রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

ভারী বর্ষণে বিকল্প পথ ব্যবহার করায় বাধা দিল স্থানীয় পাছওয়ান সম্প্রদায়; হাঁটু পানি পেরিয়ে গোরস্থানে লাশ নিয়ে গেলেন শোকাহত স্বজনেরা।

বিহারে মুসলিমের জানাজা-দাফনের পথে বাধা: উগ্র হিন্দুত্ববাদী মানসিকতার চরম বহিঃপ্রকাশ


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

বিহারে মুসলিমের জানাজা-দাফনের পথে বাধা: উগ্র হিন্দুত্ববাদী মানসিকতার চরম বহিঃপ্রকাশ

ভারতের বিহার রাজ্যের দরভাঙ্গা জেলায় এক মুসলিম বাসিন্দার জানাজা ও দাফনের মিছিলে চরম বাধার সৃষ্টি করেছে স্থানীয় হিন্দু উগ্রপন্থী ভাবাপন্ন গোষ্ঠী। ১ অক্টোবর (২০২৬) মেকনাবেদা গ্রামে ভারী বৃষ্টির কারণে জানাজার মিছিলটি বিকল্প একটি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ‘মন্দিরের নির্ধারিত জমি’ অজুহাতে পথ আটকে দেওয়া হয়। দফায় দফায় চেষ্টা করেও কোনো সমাধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত কর্দমাক্ত পানি পেরিয়ে বাধ্য হয়ে ভিন্ন পথে মরদেহ গোরস্থানে নিয়ে দাফন করেন শোকাহত স্বজনেরা।

ভারতের বিহার রাজ্যে ধর্মীয় সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে বাধা প্রদান এবং চরম অবমাননার আরেকটি হৃদয়বিদারক ঘটনা সামনে এসেছে। রাজ্যের দরভাঙ্গা জেলার মেকনাবেদা গ্রামে সম্প্রতি এক মুসলিম বাসিন্দার ইন্তেকালের পর তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফনের জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। তবে মুষলধারে বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় জানাজার মিছিলটি গ্রামের অপর একটি পথ ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উক্ত বিকল্প পথটির পাশেই বাস করেন স্থানীয় Dalit জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত পাছওয়ান (দুসাদ) সম্প্রদায়ের লোকজন। মুসলিমদের জানাজার মিছিলটি সেই এলাকা অতিক্রম করতে গেলে তারা চরম বাধা সৃষ্টি করে। তাদের দাবি, যে পথ বা জমির ওপর দিয়ে তারা যাচ্ছেন, সেটি ভবিষ্যতে একটি হিন্দু মন্দির নির্মাণের জন্য নির্ধারিত করে রাখা হয়েছে। ফলে ওই পথ দিয়ে কোনো মুসলিমের লাশ নিয়ে যেতে দেওয়া হবে না।

শোকাকুল স্বজন ও স্থানীয় মুসলিমরা বিষয়টির সংবেদনশীলতা তুলে ধরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের বহু চেষ্টা করেন। তবে উগ্র হিন্দুত্ববাদী হিংসাত্মক ভাবধারায় প্রভাবিত হয়ে পাছওয়ান সম্প্রদায়ের সদস্যরা কোনো প্রকার নমনীয়তা দেখাননি এবং জানাজার পথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে রাখেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ফুটেজেও এই অবরুদ্ধ ও থমথমে পরিস্থিতির ছবি স্পষ্ট ফুটে উঠেছে, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

অবশেষে কোনো উপায় না দেখে এবং মরদেহের প্রতি সম্মান বজায় রাখতে স্বজনেরা গ্রামটির অন্য একটি নোংরা ও থৈ থৈ জলমগ্ন বিকল্প পথ বেছে নেন। হাঁটু পানি ও কাদা পেরিয়েই তারা মরদেহ কবরস্থানে নিয়ে যেতে এবং দাফনের কাজ সম্পন্ন করতে বাধ্য হন।

উল্লেখ্য, বিহারের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫.৩ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করে পাছওয়ান সম্প্রদায়, যারা ঐতিহাসিকভাবে চৌকিদার বা গ্রাম্য নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করত। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতে ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক আবহে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যেও ধর্মীয় মেরুকরণ ও মুসলিমবিদ্বেষের যে বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, দরভাঙ্গার ঘটনাটি তারই এক কদর্য দৃষ্টান্ত। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও মুসলিম বিশ্ব ভারতের সংখ্যালঘু নির্যাতনের এই নতুন মাত্রা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


বিহারে মুসলিমের জানাজা-দাফনের পথে বাধা: উগ্র হিন্দুত্ববাদী মানসিকতার চরম বহিঃপ্রকাশ

প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভারতের বিহার রাজ্যের দরভাঙ্গা জেলায় এক মুসলিম বাসিন্দার জানাজা ও দাফনের মিছিলে চরম বাধার সৃষ্টি করেছে স্থানীয় হিন্দু উগ্রপন্থী ভাবাপন্ন গোষ্ঠী। ১ অক্টোবর (২০২৬) মেকনাবেদা গ্রামে ভারী বৃষ্টির কারণে জানাজার মিছিলটি বিকল্প একটি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ‘মন্দিরের নির্ধারিত জমি’ অজুহাতে পথ আটকে দেওয়া হয়। দফায় দফায় চেষ্টা করেও কোনো সমাধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত কর্দমাক্ত পানি পেরিয়ে বাধ্য হয়ে ভিন্ন পথে মরদেহ গোরস্থানে নিয়ে দাফন করেন শোকাহত স্বজনেরা।

ভারতের বিহার রাজ্যে ধর্মীয় সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে বাধা প্রদান এবং চরম অবমাননার আরেকটি হৃদয়বিদারক ঘটনা সামনে এসেছে। রাজ্যের দরভাঙ্গা জেলার মেকনাবেদা গ্রামে সম্প্রতি এক মুসলিম বাসিন্দার ইন্তেকালের পর তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফনের জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। তবে মুষলধারে বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় জানাজার মিছিলটি গ্রামের অপর একটি পথ ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উক্ত বিকল্প পথটির পাশেই বাস করেন স্থানীয় Dalit জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত পাছওয়ান (দুসাদ) সম্প্রদায়ের লোকজন। মুসলিমদের জানাজার মিছিলটি সেই এলাকা অতিক্রম করতে গেলে তারা চরম বাধা সৃষ্টি করে। তাদের দাবি, যে পথ বা জমির ওপর দিয়ে তারা যাচ্ছেন, সেটি ভবিষ্যতে একটি হিন্দু মন্দির নির্মাণের জন্য নির্ধারিত করে রাখা হয়েছে। ফলে ওই পথ দিয়ে কোনো মুসলিমের লাশ নিয়ে যেতে দেওয়া হবে না।

শোকাকুল স্বজন ও স্থানীয় মুসলিমরা বিষয়টির সংবেদনশীলতা তুলে ধরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের বহু চেষ্টা করেন। তবে উগ্র হিন্দুত্ববাদী হিংসাত্মক ভাবধারায় প্রভাবিত হয়ে পাছওয়ান সম্প্রদায়ের সদস্যরা কোনো প্রকার নমনীয়তা দেখাননি এবং জানাজার পথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে রাখেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ফুটেজেও এই অবরুদ্ধ ও থমথমে পরিস্থিতির ছবি স্পষ্ট ফুটে উঠেছে, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

অবশেষে কোনো উপায় না দেখে এবং মরদেহের প্রতি সম্মান বজায় রাখতে স্বজনেরা গ্রামটির অন্য একটি নোংরা ও থৈ থৈ জলমগ্ন বিকল্প পথ বেছে নেন। হাঁটু পানি ও কাদা পেরিয়েই তারা মরদেহ কবরস্থানে নিয়ে যেতে এবং দাফনের কাজ সম্পন্ন করতে বাধ্য হন।

উল্লেখ্য, বিহারের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫.৩ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করে পাছওয়ান সম্প্রদায়, যারা ঐতিহাসিকভাবে চৌকিদার বা গ্রাম্য নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করত। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতে ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক আবহে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যেও ধর্মীয় মেরুকরণ ও মুসলিমবিদ্বেষের যে বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, দরভাঙ্গার ঘটনাটি তারই এক কদর্য দৃষ্টান্ত। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও মুসলিম বিশ্ব ভারতের সংখ্যালঘু নির্যাতনের এই নতুন মাত্রা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ