মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

রঙ্গারেড্ডি জেলায় মসজিদের ঠিক সামনে ১০ দিনব্যাপী 'শাখা সপ্তাহাম'-এর সমাপনী অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএস। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় পুলিশের দায়সারা বক্তব্যে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

ভারতে মসজিদের সামনে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের উসকানিমূলক মহড়া, পুলিশের অস্বীকৃতি


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

ভারতে মসজিদের সামনে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের উসকানিমূলক মহড়া, পুলিশের অস্বীকৃতি

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের রঙ্গারেড্ডি জেলার নেদুনুরু গ্রামে একটি স্থানীয় মসজিদের ঠিক বাইরে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) মহড়া ও কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে চরম উদ্বেগ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর উপাসনাস্থলের নিরাপত্তা এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ভিডিও প্রমাণের পরও স্থানীয় কান্দুকুর পুলিশ ঘটনাটি আরএসএসের কোনো কর্মসূচি নয় বলে দাবি করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

ভারতে মুসলিম উপাসনাস্থল এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর ক্রমবর্ধমান হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসনের আরেকটি স্পষ্ট উদাহরণ সামনে এসেছে তেলেঙ্গানা রাজ্যে। রঙ্গারেড্ডি জেলার নেদুনুরু গ্রামের একটি মসজিদের ঠিক প্রধান ফটকের সামনে ১০ দিনব্যাপী ‘শাখা সপ্তাহাম’ প্রোগ্রামের সমাপনী আয়োজন করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, উগ্রপন্থী কর্মীরা মসজিদের একদম বাইরে সমবেত হয়ে 'ভারত মাতা পূজা'সহ বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। ৪ অক্টোবর রোববার স্থানীয় আরএসএস সমর্থক এস এস রেড্ডি তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এই সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করলে বিষয়টি সর্বসমক্ষে আসে। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, শত শত উগ্রপন্থী কর্মী মসজিদের গায়ে গা ঘেঁষে তাদের দলীয় মহড়া ও আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করছে।

ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী ও মানবাধিকার কর্মীরা স্থানীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলেছেন, একটি স্পর্শকাতর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সামনে এ ধরনের রাজনৈতিক ও উসকানিমূলক সমাবেশের অনুমতি প্রশাসন কীভাবে দিল? যেখানে সামান্য উসকানিতেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির ইতিহাস রয়েছে, সেখানে প্রশাসন কেন আগে থেকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়নি?

অন্যদিকে, ঘটনাটি সামনে আসার পর স্থানীয় কান্দুকুর পুলিশ ‘স্বতঃপ্রণোদিত’ মামলা দায়েরের কথা বললেও তাদের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম বিতর্ক। গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে এক পুলিশ কর্মকর্তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে দাবি করেন যে, এটি আরএসএসের কোনো ইভেন্ট ছিল না—যদিও ছড়িয়ে পড়া ছবি, ক্যাপশন ও ভিডিওতে আরএসএসের ব্যানার ও পতাকা স্পষ্ট দেখা গেছে।

পরিস্থিতি ধামাচাপা দিতে পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করেন, এলাকাটি বর্তমানে ‘শান্তিপূর্ণ’ রয়েছে এবং তারা পোস্টকারী এস এস রেড্ডিকে উক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টটি মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে কেন মসজিদের সামনে এমন মহড়ার অনুমতি দেওয়া হলো বা এর পেছনে রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সে বিষয়ে কোনো জবাব দিতে পুলিশ অস্বীকৃতি জানায়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভারতের তেলেঙ্গানা ও হায়দরাবাদ অঞ্চলে মুসলিমবিদ্বেষী তৎপরতা ও দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নানামুখী কৃত্রিম উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা চালচ্ছে হিন্দুত্ববাদী দলগুলো। এ অবস্থায় পুলিশ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় না রাখা এবং অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা স্থানীয় মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে আরও বেশি নিরাপত্তাহীনতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


ভারতে মসজিদের সামনে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের উসকানিমূলক মহড়া, পুলিশের অস্বীকৃতি

প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের রঙ্গারেড্ডি জেলার নেদুনুরু গ্রামে একটি স্থানীয় মসজিদের ঠিক বাইরে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) মহড়া ও কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে চরম উদ্বেগ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর উপাসনাস্থলের নিরাপত্তা এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ভিডিও প্রমাণের পরও স্থানীয় কান্দুকুর পুলিশ ঘটনাটি আরএসএসের কোনো কর্মসূচি নয় বলে দাবি করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

ভারতে মুসলিম উপাসনাস্থল এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর ক্রমবর্ধমান হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসনের আরেকটি স্পষ্ট উদাহরণ সামনে এসেছে তেলেঙ্গানা রাজ্যে। রঙ্গারেড্ডি জেলার নেদুনুরু গ্রামের একটি মসজিদের ঠিক প্রধান ফটকের সামনে ১০ দিনব্যাপী ‘শাখা সপ্তাহাম’ প্রোগ্রামের সমাপনী আয়োজন করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, উগ্রপন্থী কর্মীরা মসজিদের একদম বাইরে সমবেত হয়ে 'ভারত মাতা পূজা'সহ বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। ৪ অক্টোবর রোববার স্থানীয় আরএসএস সমর্থক এস এস রেড্ডি তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এই সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করলে বিষয়টি সর্বসমক্ষে আসে। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, শত শত উগ্রপন্থী কর্মী মসজিদের গায়ে গা ঘেঁষে তাদের দলীয় মহড়া ও আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করছে।

ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী ও মানবাধিকার কর্মীরা স্থানীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলেছেন, একটি স্পর্শকাতর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সামনে এ ধরনের রাজনৈতিক ও উসকানিমূলক সমাবেশের অনুমতি প্রশাসন কীভাবে দিল? যেখানে সামান্য উসকানিতেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির ইতিহাস রয়েছে, সেখানে প্রশাসন কেন আগে থেকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়নি?

অন্যদিকে, ঘটনাটি সামনে আসার পর স্থানীয় কান্দুকুর পুলিশ ‘স্বতঃপ্রণোদিত’ মামলা দায়েরের কথা বললেও তাদের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম বিতর্ক। গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে এক পুলিশ কর্মকর্তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে দাবি করেন যে, এটি আরএসএসের কোনো ইভেন্ট ছিল না—যদিও ছড়িয়ে পড়া ছবি, ক্যাপশন ও ভিডিওতে আরএসএসের ব্যানার ও পতাকা স্পষ্ট দেখা গেছে।

পরিস্থিতি ধামাচাপা দিতে পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করেন, এলাকাটি বর্তমানে ‘শান্তিপূর্ণ’ রয়েছে এবং তারা পোস্টকারী এস এস রেড্ডিকে উক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টটি মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে কেন মসজিদের সামনে এমন মহড়ার অনুমতি দেওয়া হলো বা এর পেছনে রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সে বিষয়ে কোনো জবাব দিতে পুলিশ অস্বীকৃতি জানায়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভারতের তেলেঙ্গানা ও হায়দরাবাদ অঞ্চলে মুসলিমবিদ্বেষী তৎপরতা ও দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নানামুখী কৃত্রিম উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা চালচ্ছে হিন্দুত্ববাদী দলগুলো। এ অবস্থায় পুলিশ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় না রাখা এবং অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা স্থানীয় মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে আরও বেশি নিরাপত্তাহীনতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ