতামত