শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

ভোটার তালিকা থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার মামলায় পুলিশি পদক্ষেপ থেকে সাময়িক রেহাই পেলেন বিজেপি নেতা রবি পাতিল।

১৯৮ মুসলিম ভোটারের নাম কাটার চেষ্টার অভিযোগে বিজেপি নেতাকে সুরক্ষা দিয়েছে কর্ণাটক হাইকোর্ট


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

১৯৮ মুসলিম ভোটারের নাম কাটার চেষ্টার অভিযোগে বিজেপি নেতাকে সুরক্ষা দিয়েছে কর্ণাটক হাইকোর্ট

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার হরণের এক আশঙ্কাজনক অপচেষ্টার খবর সামনে এসেছে। রাজ্যের বেলাগাভি জেলায় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার (SIR) সুবিধা নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ১৯৮ জন মুসলিম ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) স্থানীয় নেতা রবি পাতিল ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। তবে এই সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার ও পুলিশি হয়রানি এড়াতে কর্ণাটক হাইকোর্টের ধারওয়াদ বেঞ্চ থেকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা লাভ করেছেন অভিযুক্ত বিজেপি নেতা রবি পাতিল এবং তার দুই সহযোগী শঙ্কর বিরপ্পা নায়েক ও প্রশান্ত মুন্দিমানি।

বিচারপতি ভেঙ্কটেশ নায়েক টি-এর একক বেঞ্চ এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ প্রদান করেন। অভিযুক্তরা বেলাগাভির মার্কেট পুলিশ স্টেশনে দায়ের করা এফআইআর বাতিল করার জন্য হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন। শুনশানি শেষে আদালত কর্ণাটক সরকার এবং অভিযোগকারী কংগ্রেস কর্মী মীরসাব সানাদিকে নোটিশ জারি করেছে এবং রাজ্য সরকারকে সর্বশেষ তদন্ত প্রতিবেদন ও তাদের লিখিত আপত্তি দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, পরবর্তী শুনানির দিন পর্যন্ত পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে না। বিষয়টি আগামী ১৩ অক্টোবরের শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

মুসলিম ভোটারদের নিশানা ও জালিয়াতির অভিযোগ

এফআইআরের বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, অভিযুক্ত বিজেপি নেতারা আরও ২০ থেকে ২৫ জনের সাথে ষড়যন্ত্র করে বেছে বেছে স্থানীয় মুসলিম ভোটারদের লক্ষ্যবস্তু বানায়। তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রায় ১৯৮টি 'ফর্ম ৭' (যেটি ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটার জন্য ব্যবহৃত হয়) জমা দেয়। অভিযোগকারী মীরসাব সানাদি দাবি করেন, যেসব মুসলিম ভোটারের নাম কাটার আবেদন করা হয়েছিল, তারা প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ নিবন্ধিত ঠিকানায় বসবাস করছেন। মূল উদ্দেশ্য ছিল অন্যায়ভাবে এবং জালিয়াতির মাধ্যমে তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলা, যাতে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা যায়।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ২০২৩-এর ৩১৮(৪), ৩৩৬(৩), ৩৩৬(৪), ৩৫৩ এবং ৬১(২) সহ প্রতারণা, জালিয়াতি ও ষড়যন্ত্রের বিভিন্ন ধারায় মামলা নথিভুক্ত করে।

বিজেপি নেতাদের যুক্তি

আদালতে আবেদনকারী বিজেপি নেতাদের পক্ষের আইনজীবী প্রবীণ অ্যাডভোকেট এম আরুণা শ্যাম যুক্তি দেন যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় আপত্তি জমা দেওয়া কোনো অপরাধমূলক কাজ হতে পারে না। তারা ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধিমালার দোহাই দেন। তবে আদালত মূল বিষয়ের ওপর কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিয়ে রাজ্য সরকারের জবাব তলব করেছে। এর আগে গত ৩ অক্টোবর একটি স্থানীয় নিম্ন আদালত পাতিলকে জামিন দিয়েছিল এই বলে যে, ফর্ম ৭ জমা দিলেই নাম কাটা যায় না, কর্তৃপক্ষের নিজস্ব যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া থাকে।

মুসলিম সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার ও নাগরিক অধিকার হরণের যে উগ্র উগ্র হিন্দুত্ববাদী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে মুসলিম নাম বাদ দেওয়ার এই অপচেষ্টা তারই অংশ হিসেবে দেখছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


১৯৮ মুসলিম ভোটারের নাম কাটার চেষ্টার অভিযোগে বিজেপি নেতাকে সুরক্ষা দিয়েছে কর্ণাটক হাইকোর্ট

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার হরণের এক আশঙ্কাজনক অপচেষ্টার খবর সামনে এসেছে। রাজ্যের বেলাগাভি জেলায় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার (SIR) সুবিধা নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ১৯৮ জন মুসলিম ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) স্থানীয় নেতা রবি পাতিল ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। তবে এই সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার ও পুলিশি হয়রানি এড়াতে কর্ণাটক হাইকোর্টের ধারওয়াদ বেঞ্চ থেকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা লাভ করেছেন অভিযুক্ত বিজেপি নেতা রবি পাতিল এবং তার দুই সহযোগী শঙ্কর বিরপ্পা নায়েক ও প্রশান্ত মুন্দিমানি।

বিচারপতি ভেঙ্কটেশ নায়েক টি-এর একক বেঞ্চ এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ প্রদান করেন। অভিযুক্তরা বেলাগাভির মার্কেট পুলিশ স্টেশনে দায়ের করা এফআইআর বাতিল করার জন্য হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন। শুনশানি শেষে আদালত কর্ণাটক সরকার এবং অভিযোগকারী কংগ্রেস কর্মী মীরসাব সানাদিকে নোটিশ জারি করেছে এবং রাজ্য সরকারকে সর্বশেষ তদন্ত প্রতিবেদন ও তাদের লিখিত আপত্তি দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, পরবর্তী শুনানির দিন পর্যন্ত পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে না। বিষয়টি আগামী ১৩ অক্টোবরের শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

মুসলিম ভোটারদের নিশানা ও জালিয়াতির অভিযোগ

এফআইআরের বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, অভিযুক্ত বিজেপি নেতারা আরও ২০ থেকে ২৫ জনের সাথে ষড়যন্ত্র করে বেছে বেছে স্থানীয় মুসলিম ভোটারদের লক্ষ্যবস্তু বানায়। তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রায় ১৯৮টি 'ফর্ম ৭' (যেটি ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটার জন্য ব্যবহৃত হয়) জমা দেয়। অভিযোগকারী মীরসাব সানাদি দাবি করেন, যেসব মুসলিম ভোটারের নাম কাটার আবেদন করা হয়েছিল, তারা প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ নিবন্ধিত ঠিকানায় বসবাস করছেন। মূল উদ্দেশ্য ছিল অন্যায়ভাবে এবং জালিয়াতির মাধ্যমে তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলা, যাতে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা যায়।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ২০২৩-এর ৩১৮(৪), ৩৩৬(৩), ৩৩৬(৪), ৩৫৩ এবং ৬১(২) সহ প্রতারণা, জালিয়াতি ও ষড়যন্ত্রের বিভিন্ন ধারায় মামলা নথিভুক্ত করে।

বিজেপি নেতাদের যুক্তি

আদালতে আবেদনকারী বিজেপি নেতাদের পক্ষের আইনজীবী প্রবীণ অ্যাডভোকেট এম আরুণা শ্যাম যুক্তি দেন যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় আপত্তি জমা দেওয়া কোনো অপরাধমূলক কাজ হতে পারে না। তারা ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধিমালার দোহাই দেন। তবে আদালত মূল বিষয়ের ওপর কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিয়ে রাজ্য সরকারের জবাব তলব করেছে। এর আগে গত ৩ অক্টোবর একটি স্থানীয় নিম্ন আদালত পাতিলকে জামিন দিয়েছিল এই বলে যে, ফর্ম ৭ জমা দিলেই নাম কাটা যায় না, কর্তৃপক্ষের নিজস্ব যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া থাকে।

মুসলিম সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার ও নাগরিক অধিকার হরণের যে উগ্র উগ্র হিন্দুত্ববাদী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে মুসলিম নাম বাদ দেওয়ার এই অপচেষ্টা তারই অংশ হিসেবে দেখছেন মানবাধিকার কর্মীরা।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ