তুরস্কের আয়াসোফিয়া মসজিদের সাবেক ইমাম অধ্যাপক মেহমেত বয়ুনুকালিন বলেছেন, তিনি প্রজাতন্ত্রের পক্ষে, তবে ধর্মনিরপেক্ষতার বিপক্ষে। তাঁর দাবি, ১৯২৩ সালের ২৯ অক্টোবর তুরস্ক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সময় দেশটি ইসলাম ও খিলাফতভিত্তিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং জনগণও তাতে সম্মত ছিল।
২৯ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে বয়ুনুকালিন বলেন,
“প্রজাতন্ত্রের পক্ষে, ধর্মনিরপেক্ষতার বিপক্ষে।
১৯২৩ সালের ২৯ অক্টোবর তুরস্ক প্রজাতন্ত্র একটি ইসলামি ও খিলাফতভিত্তিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। জনগণ এতে সম্মত ছিল।
পরবর্তী সময়ে ১৯২৪ সালে খিলাফত এবং ১৯২৬ সালে ইসলামি আইন সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করা হয়। পরবর্তীকালে নেওয়া এসব সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নিই না।”
তাঁর বক্তব্যে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও আইনব্যবস্থায় বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে সংঘটিত পরিবর্তনগুলো নিয়ে আপত্তি উঠে এসেছে। বিশেষ করে খিলাফত বিলুপ্তি এবং ইসলামি আইনব্যবস্থার পরিবর্তনকে তিনি জনগণের সম্মতির বাইরে নেওয়া সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরেছেন।
তুরস্কের জাতীয় সংসদের ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯২৩ সালের ২৯ অক্টোবর দেশটিতে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয়। ওই দিন ১৯২১ সালের সংবিধানে সংশোধনী এনে রাষ্ট্রের ধর্ম ইসলাম বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ১৯২৪ সালের ৩ মার্চ খিলাফত বিলুপ্ত করা হয়। একই বছরের ২০ এপ্রিল নতুন সংবিধান গৃহীত হয়, যার প্রাথমিক সংস্করণেও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হিসেবে উল্লেখ ছিল।
পরবর্তী সময়ে ১৯২৮ সালের ১০ এপ্রিল সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম-সংخت্রান্ত বিধানটি বাদ দেওয়া হয়। ১৯২৬ সালে সুইস আইনের আদলে তুরস্কের নতুন দেওয়ানি আইন প্রণীত হয়। ১৯৩৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে যুক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯২৩ সালে তুরস্ককে ‘ইসলাম ও খিলাফতভিত্তিক প্রজাতন্ত্র’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বয়ুনুকালিনের ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা। অন্যদিকে, ১৯২৬ সালে ইসলামি আইন সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হওয়ার বক্তব্যটিও একটি বিস্তৃত দাবি। ওই বছর মূলত নতুন দেওয়ানি আইন কার্যকর করা হয়েছিল, যা পারিবারিক ও নাগরিক আইনের ক্ষেত্রে আগের ইসলামি আইনভিত্তিক বিধানের পরিবর্তন আনে।
মতামত