শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

খাঁটি নিয়ত ও আল্লাহর কাছে প্রতিদানের আশাই বান্দার জীবনের সাধারণ কাজগুলোকে মহান ইবাদতে রূপান্তর করে এবং বিপদে ধৈর্যই আনয়ন করে পরকালের সর্বোচ্চ পুরস্কার।

নিয়তের ইখলাস ও সাওয়াবের আশায় দৈনন্দিন জীবনকে ইবাদতে পরিণত করার আহ্বান


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

নিয়তের ইখলাস ও সাওয়াবের আশায় দৈনন্দিন জীবনকে ইবাদতে পরিণত করার আহ্বান

মক্কা মুকাররমার মসজিদুল হারামে অনুষ্ঠিত জুমার খুতবায় বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে তাকওয়া অবলম্বন, কথা ও কাজে নিয়তের ইখলাস (একনিষ্ঠতা) এবং জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর কাছে সাওয়াব ও প্রতিদানের আশা (এহতসাব) বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. মাহের বিন হামাদ আল-মুআইকিলি। শুক্রবার (২৬ জুমাদাল উলা / ০৬ নভেম্বর) প্রদত্ত খুতবায় তিনি বলেন, সৎ নিয়ত হলো নেকি বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম, যা পার্থিব সাধারণ অভ্যাস ও কাজকেও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের ইবাদতে পরিণত করে।

পবিত্র মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. মাহের বিন হামাদ আল-মুআইকিলি বলেছেন, বান্দার প্রতি মহান আল্লাহর অপরিসীম রহমত যে, তিনি সওয়াব অর্জনের অগণিত দরজা খোলা রেখেছেন এবং কল্যাণের পথকে সহজ করে দিয়েছেন। খুতবায় তিনি নিয়তের গুরুত্ব তুলে ধরে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিখ্যাত হাদিস উদ্ধৃত করেন— 'সমস্ত কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিদান পাবে।'

খতিব ব্যাখ্যা করেন, একজন মুসলিম তার আন্তরিক ও খাঁটি নিয়তের কারণে একটি মাত্র আমলের মাধ্যমেই বহুগুণ সওয়াব অর্জন করতে পারে। একনিষ্ঠতার (ইখলাস) দরুন সামান্য আমলও মহান আল্লাহর দরবারে বিশাল হয়ে দাঁড়ায়। পক্ষান্তরে, নিয়তের অসচ্ছতা বা লোকদেখানো ভাব থাকলে বড় বড় আমল থেকেও বান্দা সওয়াব বঞ্চিত হতে পারে। তিনি বুখারি শরিফের হাদিস উল্লেখ করে বলেন, অসুস্থতা বা সফরের কারণে কোনো বান্দা যদি তার নিয়মিত ভালো কাজ করতে না পারে, তাহলেও আল্লাহ তাআলা তাকে সুস্থ ও মুকিম অবস্থায় আমল করার মতো পূর্ণ সওয়াব দান করেন।

ইবাদতের ব্যাপকতা ও সাওয়াব কামনার অনুভূতি

শায়খ আল-মুআইকিলি স্পষ্ট করেন যে, জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর কাছে প্রতিদানের আশা করাই মানুষের সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য অর্জন নিশ্চিত করে, যা মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে বর্ণিত হয়েছে— 'আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।' (সূরা আজ-জারিয়াত: ৫৬)। তিনি বলেন, ইবাদত কেবল নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতের মতো বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং একজন মুসলিমের সমগ্র জীবনই ইবাদতে পরিণত হতে পারে যদি তার প্রতিটি কথা ও কাজের উদ্দেশ্য হয় একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবিগণ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাওয়াবের আশা করার এই মহান মর্যাদার কথা গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। তাঁরা তাঁদের ইবাদত, কাজকর্ম এবং জীবনের সাধারণ বিষয়গুলোতেও সওয়াবের নিয়ত রাখতেন। এমনকি একজন মুসলিম তার ঘুম, বিশ্রাম ও দৈনন্দিন অভ্যাসগুলোকেও আল্লাহর আনুগত্য ও ইবাদতের শক্তি অর্জনের নিয়তে সম্পাদন করলে তা ইবাদতে রূপ নেয়।

ইনসাফ, ত্যাগ ও পরিবারের পেছনে ব্যয়

খুতবায় চরম অভাবের সময়ও অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার (ঈসার) গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়। আনসারী সাহাবির দৃষ্টান্ত তুলে ধরে খতিব বলেন, যিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মেহমানকে নিজের পরিবারের তীব্র ক্ষুধা সত্ত্বেও নিজের খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করেছিলেন। তাঁদের এই নিষ্ঠা ও ত্যাগে সন্তুষ্ট হয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা প্রশংসা করেছিলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, সাওয়াব কামনার সুযোগ কেবল দান-সদকাতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং নিজের পরিবারের পেছনে খরচ করা, সৎ জীবনযাপন, উত্তম আচরণ, মিষ্টি কথা এবং পরিবারের কল্যাণে চেষ্টা করাও এর অন্তর্ভুক্ত। হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন— 'কোনো ব্যক্তি যখন সওয়াবের আশায় তার পরিবারের পেছনে খরচ করে, তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়।'

তিনি সতর্ক করে বলেন, সৎ কাজে লোকদেখানো সুনাম বা মানুষের প্রশংসার আশা করা একটি বড় বঞ্চিত হওয়া। যারা মানুষের প্রশংসার আশায় কাজ করে, তারা প্রকৃত সওয়াব থেকে বঞ্চিত হয় এবং মানুষের কৃতঘ্নতায় তাদের সৎ কাজের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়ে যায়। খতিব সবাইকে নিয়ত নবায়ন করার আহ্বান জানান।

বিপদ-আপদে ধৈর্য ও পরকালের চিরস্থায়ী নিয়ামত

খুতবার দ্বিতীয় অংশে শায়খ আল-মুআইকিলি দুঃখ-কষ্ট ও বিপদে ধৈর্য ধারণ এবং আল্লাহর কাছে সওয়াব কামনার ফজিলত আলোচনা করেন। হাদিসে কুদসির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, পরম প্রিয় কাউকে হারানোর পর যে মুমিন ধৈর্য ধরে ও সওয়াবের আশা করে, তার জন্য আল্লাহর কাছে জান্নাত ছাড়া আর কোনো প্রতিদান নেই। এছাড়া জীবনের ক্লান্তি, অসুস্থতা, দুশ্চিন্তা এমনকি একটি কাটার আঘাতও মুমিনের গুনাহ মাফের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায় যদি সে ধৈর্য ধরে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, পৃথিবীর ক্ষণস্থায়ী ভোগবিলাসের তুলনায় পরকালের চিরস্থায়ী নিয়ামত অফুরন্ত ও সর্বোত্তম। দুনিয়া যত দীর্ঘই হোক তা শেষ হবেই, কিন্তু পরকালের জান্নাত ও আল্লাহর সন্তুষ্টিই হলো চূড়ান্ত ও মহা সাফল্য।

খুতবার শেষভাগে শায়খ আল-মুআইকিলি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর হেদায়েত, মাগফিরাত ও নিরাপত্তা কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন।

বিষয় : সৌদি আরব মক্কা খুতবা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


নিয়তের ইখলাস ও সাওয়াবের আশায় দৈনন্দিন জীবনকে ইবাদতে পরিণত করার আহ্বান

প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

মক্কা মুকাররমার মসজিদুল হারামে অনুষ্ঠিত জুমার খুতবায় বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে তাকওয়া অবলম্বন, কথা ও কাজে নিয়তের ইখলাস (একনিষ্ঠতা) এবং জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর কাছে সাওয়াব ও প্রতিদানের আশা (এহতসাব) বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. মাহের বিন হামাদ আল-মুআইকিলি। শুক্রবার (২৬ জুমাদাল উলা / ০৬ নভেম্বর) প্রদত্ত খুতবায় তিনি বলেন, সৎ নিয়ত হলো নেকি বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম, যা পার্থিব সাধারণ অভ্যাস ও কাজকেও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের ইবাদতে পরিণত করে।

পবিত্র মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. মাহের বিন হামাদ আল-মুআইকিলি বলেছেন, বান্দার প্রতি মহান আল্লাহর অপরিসীম রহমত যে, তিনি সওয়াব অর্জনের অগণিত দরজা খোলা রেখেছেন এবং কল্যাণের পথকে সহজ করে দিয়েছেন। খুতবায় তিনি নিয়তের গুরুত্ব তুলে ধরে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিখ্যাত হাদিস উদ্ধৃত করেন— 'সমস্ত কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিদান পাবে।'

খতিব ব্যাখ্যা করেন, একজন মুসলিম তার আন্তরিক ও খাঁটি নিয়তের কারণে একটি মাত্র আমলের মাধ্যমেই বহুগুণ সওয়াব অর্জন করতে পারে। একনিষ্ঠতার (ইখলাস) দরুন সামান্য আমলও মহান আল্লাহর দরবারে বিশাল হয়ে দাঁড়ায়। পক্ষান্তরে, নিয়তের অসচ্ছতা বা লোকদেখানো ভাব থাকলে বড় বড় আমল থেকেও বান্দা সওয়াব বঞ্চিত হতে পারে। তিনি বুখারি শরিফের হাদিস উল্লেখ করে বলেন, অসুস্থতা বা সফরের কারণে কোনো বান্দা যদি তার নিয়মিত ভালো কাজ করতে না পারে, তাহলেও আল্লাহ তাআলা তাকে সুস্থ ও মুকিম অবস্থায় আমল করার মতো পূর্ণ সওয়াব দান করেন।

ইবাদতের ব্যাপকতা ও সাওয়াব কামনার অনুভূতি

শায়খ আল-মুআইকিলি স্পষ্ট করেন যে, জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর কাছে প্রতিদানের আশা করাই মানুষের সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য অর্জন নিশ্চিত করে, যা মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে বর্ণিত হয়েছে— 'আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।' (সূরা আজ-জারিয়াত: ৫৬)। তিনি বলেন, ইবাদত কেবল নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতের মতো বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং একজন মুসলিমের সমগ্র জীবনই ইবাদতে পরিণত হতে পারে যদি তার প্রতিটি কথা ও কাজের উদ্দেশ্য হয় একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবিগণ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাওয়াবের আশা করার এই মহান মর্যাদার কথা গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। তাঁরা তাঁদের ইবাদত, কাজকর্ম এবং জীবনের সাধারণ বিষয়গুলোতেও সওয়াবের নিয়ত রাখতেন। এমনকি একজন মুসলিম তার ঘুম, বিশ্রাম ও দৈনন্দিন অভ্যাসগুলোকেও আল্লাহর আনুগত্য ও ইবাদতের শক্তি অর্জনের নিয়তে সম্পাদন করলে তা ইবাদতে রূপ নেয়।

ইনসাফ, ত্যাগ ও পরিবারের পেছনে ব্যয়

খুতবায় চরম অভাবের সময়ও অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার (ঈসার) গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়। আনসারী সাহাবির দৃষ্টান্ত তুলে ধরে খতিব বলেন, যিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মেহমানকে নিজের পরিবারের তীব্র ক্ষুধা সত্ত্বেও নিজের খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করেছিলেন। তাঁদের এই নিষ্ঠা ও ত্যাগে সন্তুষ্ট হয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা প্রশংসা করেছিলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, সাওয়াব কামনার সুযোগ কেবল দান-সদকাতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং নিজের পরিবারের পেছনে খরচ করা, সৎ জীবনযাপন, উত্তম আচরণ, মিষ্টি কথা এবং পরিবারের কল্যাণে চেষ্টা করাও এর অন্তর্ভুক্ত। হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন— 'কোনো ব্যক্তি যখন সওয়াবের আশায় তার পরিবারের পেছনে খরচ করে, তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়।'

তিনি সতর্ক করে বলেন, সৎ কাজে লোকদেখানো সুনাম বা মানুষের প্রশংসার আশা করা একটি বড় বঞ্চিত হওয়া। যারা মানুষের প্রশংসার আশায় কাজ করে, তারা প্রকৃত সওয়াব থেকে বঞ্চিত হয় এবং মানুষের কৃতঘ্নতায় তাদের সৎ কাজের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়ে যায়। খতিব সবাইকে নিয়ত নবায়ন করার আহ্বান জানান।

বিপদ-আপদে ধৈর্য ও পরকালের চিরস্থায়ী নিয়ামত

খুতবার দ্বিতীয় অংশে শায়খ আল-মুআইকিলি দুঃখ-কষ্ট ও বিপদে ধৈর্য ধারণ এবং আল্লাহর কাছে সওয়াব কামনার ফজিলত আলোচনা করেন। হাদিসে কুদসির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, পরম প্রিয় কাউকে হারানোর পর যে মুমিন ধৈর্য ধরে ও সওয়াবের আশা করে, তার জন্য আল্লাহর কাছে জান্নাত ছাড়া আর কোনো প্রতিদান নেই। এছাড়া জীবনের ক্লান্তি, অসুস্থতা, দুশ্চিন্তা এমনকি একটি কাটার আঘাতও মুমিনের গুনাহ মাফের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায় যদি সে ধৈর্য ধরে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, পৃথিবীর ক্ষণস্থায়ী ভোগবিলাসের তুলনায় পরকালের চিরস্থায়ী নিয়ামত অফুরন্ত ও সর্বোত্তম। দুনিয়া যত দীর্ঘই হোক তা শেষ হবেই, কিন্তু পরকালের জান্নাত ও আল্লাহর সন্তুষ্টিই হলো চূড়ান্ত ও মহা সাফল্য।

খুতবার শেষভাগে শায়খ আল-মুআইকিলি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর হেদায়েত, মাগফিরাত ও নিরাপত্তা কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ